কিন্তু টাকার তার দরকার ছিল না।
কেন ছিল না? নিশ্চয়ই ছিল! দ্বিমত পোষণ করলেন ডক্টর পার্কার। ব্যারনেসের ওপর যতই নির্ভর করুন অল্টম্যান, স্বভাবে তিনি কড়া হিসেবী ছিলেন। চেক বই কখনো তিনি হাতছাড়া করেননি। ধনী একজন লোকের স্ত্রী হিসেবে ম্যাগডা যা খুশি তাই চাইতে পারত, চেয়ে পেতে পারত–ফার, অলঙ্কার, চাকর-বাকর, গাড়ি, কাপড়চোপড়, দ্বীপ বা বাড়ি, ঘোড়া বা ইয়ট, হাতখরচা-বছরে দুলাখ ডলার, বেতন হিসেবে। সাধারণ একজন স্ত্রী এতেই সন্তুষ্ট থাকত, কিন্তু ম্যাগডা তা ছিল না। বিপুল ক্ষমতার অধিকারিণী হবার জন্যে বিপুল টাকার দরকার ছিল তার। পঁচিশ মিলিয়ন ডলার পুঁজি হিসেবে খুব কম নয়, পরে মূল তহবিলে তো হাত পড়বেই। গাড়িতে করে টাকা নিয়ে রওনা হয়ে গেল সে-প্রতিটি এক হাজার সুইস-ফ্রাঙ্কের নোট ছিল ওগুলো আমার ধারণা। পরিত্যক্ত একটা এয়ারফিল্ডে পৌঁছায় সে, একটা প্লেন এসে টাকাগুলো তুলে নিয়ে যায় সুইটজারল্যান্ডে। নিখুঁত, তাই না?
কিন্তু,–প্রতিবাদ করার জন্যে উপযুক্ত শব্দ খুঁজল পিটার। কিন্তু ব্যারনকে নির্যাতন করা হয়। ম্যাগডা কিভাবে…?
মৃত্যু মৃত্যই, নির্যাতন হয়তো অন্য কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে থাকবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আমরা একটা ইস্টার্ন বেন নিয়ে আলোচনা করছি। হতে পারে ব্যারনকে নির্যাতন করা হয় স্ত্রীর ওপর থেকে সন্দেহ দূর করার জন্যেই। দেখ না, নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তুমিও ম্যাগডাকে নির্দোষ বলে ভাবতে চাইছ।
কথাটা সত্যি, ভাবল পিটার। স্বামীকে কেউ যদি খুন করতে পারে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্যে তাকে ক্ষত-বিক্ষত করা তার জন্যে অসম্ভব কি। না, প্রতিবাদ করার আর কিছু নেই ওর।
এবার এসো, দেখা যাক এ পর্যন্ত কি পেল ম্যাগডা। বিপুল ক্ষমতা অর্জনের পথে ব্যারন একটা বাধা ছিল, বাধাটা আর থাকল না। ম্যাগডার অনেক ইচ্ছায় বাদ সাধতেন তিনি, সে সব সমস্যাও দূর হলো–যেমন, ম্যাগডা চাইত দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ত্র বিক্রি করবে না, কিন্তু ব্যারন বাজার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভারি পছন্দ করতেন এবং জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আগে পর্যন্ত স্ত্রীর আপত্তি কানে না তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার এয়ারক্রাফট, মিসাইল, আর লাইট আর্মামেন্টস বিক্রি করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি সহানুভূতি ছিল ব্যারনের, অবশ্যই তার একটা কারণ এই যে সে দেশের শ্বেতাঙ্গ সরকার ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। ব্যারনেস ম্যাগডার দক্ষিণ আফ্রিকা বিরোধী মনোভাবের কথা ভুলে যেয়ো না, এ প্রসঙ্গে পরে আমরা ফিরে আসব।
দুনম্বর বাধা ছিল রাশিয়ান নিয়ন্ত্রণ, তাদের সাথে সম্পর্কের ইতি ঘটিয়ে সে বাধাও দূর করল ম্যাগডা। নিজেকে রক্ষার জন্যে প্রাইভেট একটা বাহিনি মোতায়েন করল সে। অল্টম্যান মারা যাবার পর তার সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী হলো ম্যাগডা, সে তখন ফরাসি সরকারের মর্যাদার অন্যতম প্রতীক, প্রাক্তন প্রভুরা তাকে স্পর্শ করার সাহস পেল না। পুঁজি হিসেবে তার হাতে এসেছে পঁচিশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এই টাকার হিসাব কাউকে তার দিতে হবে না। ইন্ডাস্ট্রিগুলোর রয়েছে তথ্য সংগ্রহের বিপুল আয়োজন, ফলে ফরাসি সরকার পর্যন্ত সমীহ করতে শুরু করল তাকে। ম্যাগডা ফ্রেঞ্চ ইন্টেলিজেন্সকেও যতদূর পারে নিজের কাজে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে নিল। তারপর, মোসাড কানেকশন তো ছিলই…
হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল পিটারের, ম্যাগডা প্রায়ই ওকে তার তথ্য সংগ্রহের উৎসের কথা বলেছে, কিন্তু উৎসগুলোর পরিচয় প্রকাশ করেনি কখনো ম্যাগডা কি নিজের প্রাইভেট এজেন্সির মতো একইভাবে ফ্রেঞ্চ আর ইসরায়েলি ইন্টেলিজেন্সকে ব্যবহার করার যোগ্যতা রাখে? অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার। কিন্তু ব্যারনেস ম্যাগডার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব…।
এরপর আরেক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ম্যাগডা। কোম্পানি থেকে স্বামীর ভক্ত আর বন্ধুদের কৌশলে সরাতে লাগল সে, যারা তার কাজে বাধা দিতে পারে। কাজটা কৌশলে আর সময় নিয়ে করল সে। কৌশলে আর সময় নিয়ে এবার আসল কাজেও হাত দিল ম্যাগডা। গোটা মানবজাতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিতে হলে প্রথমে দরকার নিজের অপছন্দের রাষ্ট্রগুলোকে টার্গেট করা। তাই করেছে ম্যাগডা। কেন সে খলিফা নামটা বেছে নিল তা অবশ্য বলতে পারব না…
আপনি বোধ হয় ভুল করছেন, ডক্টর পার্কার। আঙুল দিয়ে চোখের কোণ টিপে ধরল পিটার। ব্যারনেস ম্যাগডাকে আপনি ঠিক চিনতে পেরেছেন বলে মনে হয় না…।
আমি কেন, কেউ তাকে চেনে বলে বিশ্বাস করি না, পিটার, বিড়বিড় করে বললেন ডক্টর পার্কার, পাইপের তামাক ঝাড়লেন অ্যাশট্রেতে। দুঃখিত, খুব তাড়াতাড়ি কথা বলছি আমি। কোনো প্রশ্ন করার জন্যে আরেকটু পেছনে যেতে চাও তুমি, পিটার?
না, ঠিক আছে। চোখ মেলল পিটার! আপনি বলে যান, প্লিজ।
খুব চালাকির সাথে প্ল্যানটা করে ম্যাগডা। দক্ষিণ আফ্রিকার কালোদের পক্ষে কেউ যদি কিছু করতে চায়, গোটা দুনিয়ার সমর্থন পেয়ে যাবে তারা, এই কথাটা মনে রেখে জিরো-সেভেন-জিরোকে ওখানে নিয়ে যায় সে। শর্ত দেয় কালোদের নেতাদের মুক্তি দিতে হবে, সাথে দিতে হবে চল্লিশ টন সোনা। আর চল্লিশ টন সোনা আর দক্ষিণ আফ্রিকা–সবই থাকত খলিফার হাতের মুঠোয়।
