অস্বস্তির সাথে নড়েচড়ে বসল পিটার, আলোচনার এই পর্যায়টাকে ঘৃণা করছে ও।
ওদের বিয়ে হয়ে গেল। পশ্চিমা ইন্ডাস্ট্রি জগতে নিজের একজন এজেন্টকে সাফল্যের সাথে বসাতে পারল এনকেভিডি। স্টিল আর অল্টম্যান আর্মামেন্টস কমপ্লেক্সে তৈরি হচ্ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, আর আমেরিকার জন্যে মিসাইল। নতুন ব্যারনেস স্টিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান হলো। আমরা ধরে নিতে পারি, মিসাইল ব্লু প্রিন্ট ব্রিফকেসে করে নয়, ট্রাকে করে পাচার করা হয়। প্রায় রোজ রাতেই পশ্চিমা জগতের রাজনীতির আর ভাগ্য বিধাতারা নতুন ব্যারনেসের সাথে মিটিংয়ে বসতেন, ব্যারনেস তাদেরকে মদ খাইয়ে খুশি করত আর তথ্য সংগ্রহ করত। প্রতিটি তথ্য মনে গেথে নিত ব্যারনেস, একবার কিছু শুনলে জীবনে কখনো ভোলে না। ধীরে ধীরে ব্যারনের ক্ষমতা কমতে লাগল, প্রতিদিন আরো বেশি করে স্ত্রীর ওপর নির্ভর করতে শুরু করলেন তিনি। ঠিক কখন থেকে ম্যাগডা ব্যারনের মোসাড তৎপরতায় সহযোগিতা করতে শুরু করে আমরা জানি না, তবে ব্যাপারটা ঘটতে শুরু করার সাথে সাথে রাশিয়ানদের প্ল্যান পরিপূর্ণ সাফল্য লাভ করে। ম্যাগডার মাধ্যমে ব্যারন অল্টম্যান হয়ে উঠল কে.জি.বি.-র ডান হাত। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, পশ্চিমা জগতের হেভি ইন্ডাস্ট্রির সিংহভাগের নিয়ন্ত্রণ চলে এল রাশিয়ার হাতে।
গোটা ব্যাপারটা চমৎকার শৃঙ্খলার সাথে চলছিল, কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করল ব্যারনেসের আসল চেহারা। এক সময় কে.জি.বি. টের পেয়ে গেল, ব্যারনেস নিজের জন্যে কাজ করছে। ম্যাগডাকে যারা নিয়ন্ত্রণ করত, তাদের চেয়ে অনেক উন্নত ব্রেনের অধিকারিণী সে এবং প্রকৃত ক্ষমতার স্বাদ পেতে শুরু করেছে।
জাত গল্প বলিয়ের মতো ডক্টর পার্কার জানেন শ্রোতাদের কিভাবে উত্তেজিত করে তুলতে হয়। মাথা নিচু করে কফির কাপে চুমুক দিলেন তিনি। বিরতির সুযোগে উঠল বরসন, সবার কাপ ভরে দিল আবার।
স্বভাবতই শেষ অস্ত্রটা ব্যবহার করল কে.জি.বি.-ভয় দেখাল ম্যাগডার কাভার ফাঁস করে দেবে তারা। অল্টম্যানের মতো ব্যক্তি যদি জানতে পানে তাকে বোকা বানানো হয়েছে, গুজব নেমে আসবে। সন্দেহ নেই, সাথে সাথে ম্যাগডাকে ডিভোর্স করবেন তিনি। ফ্রান্সে কাউকে ডিভোর্স দেয়া কঠিন, কিন্তু অল্টম্যানের জন্যে কিছুই কঠিন নয়। তার প্রোটেকশন ছাড়া ম্যাগডা মূল্যহীন-কারণ রাশিয়ানদের কাছে তার আর কোনো গুরুত্বই থাকবে না। অল্টম্যানকে হারালে ম্যাগডার ব্যক্তিগত স্বপ্নও ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। তাই বলতে হয়, কে.জি.বি-র হুমকিটা কাজের জিনিসই ছিল। কিন্তু এ ধরনের হুমকিতে কাজ হয় শুধু সাধারণ মানুষের বেলায়। কিন্তু আমরা এখানে একজন অসাধারণ মানুষকে নিয়ে আলোচনা করছি।
নিভে যাওয়া চুরুটটা আবার ধরাল পিটার। ওর সমস্ত নড়াচড়া নির্লিপ্ত লক্ষ্য করলেন ডক্টর পার্কার। তারপর ক্ষীণ একটু হাসলেন।
কথা একা শুধু বলছি। এবার তোমাকে একটা সুযোগ দিতে চাই, পিটার। সামান্য হলেও তুমি তাকে চিনো এবং গত এক ঘণ্টায় তার সম্পর্কে অনেক কিছু জানলে–ধারণা করতে পারো, এরপর কি করল সে?
মাথা নাড়তে শুরু করে হঠাৎ থেমে গেল পিটার, যেন প্রচণ্ড শক্তিতে কেউ ওকে ঘুসি মেরে বসেছে। ঠোঁট দুটো একটু ফাঁক হলো, বিস্ফারিত চোখে ডক্টর পার্কারের দিকে তাকিয়ে থাকল ও।
তুমি আন্দাজ করতে পেরেছ, মাথা ঝাঁকালেন ডক্টর পার্কার। হ্যাঁ, আমরা ধরে নিতে পারি, এ পর্যায়ে এসে ম্যাগডা নিজেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিল। পটল তুলতে বড় বেশি দেরি করছিল ব্যারন।
ক্রাইস্ট, ইটস হরিবল! যেন ব্যথা পেয়ে গুঙ্গিয়ে উঠল পিটার।
একদিক থেকে কথাটা ঠিক, পিটারকে সমর্থন করলেন ডক্টর পার্কার। কিন্তু
একজন দাবা খেলোয়াড়ের দৃষ্টিতে যদি তাকাও? অপূর্ব একটা চাল ছিল ওটা, পিটার। ম্যাগডা ব্যবস্থা করল, মনে হলো অল্টম্যানকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। সেদিন ব্যারনের সাথে যাবার জন্যে জেদ ধরে সে, সাক্ষী আছে। ব্যারনের শরীর ভালো ছিল না, নৌবিহারে যেতেই চাননি তিনি। কিন্তু ম্যাগডা তাকে জোর করে নিয়ে যায়, তাজা বাতাস আর রোদ দরকার স্বামীর। নৌ বিহারে যাবার সময় কখনোই দেহরক্ষী নিতেন না ব্যারন। তীর থেকে খানিক দূরে দ্রুগ্রামী একটা ক্রুজার অপেক্ষা করছিল–হাত দুটো দুদিকে মেলে দিলেন তিনি। খুঁটিনাটি সবই তো তোমরা জানো, তাই না?
না, অস্বীকার করল পিটার।
ক্রুজারটা সরাসরি ছুটে এসে ধাক্কা মারে ইয়টকে। পানি থেকে ব্যারনেসকে তোলা হয়, কিন্তু ব্যারন হাবুডুবু খেতে থাকে। এক ঘণ্টার পর একটা রেডিও মেসেজ রিসিড় করে স্কোস্টগার্ড, তারা গিয়ে উদ্ধার করে ব্যারনসেকে–তখনো বিধ্বস্ত ইয়টের ভাসমান টুকরো ধরে বসে ছিল সে। ব্যারনেস যাতে বেঁচে থাকে তার ব্যবস্থা কিডন্যাপাররাই করে রেখে গিয়েছিল।
তারা হয়তো চেয়েছিল দর কষাকষি করতে হলে স্বামী-ভক্ত স্ত্রীকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার।
তা সম্ভব। এবং তার পর আদর্শ স্ত্রীর ভূমিকাই পালন করে সে। মুক্তিপণ চাওয়া হলো, ব্যারনেস ম্যাগডা অল্টম্যান ইন্ডাস্ট্রির বোর্ড অভ ডাইরেক্টরদের বাধ্য করল পঁচিশ মিলিয়ন ডলার হাতছাড়া করতে। সে একা মুক্তিপণের টাকা কিডন্যাপারদের দিয়ে আসতে গেল–সম্পূর্ণ একা।
