সময় আর মনোযোগ অন্য কাজে লেগে যাওয়ায় আ প্লেস অব আওয়ার ওনের আমেরিকান ব্যর্থতার অংশটুকু ভুলে যাবার সুযোগ পেল ডেবরা। এক সকালে আবারো বসল নিজের ডেস্কে। কাজ শুরু করল দ্বিতীয় উপন্যাস নিয়ে। সেই সন্ধ্যাতেই ডেভিডকে বলল:
‘একটা সমস্যা হয়েছিল যে আমি কোন নাম খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যেন এটা একটা শিশু-নাম না দেয়া পর্যন্ত ব্যক্তি হিসেবে বোঝা যাবে না।’
‘এখন নাম পেয়েছ? জানতে চাইল ডেভিড।
‘হ্যাঁ।
বলবে আমাকে?
একটা দোনমোন করল ডেবরা। প্রথম বার কাউকে বলতে গিয়ে একটু লজ্জাও পেল। আমি ভাবছি “আ ব্রাইট অ্যান্ড হলি থিং” নামে ডাকবো। কিছুক্ষণ ভাবল ডেভিড। আস্তে করে নিজের মনে আউড়াল নামটা।
‘পছন্দ হয়েছে?’ উদ্বিগ্ন স্বরে জানাতে চাইল ডেবরা।
‘অসাধারণ। আমার পছন্দ হয়েছে। সত্যি।
আরো একবার ডেবরার সাথে উপন্যাসের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ডেভিড। মনে হল দিনগুলি এত ছোট কেন। আরো একটু ভালোবাসা-বাসি, হাসাহাসি কাজকর্ম করতে মন চাইল দু’জনেরই।
সামনের বাগানে বারবিকিউ করতে বসেছে ডেভিড আর ডেবরা। এমন সময় ফোন বেজে উঠল।
‘মিস মোরদেসাই? অবাক হয়ে গেল ডেভিড। এ নামটা তো ততটা পরিচিত নয় এখানে।
‘হ্যাঁ। মিস ডেবরা মোরদেসাইয়ের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে আলাপ করতে চান নিউইয়র্ক থেকে আগত একজন।’ অধৈর্য স্বরে বলে উঠল অপারেটর। তখনি ডেভিড বুঝতে পারল ব্যাপারটা। ও আসছে। ডেবরার নাম ধরে ডাকলো। ববি ভুগান ফোন করেছে। প্রথম বারের মতো লোকটার গলার স্বর শুনতে পেয়েছে ডেবরা।
‘ওয়ান্ডার গার্ল। ফোনের মাঝে চিৎকার করে উঠল ববি ডুগান। বসো যেন পড়ে না যাও। বিগ ড্যাডি এখন তোমাকে এমন সংবাদ জানাবে যে তোমার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। দুই সপ্তাহ আগে তোমার উপর আর্টিকেল প্রকাশ করেছে কসমোপলিটন। পুরো পৃষ্টজুড়ে তোমার ফটোগ্রাফ দিয়েছে ডার্লিং–গড়, তোমাকে এত সুন্দর দেখাচ্ছে যে–’
নার্ভাস ভঙ্গিতে হাসল ডেবরা। হাত ইশারা করে ডেভিডকে কাছে ডেকে বলল কান পেতে শুনতে।
‘শনিবারের সবকিছুকে হারিয়ে দিয়েছ তুমি। আর সোমবার সকালে বইয়ের দোকানগুলোতে দাঙ্গা লেগে গেছে। সবাই দরজা ভেঙ্গে ফেলতে চাইছিল। তুমি কল্পনা করতে পারছে ডার্লিং? মাত্র পাঁচ দিনে সতেরো হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। তুমি একলাফে নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার লিস্টের পাঁচ নম্বরে উঠে গেছ। এমন একটা অবস্থা যেন সবাই পাগলের মতো খুঁজছে তোমাকে। ডার্লিং আমরা এই বইয়ের হাফ মিলিয়ন কপি বিক্রি করতে যাচ্ছি। সব বড় বড় সংবাদপত্র আর ম্যাগাজিন রিভিউ কপি চাইছে–তিন মাস আগে যে কপিগুলো পাঠিয়েছিলাম যেগুলো তারা হারিয়ে ফেলেছে। প্রতি দুই দিনে পঞ্চাশ হাজার করে কপি ছাপতে হচ্ছে। আর আমার কথা শুনে রাখো, ওরা যেন পাগল হয়ে গেছে–এটা শুধুমাত্র শুরু–পরের সপ্তাহে দেখবে ওয়েস্ট কোস্টে আগুন লেগে গেছে, সারা দেশ জুড়ে কপির জন্যে হাহাকার পড়ে যাবে। আরো অনেক কথা বলেই চলল ববি ভুগান। চিৎকার করে বলতে লাগল নিজের আশা আর পরিকল্পনার কথা। আর দুর্বলভাবে হেসে ডেবরা শুধু বলতে লাগল না। আমি এটা বিশ্বাস করি না। আর এটা সত্যি নয়।’
এই রাতে তিন বোতল ভেভ ক্লিকট খেয়ে ফেলল তারা। আর মধ্যরাতের খানিক আগে ডেভিড মরগ্যানের সন্তান গর্ভে ধারণ করল ডেবরা।
.
মিস মোরদেসাই ভাষার দক্ষ ব্যবহারের পাশাপাশি সাহিত্যের ছোঁয়া দিয়ে এই বইয়ের মাধ্যমে বেস্টসেলারের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন।’ মন্তব্য করল নিউইয়র্ক টাইমস।
‘কে বলেছে যে সাহিত্যকে নিষ্প্রাণ হতে হবে? জিজ্ঞেস করল টাইম ম্যাগাজিন। পরিষ্কার সাদা ধোয়ার মতো জ্বলে উঠেছে ডেবরা মোরদেসাইয়ের প্রতিভা।
‘মিস মোরদেসাই তোমার গলা টিপে ধরবে, দেয়ালের সাথে পিষে ফেলবে, মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলবে আর পশ্চাৎদেশে লাথি কষাবে। সে তোমাকে এত দুর্বল বানিয়ে ফেলবে যে তোমার মনে হবে তুমি গাড়ি দুর্ঘটনায় ছাতু হয়ে গেছ। যোগ করল ফ্রি প্রেস।
গর্বিত ভঙ্গিতে অটোগ্রাফসহ আ প্লেস অব আওয়ার ওন-এর একটি কপি কনরাড বার্গকে দিল ডেভিড। অবশেষে মিসেস মরগ্যান বলা ছেড়ে দিল কনরাড। তার বদলে ডেবরাকে নাম ধরে ডাকা শুরু করল। বই দেখে এতটাই আশ্চর্য হয়ে গেল যে তৎক্ষণাৎ বলে বসল।
‘এসব জিনিস আপনি কীভাবে ভেবেছেন, মিসেস মরগ্যান?’
‘ডেবরা’, তাকে শুধরে দিল ডেবরা।
‘সে ওগুলো চিন্তা করেনি। সাহায্য করল জেন বার্গ। এটা ওর কাছে আপনাতেই এসেছে–এর নাম inspiration. ববি ডুগান সত্যি কথাই বলেছে আর পঞ্চাশ হাজার কপি প্রকাশ করতে হল।
.
ঘটনা এমন হয়ে দাঁড়াল যে মনে হল ভাগ্যদেবী ডেভিড আর ডেবরার উপর নিজের কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য উঠেপড়ে লাগল উপহার দিয়ে দু’জনকে ভরে দেবার জন্য।
নিজের জলপাই কাঠের টেবিলের কাছে বসে আছে ডেবরা। সন্তানের কল্যাণে দিনকে দিন ফুলে ঢোল হয়ে উঠেছে, আরো একবার শব্দের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ল তার মনের মাঝে। যেন মুক্তোর ছড়ার ঝরনার পানি। যাই হোক এর পরেও ডেভিডকে পাখি নিয়ে করা তার বইয়ের কাজে সাহায্য করে চলল ডেবরা। এছাড়া প্রতিদিন জাবুলানির বিভিন্ন অংশে ডেভিডের সঙ্গী হওয়া তো ছিলই। এর সাথে আরো যুক্ত হলো শূন্য নার্সারিতে ফার্নিচার বসানো আর ভরে তোলার পরিকল্পনা।
