‘চলো শোনা যাক! করো চিৎকার। তাই করল ডেবরা, কিন্তু প্রতিবেশীদের কোন নিদ্রাই ভঙ্গ হলো না তাতে।
অন্যদিকে ৩৫০ দেখে যারপরনাই খুশি হলো জো। চারজনে মিলে ট্রায়াল দিতে চলে গেছে। ডেড সীর তীরে অবস্থিত জুদায়ার বন্য অঞ্চলের আঁকাবাঁকা রাস্তায়। গাড়ির সহ্য ক্ষমতা আর ড্রাইভার হিসেবে ডেভিডের দক্ষতার পরীক্ষা হয়ে গেল। প্রতিটি বাকের মুখে উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠল সকলে। এমনকি নিজের প্রাথমিক বিরোধিতা মনোভাব কাটিয়ে ডেবরা স্বীকার করতে বাধ্য হলো যে গাড়িটা সত্যিই সুন্দর–তারপরেও অধোপতনোম্মুখ।
ইন জেদির মরূদ্যানের ঠাণ্ডা সুবজ পানিতে সাঁতার কাটলো সবাই। এরপর সমুদ্রের ঘন লবণাক্ত পানিতে চলে গেল। সবাই মিলে এর আগে বানালো পাথরের গভীর পুল।
নিজের ক্যামেরা নিয়ে এসেছিল হান্নাহ। পুলের পাথরের পাশে বসা ডেভিড আর ডেবরার ছবি তুলে নিল তাতে।
গোসলের উপযোগী পোশাক পরে আছে সবাই। ডেভিডের দিকে তাকিয়ে হাসছে ডেবরা। বিকিনি ফুটে বেরিয়ে পড়েছে সুন্দর তনু। ডেভিডও হাসল, কপালের উপর এসে পড়েছে চুল। মরুভূমির আলোয় বিশুদ্ধভাবে ফুটে উঠেছে তার পুরুষালী সৌন্দর্য।
দু’জনকেই এই ছবির একটা করে প্রিন্ট দিয়ে দিল হান্নাহ। পরবর্তীতে এই ছবির চকচকে কাগজটুকু রইল কেবল সেসব দিনের হাসি-আনন্দের সাক্ষী হয়ে। মনে হলো জীবনের গাছ থেকে ছিঁড়ে নেয়া হলো একটা ফুল শুকিয়ে হয়ে পড়ল কদর্য, চলে গেল বর্ণ আর গন্ধ।
কিন্তু এই উজ্জ্বল দিনে তাদের খুশির উপর কোন ছায়া ফেলতে পারল না ভবিষ্যত। জেরুজালেম ফেরার পথে ড্রাইভ করল জো। পথিমধ্যে ট্যাংক কোর’ এর একদল ছেলে বাড়ি ফেরার সময় কিছু না পেয়ে ডেভিডের গাড়ির উদ্দেশে হাত তুলে নাচানাচি শুরু করাতে ডেবরার পীড়াপিড়িতে গাড়ি থামালো জো। যদিও ডেভিড প্রচণ্ড আপত্তি করেছে, দেখা গেল চেপেচুপে ছোট্ট ক্যাবে ঠিকই জায়গা করে নিল তিনজনে। নিজেকে অপরাধী মনে হওয়ায় পেছনের সিটে ডেবরার কাঁধে হাত রেখে বসে রইল ডেবরা। সবাই মিলে গাইতে লাগল এ বছর ইস্রায়েলের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় গান ‘লেট দেয়ার বি পিস।
শেষের দিনগুলোতে যখন এয়ারফোর্সে ঢোকার জন্য অপেক্ষা করছে। ডেভিড, এ সময় সময় কাটানোর জন্য ঘরের ছোটখাটো কাজ করতে লাগল সে। যেমন নিজের ইউনিফর্ম ঠিকঠাক করা। ডেবরার পরামর্শ, যা হলো রেগুলেশন যদি তার বাবার জন্য ঠিক হয় তাহলে ডেভিডের জন্যও তা ঠিক হবে। কিন্তু সবকিছুকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল ডেভিড। অ্যারন কোহেন নিজের টেইলরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল ডেভিডকে। ডেভিডের স্টাইল সম্পর্কে শ্রদ্ধাবোধ জাগতে শুরু করল অ্যারনের মনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটলেথিক ক্লাবে ডেভিডের সদস্যপদের ব্যবস্থা করে দিল ডেবরা। প্রতিদিন প্রথম শ্রেণীর আধুনিক জিমে যাওয়া শুরু করল ডেভিড। আর শেষ করল নিজের গঠনকে ধরে রাখার জন্য অলিম্পিকের সাইজের চওড়া বিশটি সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা।
যাইহোক, অন্য সময় সে ব্যস্ত রইল ছাদের সূর্যস্নান অথবা ইলেকট্রিক প্লাগ বা ঘরের এ জাতীয় অন্যান্য টুকটাক কাজে, যা চাপিয়ে দিতে লাগল ডেবরা।
ঘরের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর সময় হয়তো হাতের কাছে পেলো ডেবরার ব্যবহৃত কোন জিনিস–একটা বই বা পিন, তৎক্ষণাৎ সেটা হাতে তুলে নিয়ে আদর করে দেয় ডেভিড। একবার তো এমন হলো যে ডেবরার বোব এলোমেলো ভাবে পড়ে রইল খাটের কিনারে। বিশেষ এই গন্ধ ডেভিডকে এতটাই বিবশ করে ফেলল যে অপেক্ষা করতে লাগল কখন আসবে ডেবরা।
যাইহোক, অন্য কিছু নয়, বইয়ের মাঝে এমন কিছু আবিষ্কার করল ডেবরা সম্পর্কে যা বুঝতে হয়তো লেগে যেত বছরের পর বছর। ফার্নিচার বিহীন দ্বিতীয় বেডরুমের ক্রেট ভর্তি বই রেখে দিয়েছে ডেবরা। কাবার্ড আর শেষ্য পাবার আগে এটা তাদের অস্থায়ী স্টোররুম। এক বিকেলে ক্রেট হাতড়াতে লাগল ডেভিড। মিশ্র সাহিত্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ গিবন আর ভিদাল শেক্সপিয়ার আর মেইলার, সলজোনিৎসিন আর মেরী স্টুয়ার্ট, আরো আছে অন্যান্য অদ্ভুত লেখকরা। আছে গল্প, জীবনী ইতিহাস, কবিতা, হিব্রু, ইংরেজি নরম বাধাই আর চামড়ায় মোড়ানো সংখ্যা। আর আছে পাতলা সবুজ মোড়কে বাধাই ভলিউম যেটা প্রায় ফেলেই দিচ্ছিল সে এমন সময় লেখকের নাম দেখে হাতে তুলে নিল। ডি মোরদেসাই। আবিষ্কারের নেশায় পাতা উল্টালো ডেভিড।
“দিস ইয়ার, ইন জেরুজালেম, কবিতার সংকলন, লেখক ডেবরা মোরদেসাই।
হাতে করে বইটা নিয়ে বেডরুমে এলো ডেভিড। ভুলে গেল লেস কাভারের উপর শোয়ার সময় জুতা খুলে রাখতে–এ ব্যাপারে বেশ কড়া ডেবরা প্রথম পৃষ্ঠা উল্টালো ডেভিড।
পাঁচটা কবিতা। প্রথমটি টাইটেলে থাকা নাম। বাস্তব হয়ে উঠল দুই হাজার বছরের প্রতিজ্ঞা করা নেক্সট ইয়ার ইন জেরুজালেম। নিজের দেশের প্রতি দেশত্ববোধ ফুটে উঠেছে এতে। এমনকি ডেভিড যে কিনা ম্যাকলিন আর রবিনস পড়ে অভ্যস্ত, সেও স্বীকার করতে বাধ্য হলো যে অত্যন্ত উন্নতমানের লেখা হয়েছে এটি। প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠল চমকে যাবার মতো সৌন্দর্য, শব্দের অসাধারণ ব্যবহার। ভালো বেশ ভালো হয়েছে আর নিজের ভিতর কেমন অদ্ভুত গর্ব বোধ করতে লাগল ডেভিড। ডেবরার হৃদয় আর চেতনার এতটা গভীরতা সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না তার।
