‘ডিয়ার ডেভিড,
তোমার চিঠি পেয়ে খুব অবাক হয়েছি আমি। এরপর এক্স-রে প্লেটগুলো আরো একবার পরীক্ষা করে দেখেছি আমি। প্রথমবারের মতোই একই কথা আবার বলতে চাইবে আমি।’
নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কেন যে স্বস্তি পেল ডেভিড।
যাই হোক যদি আমি গত পঁচিশ বছর এই পেশা থেকে কিছু শিখে থাকি, তা হল নম্রতা। আমি মেনে নিচ্ছি যে তোমার পর্যবেক্ষণ ঠিক হয়েছে। তাহলে আমাকে এও মানতে হবে যে চোখের অপটিক নার্ভের একটা অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার মানে নার্ভগুলো আগেই পুরোপুরি শুকিয়ে যায়নি। আর এখন সম্ভবত ডেবরা মাথায় যে আঘাত পেয়েছে–কিছু কাজ করা শুরু করেছে অংশগুলো।
কঠিন প্রশ্ন হচ্ছে? কতটা, আর এ ব্যাপারে আমি সাবধান করতে চাই যে হয়তো বর্তমানে যা দেখছে ততটুকুই অর্থাৎ আলোর প্রতি সংবেদনশীল মানেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া নয়। তাই এটুকু হয়তো বলা যায় যে চিকিৎসার মাধ্যমের আংশিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবার সম্ভবনা আছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এ অংশ খুবই সামান্য। হয়তো আলো বা আকৃতির প্রতি সামান্য সাড়া পাওয়া যাবে। কিন্তু নাজুক এ অংশে যে কোন সার্জারির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে হবে খুবই ভেবেচিন্তে।
আমি নিজের হাতে ডেবরাকে পরীক্ষা করতে চাই। কিন্তু তোমার পক্ষে এতটা আসা হয়তো সম্ভব হবে না। তাই আমি কেপটাউনে আমার একজন সহকর্মীর কাছে চিঠি লিখে দিচ্ছি। তিনি নিজেও একজন পৃথিবীখ্যাত অপটিক্যাল ট্রমা বিশেষজ্ঞ। নাম ডা, রুবেন ফ্রাইডমান। আমি আমার একটা কাগজও পাঠিয়ে দিচ্ছি। ডেবরা’র এক্স-প্লেট আর চিকিৎসার পূর্ব ইতিহাসও পাঠিয়ে দিচ্ছি।
আমি সুপারিশ করব যে, তুমি ডেবরাকে ডা. ফ্রাইডম্যানের কাছে নিয়ে যাও। তাহলে তার উপর তোমার নির্ভরযোগ্যতা বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে নিশ্চিত থাকতে পারো যে গ্রুট শূর হাসপাতাল পৃথিবী বিখ্যাত এবং যে কোন চিকিৎসা দেবার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা আছে। তারা এমনকি হার্ট ট্রান্সপ্লাটও করে থাকে।
আমি তোমার চিঠি নিয়ে জেনারেল মোরদেসাই এর সাথে কথা বলব–
.
সাবধানে চিঠি ভাঁজ কলে রাখল ডেভিড। ব্রিগ’কে এর ভেতরে টানার কী দরকার ছিল? মনে মনে ভাবল ডেভিড। এরপর খুললো ব্রিগের চিঠি।
ডিয়ার ডেভিড,
ডা. ইদেলমানের সাথে কথা হয়েছে আমার। আমি কেপটাউনে ফ্রাইডম্যানের সাথে কথা বলেছি। তিনি ডেবরাকে দেখতে রাজি হয়েছেন।
কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকাতে এস.এ জিয়েনিস্ট কাউন্সিল আমাকে বক্তৃতা দেবার জন্যে ডাকছে। কিন্তু আমি যাচ্ছি না। কিন্তু আজকে তাদেরকেও চিঠি লিখে সব ব্যবস্থা করতে বলেছি। এর মাধ্যমে ডেবরাকে অজুহাত দেখিয়ে কেপ টাউনে নিয়ে আসা যাবে। তাকে বলল তোমার খামারবাড়িতে গিয়ে ওর সাথে দেখা করার মতো সময় হবে না আমার। কিন্তু তাকে দেখতে চাইছি আমি।
আমি তোমাকে পরে আমার তারিখ জানিয়ে দেব। আশা করি তখন দেখা হবে।
চিরাচরিত আদেশমূলক মনোভাব ব্রিগের মাঝে। পুরো ব্যাপারটা ডেভিডের হাতের বাইরে চলে গেছে এখন। ফিরে আসার আর কোন পথ খোলা নেই। কিন্তু সম্ভাবনা আছে যে হয়তো কোন কাজ হবে না। এই আশাই করতে চাইল সে নিজের এ স্বার্থপরতার মনোভাব দেখে হতচকিত হয়ে গেল সে। চিঠিটা উল্টে ওপর পৃষ্ঠায় ডেবরাকে পড়ে শোনানোর জন্য চিঠির খসড়া করল। খানিকটা মজা পেল এভাবে ব্রিগের ভঙ্গি নকল করতে গিয়ে।
খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ডেবরার মুখ। বাবার চিঠির কথা শুনে নিজের ভনিতার উপর খানিকটা আস্থা পেল ডেভিড।
‘বাবাকে দেখতে পাবো, অনেক মজা হবে। ইস, মাও যদি আসতো বাবার সাথে।
‘যদিও জানায়নি কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে আমার। এরপর একে একে আমেরিকা থেকে আসা চিঠিগুলো পড়ল ডেভিড। তারিখ মিলিয়ে প্রথম দুটো বার্নিং ব্রাইটের উপর সম্পাদকীয়- কিন্তু তৃতীয়টি আরেকটা শক্ত খবর বয়ে আনল।
ইউনাইটেড আর্টিস্ট, আ প্লেস অব আওয়ার ওন নিয়ে সিনেমা বানাতে চায়। সম্পত্তি ক্রয় করতে চায় বারো মাসের জন্য আর লাভের সামান্য একটা অংশ। যদি ডেবরা ক্যালিফোর্নিয়া গিয়ে স্কিনপ্লে লিখে দেয়, তাহলে চিত্রনাট্যসহ পুরো ব্যাপারটার জন্য ববি ডুগান নিশ্চিত কোয়ার্টার মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ তৈরি হয়ে যাবে। তাই জোরে দিয়ে জানাল যেন ডেবরা পুরো ব্যাপরটা ভেবে দেখে। কেননা অনেক সময় দেখা যায় প্রতিষ্ঠিত উপন্যাস রচয়িতাগণও চিত্রনাট্য লেখার সুযোগ পায় না। তাই হালকা ভাবে না নিয়ে এ প্রস্তাব গ্রহণ করার অনুরোধ জানালো ডেবরাকে।
‘মানুষদের কী দরকার?’ তাড়াতাড়ি হেসে ফেলল ডেবরা। তারপর খুব দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নিল–এত দ্রুত যে ডেভিড বুঝতে পারল তার আগ্রহের কথা। তোমার কাছে আর শ্যাম্পেন আছে মরগ্যান? আমার মনে হয় আমরা সেলিব্রেশনের আরো একটা বাহানা পেয়ে গেলাম, তাই না?
‘তুমি যেভাবে এগোচ্ছ, এই জিনিসের দোকান দিতে হবে আমাকে। উত্তর দিল ডেভিড। এরপর এগিয়ে গেল রেফ্রিজারেটরের দিকে। ওয়াইন ঢালার সাথে সাথে গ্লাস পূর্ণ হয়ে গেল ফেনায়। পড়ে যাবার আগেই নিয়ে গেল ডেবরার কাছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে।
চলো, ব্যাপারটা নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তা করা যাক। ধরে নাও যে তুমি হলিউডে যাচ্ছো।’ ডেবরার হাতে গ্লাস ধরিয়ে দিল ডেভিড।
