ওয়াইল্ড লাইফ আর্টিকেল প্রায় শেষ হয়ে গেল। পোস্ট করার জন্যেও প্রস্তুত। এমন সময়ে নিউইয়র্কের ববি ডুগানের কাছ থেকে পত্র এলো ডেবরার কাছে। কসমোপলিটন ম্যাগাজিনের প্রকাশক আ প্লেস অব আওয়ার ওন-এর কপি পড়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে নিজের ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে বইটি প্রকাশ করার জন্যে। এছাড়া সম্ভব হলে ডেবরার জীবনীও ছাপতে চায়। ববি চাইল ডেবরা যেন নিজের কিছু ছবি আর চার হাজার শব্দের মধ্যে আত্মজীবনী লিখে পাঠায়।
ছবি তৈরিই আছে। ওয়াইল্ড লাইফে যাবার জন্যে প্রস্তুত। তিন ঘন্টার মাঝে ঝড়ের বেগে চার হাজার শব্দ লিখে শেষ করল ডেবরা। সাহায্য করল ডেভিড।
একই সাথে টেপ, ছবি আর আর্টিকেল চলে গেল নিউইয়র্কে আর ওয়াইল্ড লাইফের জন্যে প্রায় মাসখানেক কেটে যাবার পরে কোথাও থেকে কোন খবর এলো না। এরপর এমন একটা ঘটনা ঘটল যে এ ব্যাপারে ভুলেই গেল তারা।
প্রধান পুলের কাছে লুকানোর জন্যে তৈরি কুঁড়েঘরে বসে আছে তারা। চুপচাপ বসে সন্ধ্যা হওয়া দেখছে। জানালার কাছে ট্রাইপ ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে ডেভিড। ছাদের উপর লাগানো আছে ডেবরার রিফ্লেক্টর। রং লাগিয়ে ছদ্মবেশের মাধ্যমে লুকিয়ে রাখা হয়েছে আর অপারেট করার জন্যে হ্যান্ডেল ডেবরার মাথার উপর।
ঠাণ্ডা, শান্ত আর কালো হয়ে আছে পানি। দূরের একটা তীরে মাথা তুলল একটা মাছ। পানির ধারে নেচে বেড়াচ্ছে কয়টা ঘুঘু। পানিতে চুমুক দিয়ে আকাশের দিকে ঠোঁট তুলে গলা দিয়ে নামিয়ে নেয় পানি।
হঠাৎ করে ডেবরার হাতে চাপ দিয়ে সাবধান করল ডেভিড। ডেবরা বুঝতে পারল যে ডেভিড অস্বাভাবিক কিছু একটা দেখতে পেয়েছে। তাই তাড়াতাড়ি ডেভিডের কাছে ঘেসে বসল ডেবরা, যেন ফিসফিসে বর্ণনা শুনতে পায়। ডান হাতে রেকর্ডার অন করল সে। এরপর রিফ্লেক্টরে হাত দিল।
আস্তে আস্তে পানি খেতে এগিয়ে আসছে লাজুক প্রকৃতির দুর্ভল নায়লা অ্যান্টিলোপ। কান দুটোর সাবধানী ভঙ্গিতে খাড়া হয়ে আছে। নাক টেনে বাতাসে গন্ধ শুকলো বিপদের আশঙ্কায়। হালকা আলোতে লণ্ঠনের মতো জ্বলছে বড়ঘন চোখজোড়া।
শিংবিহীন নয়জন স্ত্রী, গায়ের রং চেস্টনাটের মতো, সাদা ডোরাকাটা দাগ, সন্দেহ বাতিকগ্রস্তের মতো পা ফেলছে। অনুসরণ করছে শক্তিশালী পুরুষ দু’টির। এ দুটোকে দেখতে একদম আলাদা। কোন সাদৃশ্যই নেই। বেগুনি আর কালো রঙের মিশেল। কানের পাশ থেকে কেশর পর্যন্ত এবড়ো খেবড়ো। মোটা শিং, মাথা ক্রিম রঙা আর চোখ জোড়ার মাঝখানে উজ্জ্বল দাগ।
একবার মাত্র এক পা করে আগে বাড়ছে। এরপর থেমে চারপাশ দেখে নিচ্ছে। বিপদের চিহ্নের জন্যে সাবধান ভাবে আস্তে আস্তে নেমে এলো তীরে।
ডেভিডদের থেকে এত কাছ দিয়ে গেল যে ভয় পেলও। মনে হলো শাটার টেপার ক্লিক শব্দ শুনতে পেলেও হয়তো ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবে।
বরফের মতো জমে গিয়ে বসে রইল সে আর ডেবরা। হরিণের দল গেল পানির কাছে। খুশিতে হেসে ফেলল ডেবরা। কেননা ওর রেকর্ডিংয়ে পুরুষ হরিণের পানি খাবার আগের শব্দটা স্পষ্ট ধরা পড়েছে। একই সাথে পানির কলকল আওয়াজ রেকর্ড হয়ে গেছে।
সবাই যখন একসাথে পানি খেতে নামল অনেক যত্ন করে ফোকাস করল ডেভিড। কিন্তু শাটারের ক্লিক শব্দ হতেই ওর পাশে থাকা পুরুষ হরিণটা ভয় পেয়ে এক দৌড় লাগল। সাথে সাথে পুরো দলটা ঘন গাছপালার মাঝে দিয়ে এমন ভাবে হাওয়া হয়ে গেল যেন ভূতে তাড়া করেছে।
‘আমি পেরেছি। আমি পেরেছি।’ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল ডেবরা। ওয়াও! এত কাছে এসেছিল যে মনে হচ্ছিল আমার কানের পর্দা ফেটে যাবে।
পুরো জাবুলানিতে ছড়িয়ে পড়ল এ উত্তেজনা। এর আগে এস্টেটে নালনা অ্যান্টিলোপ আর আসেনি। এমনকি ডেভিডের বাবার সময়েও নয়। তাই এ দলটা যাতে থেকে যাওয়ার উৎসাহ পায়, সে রকম বন্দোবস্ত করা হলো। পুলের কাছাকাছি সব রেঞ্জার আর ভৃত্যদের চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো। যেন এখানে নিজের বসতি গড়ে তোলার আগেই ভয় পেয়ে চলে না যায় তারা।
কনরাড বার্গও পৌঁছে গেল খবর পেয়ে। এখনো হাঁটার সময় ওয়াকিং স্টিক ব্যবহার করে আর বেশ খানিকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে। বাকি জীবন এভাবেই কাটাতে হবে বেচারাকে। ডেভিড আর ডেবরার সাথে হাইড আউটে বসে আরেকদিন দেখল অ্যান্টিলোপের দলটাকে। এরপর তাদের সাথেই ঘরে ফিরে ফায়ারপ্লেসের পাশে বসে বীফ স্টেক আর ওল্ড বাক জিন খেতে খেতে নিজের মন্তব্য জানাল।
এরা পার্ক থেকে আসেনি। আমার যতদূর মনে হচ্ছে। আমি যদি আগে কখনো এই পুরুষ অ্যান্টিলোপকে দেখতাম আমি ঠিক চিনতে পারতাম– সম্ভবত আশেপাশের এস্টেট থেকে এসেছে। তুমি তো এখনো দক্ষিণ দিকে বেড়া দাওনি, তাই না?
না, এখনো না।’
“ঠিক আছে। এদিক থেকেই তারা এসেছে। মনে হয় টুরিস্টদের সামনে দর্শন দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এখানে এসেছে শান্তির খোঁজে। চুমুক দিল জিনের গ্লাসে। তুমি এখানে ভাল জিনিসই জড়ো করেছো ডেভিআর কয়েক বছরের মাঝে এ জায়গা সত্যি দেখার মতো কিছু একটা হয়ে উঠবে। দর্শনার্থীদের জন্যে তোমার কোন প্ল্যান আছে–এই জায়গা থেকে তুমি অনেক কিছুই পাবে। যেমনটা আছে মালা-মালাতে। ইকোনমি প্রাইস দিয়ে পাঁচ তারকা সাফারি’ কনি, আমি বেশ স্বার্থপর, কেননা এ জায়গা আমি অন্য কারো সাথে সহভাগিতা করতে চাই না।’
