সেই রাতেই গ্যাসবাতির আলোয় বসে আবারো চিঠি লিখতে বসল ডেভিড। রুমের ওপাশে বসে শীতকালে ডেভিডকে দেবার জন্য জার্সি সেলাই করতে বসল ডেবরা। ভাবল ডেভিড নিশ্চয়ই এস্টেটের অ্যাকাউন্টস নিয়ে ব্যস্ত 1 ডেভিড দেখল প্রথম চিঠিটার শব্দগুলো হুবহু মনে করতে পারল সে। তাই মাত্র কয়েক মিনিটের মাঝে চিঠি লিখে খাম বন্ধ করার কাজও শেষ হয়ে গেল।
‘কাল সকালে বইয়ের কাজ করবে তুমি? হালকাস্বরে জানাল যে সে করবে। আবারো বলে চলল ডেভিড, ‘আমি এক বা দুই ঘণ্টার জন্য নেলটে যাবো।’
এত উঁচু দিয়ে উড়ে গেল ডেভিড যেন মাটিতে আর ফিরে আসতে চায় না।
নিজেও বিশ্বাস করতে পারল না যে সে সত্যিই এটা করতে চলেছে। এতটা আত্মত্যাগ করতে পারে তা তার ধারণাতেও ছিল না। অবাক হয়ে ভাবল, কেউ কী কাউকে এতটা ভালোবাসতে পারে যে সেই মানুষটার ভালোর জন্য ভালোবাসাটুকুও ভুলে যেতে পারবে? দক্ষিণে উড়ে যেতে যেতে বুঝতে পারল যে সে পারবে এর মুখোমুখি হতে।
আর সকলের মতো ডেবরারও অধিকার আছে পৃথিবী দেখার আর এই কারণে নিজের প্রতিভার পুরো ব্যবহার করতে পারছে না সে। যতক্ষণ পর্যন্ত না দেখবে কিছু একটা বর্ণনা করতে পারবে না সে। একজন লেখক হবার ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে সে, কিন্তু এর অর্ধেক ক্ষমতাই কেড়ে নেয়া হয়েছে তার কাছ থেকে। ডেবরার কান্না বুঝতে পারল ডেভিড। ওহ গড! গড! আমি দেখতে চাই। প্লিজ আমাকে দেখতে দাও। ডেভিড নিজেও একই আকুতি জানাল মনে মনে ঈশ্বরের কাছে। প্রার্থনা করল : “প্লিজ গড, তাকে আবার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দাও।
এয়ারস্ট্রিপে নাভাজো নিয়ে ল্যান্ড করল ডেভিড। ট্রাক্সি নিয়ে সোজা চলল পোস্ট অফিসে। অপেক্ষা করে নিজের বক্স থেকে চিঠিও তুলে নিল।
‘এখন কোথায় যাবেন? জানতে চাইল ট্যাক্সি ড্রাইভার। আরেকটু হলে বলেই ফেলছিল এয়ারফিল্ডের কথা। তারপর মাথা নেড়ে বলে উঠল, আমাকে দোকানে নিয়ে চলুন। এক কেস ভেভ ক্লিকট শ্যাম্পেন কিনল ডেভিড।
বাসায় ফেরার পথে বেশ হালকা লাগল নিজেকে। চাকা গড়িয়ে গেছে, বলে লাথি মারা শেষ। এখন আর কিছুই করার নেই তার। আর কোন দ্বিধা নেই। অপরাধবোধ নেই। ফলাফল যাই আসুক না কেন, মেনে নেবে সে।
প্রায় তৎক্ষণাৎ বুঝে ফেলল ডেবরা যে কিছু একটা হয়েছে। স্বস্তির সাথে উচ্চস্বরে হেসে উঠল। গলা ধরে ঝুলে পড়ল ডেভিডের বুকে।
কী হয়েছে জানতে চাইল সে।
‘সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে তুমি চুপচাপ ছিলে। চিন্তা করতে করতে আমি অসুস্থ হয়ে গেছি–আর মাত্র এক-দুই ঘন্টার জন্য বাইরে গিয়েই প্রাণশক্তি ফিলে পেলে তুমি। কী ঘটেছে মরগ্যান?
‘আমি মাত্রই বুঝতে পেরেছি যে আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি, ডেবরাকে জড়িয়ে ধরে জানাল ডেভিড।
‘অনেক?’ আবারো জানতে চাইল ডেবরা।
‘অনেক! অনেক!’ একমত হল ডেভিড।
‘এই তো আমার বাছা!’ হাততালি দিল ডেবরা।
খোলা হল ভেভ ক্লিকট। নিজের সাথে নিয়ে আসা চিঠিতে ববি ডুগানের চিঠি পেল ডেভিড, ডেবরার পাঠানো নতুন উপন্যাসের প্রথম চ্যাপ্টার পড়েই দারুশ আশাবাদী হয়ে উঠেছে ববি আর প্রকাশক। অগ্রিম ডেবরাকে এক লক্ষ ইউ এস ডলারের চেকও পাঠিয়ে দিয়েছে।
‘তুমি তো ধনী হয়ে গেছ!’ হাসল ডেভিড।
এর একমাত্র কারণ তুমি আমাকে বিয়ে করেছ। ভাগ্য শিকারি!’ উত্তেজনায় হাসতে লাগল ডেবরা। বুক ভরে গেল ডেভিডের।
‘ওরা এটা পছন্দ করেছে, ডেভিড।’ সিরিয়াস হয়ে উঠল ডেবরা। ওরা সত্যিই পছন্দ করেছে। আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এত বড় অংকের চেক পেয়ে নিজেরে কাজের স্বীকৃতিও পেল ডেবরা।
‘এটা পছন্দ না করলে পাগল বলতে হতো তাদেরকে’, মন্তব্য করল ডেভিড।
এর পরের সপ্তাহগুলো কাটতে লাগল প্রচণ্ড আনন্দে। তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল ডেভিডের-সন্দেহ। দিগন্তে ঝড়ের ছায়া দেখেও মনে হল সামনে বছর খরা হবে। এরপর আরো পাঁচ সপ্তাহ কেটে যাবার পর নেলপ্রটে যাবার প্রস্তুতি নিল সে। কেননা ডেবরা অস্থির হয়ে ছিল প্রকাশকের কাছ থেকে কোন নতুন খবর এসেছে কিনা জানার জন্য। এছাড়া টাইপিং করা শেষ হলে খসড়াও দেখার প্রয়োজন আছে।
‘আমি আমার চুল কাটতে চাই, আর যদিও আমি জানি যে এটা তেমন প্রয়োজন নেই। তারপরেও ডেভিড, মাই ডার্লিং আমাদের মানুষের সাথে মেশা দরকার–মাসে অন্তত একবার তাই না?
‘এতটা দেরি হয়ে গেছে? কিছুই জানে না এমন সরল ভঙ্গীতে জানাতে চাইল ডেভিড। যদিও প্রতিটি দিন পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইছে সে। যেন ভবিষ্যতের জন্যে স্মৃতি সঞ্চিত হয়।
বিউটি স্যালনে ডেবরাকে রেখে পোস্ট অফিসে গেল ডেভিড।
চিঠিতে ভরে আছে বক্স। তাড়াতাড়ি করে বাছাই করল ডেভিড। তিনটি এসেছে ডেবরার আমেরিকান এজেন্টের কাছ থেকে আর দু’টিতে ইস্রায়েলীয় ষ্ট্যাম্প। এ দুটি একটার খামের উপর আবার ডা. এর প্রেশক্রিপশনের ছাপ দেয়া। অবাক হয়ে গেল ডেভিড যে ঠিকঠিক ডা. এর হাতে পৌঁছেছিল চিঠিটা। দ্বিতীয় খামের উপর হাতের লেখা দেখে ভুল হবার কোন কারণ নেই। প্রতিটি শব্দ ঠিকঠিক নিয়ম মেনে লেখা। আর এমন ভঙ্গিতে যে বোঝাই গেল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তির হাতের লেখা।
ডেভিড বেগুনি জাকারান্ডা গাছের নিচে বসল একটা বেঞ্চিতে, পোস্ট অফিসের পাশের পার্কে। প্রথমেই খুললো ডা, এর লেখা চিঠি। হিব্রুতে লেখা।
