কী চায় ডেভিড জানিয়ে দিতেই মাত্র বিশ ঘন্টার মাঝে সাইন করিয়ে টাকা পরিশোধের ঝামেলাও মিটিয়ে দেয় অ্যারন। পল মরগ্যান অনেক ভেবে-চিন্তেই নিজের এক্সিকিউটিভদের নিয়োগ দেয় তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হলো অ্যারন কোহেন। আর এই কাজের জন্য ডেভিডের যা পরিশোধ করতে হলে তা হলো পরদিন সকালবেলা পল মরগ্যানের ডেস্কে পৌঁছে গেল তার সাম্প্রতিক অবস্থান, আর্থিক লেনদেন আর ভবিষ্যত পরিকল্পনা–কিন্তু এতটুকু দিতে কার্পণ্য করল না ডেভিড।
হিন্নম গভীর খাদের উপরে, মাউন্ট জিয়নের দিকে মুখ করে থাকা মন্টেফিওরে কোয়ার্টারকে সম্পূর্ণ নতুন করে গড়ে তুলেছে কয়েকজন ব্যবসায়ী। প্রায় পুরোটাই তৈরি অনিন্দ্যসুন্দর সোনালি জেরুজালেম পাথর দিয়ে। আর এর নকশা করা হয়েছে প্রাচীনতার ছাপ দিয়ে। যার কোন বয়স নেই। কিন্তু যাইহোক অভ্যন্তরের নকশায় আছে অত্যাধুনিক লম্বা-শীতল রুম, মোজাইক টাইলসের বাথরুম আর সিলিংয়ের খিলান দেখে মনে হবে ক্রুসেডীয় আমলের গির্জা। কোয়ার্টারের বেশিরভাগ বাড়িগুলোর নিজস্ব ছাদ আর সীমান্ত দেয়াল আছে।
মালিক স্ট্রিটের দিকে মুখ করে থাকা বাড়িগুলোর একটি ডেভিডের জন্য নির্বাচন করল অ্যারন কোহেন। দামটাও বেশ ভারিক্কি চালের। হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়ে এটাই ছিল ডেবরার প্রথম প্রশ্ন। ছাদে একটা মাত্র জলপাই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বিস্ময়ে যেন পাথর হয়ে গেল সে। ছাদের পাথরগুলোকে কেটে এমন পালিশ করা হয়েছে যে দেখতে মনে হচ্ছে পুরোনো আইভরি খোদাই করা সদর দরজার উপর হালকা ভাবে হাত বুলাতে লাগল ডেবরা। স্তম্ভিত ডেবরার কণ্ঠস্বর হয়ে গেল ফ্যাসফ্যাসে আর শোনার অযোগ্য।
‘ডেভিড! ডেভিড! এর দাম কত?
‘এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো তোমার পছন্দ হয়েছে কিনা?
‘এটা অনেক সুন্দর। অনেক বেশি, ডেভিড। আমরা এতটা খরচ করতে পারব না।
ইতিমধ্যে এর দাম পরিশোধ করা হয়ে গেছে।
হয়ে গেছে? হাঁ করে তাকিয়ে রইল ডেবরা। কত ডেভিড?
যদি আমি এক মিলিয়ন বা আধা মিলিয়ন ইস্রায়েলী পাউন্ডস, কী যায় আসে তাতে? এটা শুধুমাত্র অর্থ।
দুই কানে হাত চাপা দিল ডেবরা। না!’ চিৎকার করে উঠল। আমাকে বলো না। আমার খুব খারাপ লাগবে। আমি এখানে থাকতে পারব না।
‘ওহ, কী! তুমি ইতিমধ্যে সম্মতি দিয়েছে এখানে থাকার।’
‘চেষ্টা করে দেখো।’ জোর দিয়ে বলে উঠল ডেবরা। চেষ্টা করে দেখো।’
মাঝখানের রুমে দাঁড়িয়ে কথা বলছে তারা। সামনে খোলা ছাদ। যদিও ভয়ঙ্কর গরমের কথা মাথায় রেখে এখানে বাতাস চলাচলের যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে আর রংও হালকা; তারপরও নতুন রং আর কাঠের বার্নিশের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
ফার্নিচার সম্পর্কে কী করতে চাও?’ জানতে চাইল ডেভিড।
ফার্নিচার? একই প্রশ্ন করল ডেবরা। আমি, এতটা এগিয়ে ভাবিনি এখনো।
আমার যেটা মনে হয় আমাদের একটা বড়সড় বিছানা প্রয়োজন।
গম্বুজের মত ছাদ বা পাথরের মেঝের উপর কোন আধুনিক ফার্নিচার ভালো লাগবে না। তাই অ্যান্টিক শপ আর বাজার ঘুরে ঘুরে ফার্নিচার কেনা শুরু করল দুজনে।
প্রধান সমস্যার সমাধান করে দিল ডেবরা। একটা অপরিত্যক্ত মালের গুদামে পেয়ে গেল বিশাল একটা খাট; যদিও ধুলা ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হলো। চকচক না করা পর্যন্ত পালিশ করা হলো এটিকে। নতুন কেনা হলো ভেতরের দিকে স্প্রিং দেয়া ম্যাট্রিস। আর খাটটাকে ঢেকে দেয়ার জন্য ডেবরার ড্রয়াল থেকে বের করা হলো ক্রিম রঙা লেসের চাদর।
পুরোন শহরের আরবীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে নিল উল দিয়ে বোনা রাগ। পাথরের মেঝের উপর মোটা করে বিছিয়ে দিল। সাথে থাকল বসার জন্য চামড়ার কুশন আর খাবার-দাবারে জন্য ইবোনি আর মাদার অব পার্ল দিয়ে তৈরি, জলপাই কাঠের নিচু টেবিল। অন্যান্য আসবাব কেনা হবে যখন বিক্রির জন্য নোটিশ লাগানো কিছু পাবে অথবা এতেও কাজ না হলে ডেবরার পরিচিত আরবীয় কেবিনেট মেকার তো আছেই। খাট আর টেবিল দু’টোরই ওজন অসম্ভব ভারী। তাই শক্তিশালী কাউকে দরকার এ দু’টো বহন করার জন্য। এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় জোকে ডাকা। তাই করল তারা। জোর ছোট্ট জাপানি গাড়িতে করে এসে পৌঁছালো জো আর হান্নাহ। মরগ্যান প্রাসাদ দেখে তো দুজনের ভিরমি খাবার জোগাড়। যাই হোক একটু ধাতস্থ হতেই আগ্রহ নিয়ে কাজ শুরু করল তারা। আর সবকিছুর তত্ত্ববধানের দায়িত্বে রইল ডেভিড। কাজ করতে শুরু করল জো, অন্যদিকে ডেবরার সাথে আধুনিক আমেরিকান রান্নাঘরে হারিয়ে গেল হান্নাহ। ওয়াশিং মেশিন, ড্রয়ার, ডিশ ওয়াশার আর অন্যান্য যন্ত্রপাতি দেখে একই সাথে শ্রদ্ধা আর হিংসা ফুটে বের হলো হান্নাহর গলা চিরে। প্রথম খাবার রান্না করায় ডেবরাকে সাহায্য করল সে।
এককেস গোল্ডস্টার বিয়ার নিয়ে এলো ডেভিড। নিজ নিজ কাজ শেষ করে জলপাই কাঠের টেবিলের চারপাশে জড়ো হলো সবাই ঘর গরম করতে আর ছাদ ভিজাতে।
ডেভিড ভেবেছিল জো হয়তো খানিকটা আড়ষ্ট হয়ে থাকবে। যেহেতু এটা তার দুগ্ধপোষ্য বোনের রূপকথার বাসা। কিন্তু সবসময়কার মতো প্রাণবন্ত রইল জো। বিয়ার আর সবার সঙ্গে এতটাই মশগুল হয়ে পড়ল যে অবশেষে বাধ সাধলো হান্নাহ।
