‘দেরি হয়ে গেছে। দৃঢ়গলায় ঘোষণা করল সে।
‘দেরি? অবাক হয়ে জানতে চাইল জো। মাত্র নয়টা বাজে।
‘আজকের রাতের মতো একটা রাতে এইটাই অনেক দেরি।
মানে?’ মানে হলো কিছুই বুঝতে পারছে না জো।
‘যোসেফ মোরদেসাই, অসাধারণ কূটনীতিবিদ। ভারী গলায় জ্বিপের স্বরে বলে উঠল হান্নাহ। হঠাৎ করে বদলে গেল জোর অভিব্যক্তি। অপরাধীর ভঙ্গিতে তাকাতে লাগল ডেভিড আর ডেবরার দিকে। একচুমুকে শেষ করে ফেলল নিজের বিয়ার। আর এক হাত দিয়ে দাঁড় করিয়ে নিল হান্নাহকে।
‘চলো। আমরা এখানে বসে আছি কেন?’ বোধোদয় হলো জো’র।
ছাদের আলো জ্বালিয়ে রাখলো ডেভিড। খোলা জানালা দিয়ে সেই আলোর রেশ আসছে ঘরে। রুম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল নরম আলো। পাথরের দেয়াল আর দূরত্ব থাকায় শহরের কোলাহলও শোনা যাচ্ছে না তেমন। আর এই মৃদু শব্দ তাদের একাকিত্বকে ভেঙ্গে দেয়ার বদলে বাড়িয়েই তুলল কেবল।
হালকা আলো ছড়াচ্ছে ক্রিম রঙা বেডকাভার। আইভরি লেসের কাজ থেকে ভেসে আসছে ল্যাভেন্ডার আর মথ বলসের গন্ধ।
বিছানায় শুয়ে ডেবরার পোশাক খোলার দৃশ্য দেখতে লাগল ডেভিড। নিজের উপরে ডেভিডের দৃষ্টি আর পূর্বে কখনো এমন না করায় লজ্জিত হয়ে উঠল ডেবরা।
কৃশকায় শরীরে লম্বা কোমর আর শিশুর মতো লাবণ্য মাথা পদযুগল; তারপরেও এতটুকু হারায়নি নারীসুলভ কমনীয়তা।
বিছানার কিনারে এসে বসল ডেবরা। ওর দেহত্বকের চকচকে মসৃণ ভাব দেখে আবারো চমৎকৃত হলে ডেভিড। কোন কোন জায়গায় সূর্যের তাপে পোড়া তুক ক্রিম থেকে হয়ে গেছে মধু-রঙা। আস্তে আস্তে ডেভিডের দিকে ঝুঁকে এসে গালে হাত রাখল ডেবরা।
তুমি অনেক সুন্দর। ফিসফিস করে উঠল ডেবরা। দেখল এর পুরোটাই সত্যি। লম্বা, ঋজু দেহে পেশীবহুল কাঁধ, কোমর আর সরু পেট। নিখুঁত মুখমণ্ডল। এতটাই অপার্থিব সৌন্দর্য যে মনে হলো এটাই ওর খুঁত। মনে কোন দেবদূত অথবা পুরাণ থেকে উঠে আসা দেবতার পাশে শুয়ে আছে ডেবরা।
পা ভাঁজ করে বিছানায় উঠে এলো সে। চাদরের নিচে একে অন্যকে স্পর্শ না করেও কাছকাছি শুয়ে দু’জনে তাকিয়ে রইল দু’জনের দিকে।
তৃপ্তি আর খুশির শ্বাস বের হয়ে এলো ডেবরার গলা চিরে। মনে হলো বহুদূর একাকী ভ্রমণ করে এসে গন্তব্যে পৌঁছেছে কোন পরিব্রাজক।
‘আই লাভ ইউ, প্রথমবারের মতো উচ্চারণ করল ডেবরা।
.
পুরো একটা সন্ধ্যা ব্যয় করে ডেভিডকে বোঝাতে লাগল ডেবরা–যে এয়ার বেস আর মালিক স্ট্রিটের ঘরে পৌঁছানোর জন্য উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্পোর্টস কারের কোন প্রয়োজন নেই। এতদিনে ডেভিডের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে বুঝে গেছে সে ভালোভাবেই। ডেভিডকে বোঝাতে লাগল যে এত জাকজমক আর ব্যয়বহুলতা ভালো দেখায় না। একমত হলো ডেভিড। জানে যে অ্যারন কোহেন আর ওর সঙ্গোপাঙ্গোরা নজরদারী করছে।
জোর মতোই জাপানিজ কার নিতে বলল ডেবরা। ডেভিড জানাল যে এ। ব্যাপারে অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে ভাববে সে।
অ্যারন কোহেনের লোক তেল আবিবে অবস্থানরত জার্মান চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ারসের কাছে একটা মার্সিডিজ বেঞ্জ ৩৫০ এস এল দেখে এলো। এই ভদ্রলোক আবার বার্লিনে ফিরে যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে। তাই আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ক্যাশ পেলে অটো ছেড়ে দিতে রাজি আছে। একটা মাত্র ফোনকলের মাধ্যমে জুরিখের সুইস ক্রেডিটের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা হয়ে গেল।
গাড়ির রং সোনালি ব্রোঞ্জ। ঘড়িতে দেখা গেল বিশ হাজার কিলোমিটারের খানিকটা নিচে কাটা। আর মালিক যে যথেষ্ট যত্নের সাথে এর দেখভাল করেছে তা বুঝতে কোন কষ্ট হলো না।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজের মোটর স্কুটারে ফিরে মালিক স্ট্রিটের শেষ মাথায় এই মহার্ঘ্য মেশিন বাধা দেখতে পেল ডেবরা। একটা মোটাসোটা শিকল গ্রামে সকল ধরনের মোটর চালিত বাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।
একবার তাকিয়ে দেখল ডেবরা। আর সাথে সাথেই বুঝে গেল যে এটা কার হতে পারে। অসম্ভব রেগেমেগে ছাদে উঠে এলো সে। কিন্তু হাবে ভাবে চাইল আরো বেশি রাগ দেখাতে।
‘ডেভিড মরগ্যান, তোমাকে নিয়ে আসলে কিছুই করার উপায় নেই।
‘তুমি সত্যিই দ্রুত বুঝতে পারো সব।’ ঘঁদের উপর সূর্য স্নান করছে। ডেভিড।
কত টাকা দিয়েছে এর জন্যে?”
অন্য কোন প্রশ্ন করো, ডল। বেশ একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা।
‘তুমি সত্যি একটা’-থেমে গিয়ে উন্মত্তের মতো উপযুক্ত শব্দ খুঁজতে লাগল ডেবরা। অবশেষে খুঁজে পেয়ে তৃপ্তির স্বরে উগরে দিল গলা দিয়ে ‘অধোপতনে যাচ্ছো!
‘এই শব্দের সঠিক অর্থই জানো না তুমি।’ কুশন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ভদ্র ভাবে ডেবরাকে উত্তর দিল ডেভিড। অলস ভাবে ঘুরে দাঁড়াল ডেবরার দিকে। যদিও মাত্র তিনদিন ধরে একে অন্যের এতটা সান্নিধ্যে এসেছে তারা, তারপরেও ডেভিডের চোখের ভাষা বুঝতে পারল ডেবরা।
‘তোমাকে অর্থটা বুঝিয়ে দেবো আমি।’ বলে উঠল ডেভিড। হাতে কলমে অধপতনে যাবার এমন উদাহরণ দিয়ে দেবো অনেক দিন মনে রাখবে।’
ডেভিড এগোনো শুরু করতেই জলপাই গাছের পিছনে চলে গেল ডেবরা। সারা ছাদে ছড়িয়ে পড়ল বইখাতা।
‘ছাড়ো আমাকে হাত সরাও জানোয়ার কোথাকার।
ডানদিকে লাফ দিল ডেভিড সহজেই তুলে নিল ডেবরাকে। ডেভিড মরগ্যান আমি সর্তক করে দিচ্ছি তোমাকে, এই মুহূর্তে আমাকে নিচে নামাও নয়তো চিৎকার করব আমি।’
