কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকলেন ডক্টর পার্কার, তারপর কলিনের দিকে ফিরে অনুরোধ করলেন, তুমি কি বল, কলিন, একটু কফি হলে ভালো হতো না?
কফি মেশিনের সামনে গিয়ে দাঁড়াল কলিন।
বিরতি পেয়ে চিন্তা করার সুযোগ হলো পিটারের। ডক্টর পার্কারের কাহিনিতে খুঁত খুঁজল, কিন্তু পেল না। ব্যারনেস ম্যাগডার সাথে কাটানো সময়গুলোর কথা মনে পড়ে গেল। তার স্পর্শ, মধুর সংলাপ, কোমল কটাক্ষ, ব্যাকুল উদ্বেগ-মনে পড়লেই পুলকে শিরশির করে ওঠে শরীর। কোনো মেয়েকে ট্রেনিং দিয়ে এতটা ঝানু নিখুঁত করা সম্ভব কি?
নিচু টেবিলে সবার সামনে কফির কাপ রাখল কলিন। আবার শুরু করলেন ডক্টর পার্কার।
তারপর সে প্যারিসে ফিরে এল এবং তার পায়ে লুটিয়ে পড়ল প্যারিস। এল, এবং জয় করল ম্যাগডা। ফাইল থেকে ম্যাগডার কয়েকটা ছবি বের করলেন তিনি। এলিসি প্রাসাদে নাচছে ম্যাগডা, ব্লু রয়্যালের সামনে একটা রোলস-রয়েসে চড়ছে, সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে করমর্দন করছে, বরফ ঢাকা নিরিবিলি প্রান্তরে স্কি করছে, ঘোড়ার পিঠে বসে তীরবেগে মাঠ পেরোচ্ছে। অভিজাত ভঙ্গি, হাসিখুশি, গর্বিত। প্রতি ছবিতে তার সঙ্গে পুরুষ আছেই। ধনী, সুদর্শন, ক্ষমতাবান পুরুষ।
তোমাকে আমি আগেই জানিয়েছি, ছয়জনের সাথে যৌন সম্পর্ক ছিল তার, চেহারায় অস্বস্তি এবং তিক্ত ভাব নিয়ে বললেন ডক্টর পার্কার। সংখ্যাটা বদলাবার কারণ ঘটেছে। ফ্রেঞ্চরা এ সব ব্যাপারে খুঁটিয়ে জানতে পছন্দ করে, তালিকাটা আরো লম্বা করে দিয়েছে তারা। পিয়েরে হ্যামন্ড, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার এবং মার্ক ভিনসেন্ট, আমেরিকান কনসুলেটে হেড অভ দি মিশন। ফটোগুলো পিটারের দিকে বাড়িয়ে দিলেন তিনি।
একবার চোখ বুলিয়ে মাথা ঝাঁকাল পিটার। বলে যান। না দেখেই ম্যাগডার পুরুষ সঙ্গীদের চেহারা-আকার সম্বন্ধে সঠিক অনুমান করেছিল সে।
তার প্রভুরা কি রকম খুশি হয়েছিল বুঝতেই পারছ। একজন পুরুষ এজেন্টকে দিয়ে কাজ পেতে হলে অনেক সময় দশ-বারো বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ম্যাগডা সাথে সাথে ডিম পাড়তে শুরু করল। তার সাফল্য সম্পর্কে বিশদ আমরা জানতে পারিনি, রাশিয়ানরা সব কথা বলেনি আমাদের। তবে তারা বুঝতে পারে ম্যাগডা তাদের একটা অমূল্য সম্পদ। কিন্তু সেই সাথে এও তারা উপলব্ধি করে, ম্যাগডার রূপ-যৌবন একদিন শেষ হয়ে যাবে। আমরা ঠিক জানি না, ম্যাগডার প্রভুরাই ব্যারন অ্যারন অল্টম্যানকে নির্বাচন করেছিল কিনা। সম্ভবত তাই। পশ্চিম ইউরোপের অন্যতম একজন ধনী ব্যক্তি, যিনি স্টিল আর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবসার বেশিরভাগটাই নিয়ন্ত্রণ করেন, যার রয়েছে এককভাবে সেরা আর্মামেন্ট কমপ্লেক্স, ইলেকট্রনিক্স সাম্রাজ্য, টার্গেট হিসেবে আদর্শ নয়? ব্যারনের স্ত্রী গত হয়েছে, কোনো সন্তানাদি নেই, কাজেই আবার তিনি বিয়ে করলে তার দ্বিতীয় স্ত্রীই হবে বিপুল সম্পত্তি আর বিত্ত-বৈভবের একমাত্র উত্তরাধিকারী। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ধীরে ধীরে হারছেন ভদ্রলোক, অর্থাৎ তার আয়ু বেশিদিন নেই। তিনিও একজন ইহুদি এবং মোসাডের পুরানো ও বিশ্বস্ত এজেন্ট। ভেবে দেখো, পিটার, এ ধরনের একজন লোকের সাথে নিজেদের এজেন্টকে ভিড়িয়ে দিতে পারলে কি লাভ।
ব্যারন সম্পর্কে বিস্তারিত সব জানা আছে আমার। আরেকজন অসাধারণ মানুষ। সিংহের মত দুর্জয় সাহস, সমস্ত বিষয়ে সেরা জিনিসটির ভক্ত। কৌশলে এবং ধীরে ধীরে তার কাছাকাছি হলো ম্যাগডা। এবং নিজ গুণে জয় করল তার মন। দুবছর কাটল, ম্যাগডা প্রমাণ করল তাকে ছাড়া ব্যারনের চলে না। কিন্তু নিজেকে সস্তা হতে দেয়নি ম্যাগডা, ব্যারনের যৌন-ক্ষুধার খোরাক হতে দেয়নি শরীরটাকে।
ব্যারনের নারী-প্রীতি ছিল কিংবদন্তীর মতে, ইউরোপের যে কোনো সুন্দরীকে চাইলেই পেত সে এবং চাইতেও দ্বিধা করত না। সন্তানাদি না হওয়ার অবশ্য একটা কারণ ছিল–যুবা বয়সের পদ্মস্থলন দায়ী। হ্যাঁ, যৌনরোগ। রোগটা অবশ্য পরে সম্পূর্ণ সেরে যায়, কিন্তু ক্ষতিটা পূরণ করা যায়নি। ব্যারন সন্তানোৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়েন।
ভক্টর পার্কার আরেকটা ফটো উল্টো করে ধরলেন পিটারের দিকে। গভীর মনোযোগর সাথে ব্যারন অল্টম্যানকে দেখল পিটার। শালপ্রাংশু শরীর, ষাড়ের মতো চওড়া কাঁধ, ইস্পাত-কঠিন নিরেট চোয়াল। যৌন-কাতর এবং কামুক অনেক লোকের মতোই তার মাথায় চুল নেই, কামানোর গোলা আকৃতির খুলির কিনারায় কাঁচাপাকা কয়েক গাছি ফিতের মতো সেঁটে আছে শুধু। হাসছে না, কিন্তু ঠোঁটের বঙ্কিম রেখা, আর সূতীক্ষ দৃষ্টির ভেতর থেকে ফুটে বেরুচ্ছে নির্দয় কৌতুকের ভাব। ক্ষমতার প্রতিমূর্তি ভাবল পিটার।
অবশেষে যখন ব্যারনকে শরীর জয় করার অধিকার দিল ম্যাগডা, নিশ্চয়ই বজ্রপাত সহ তুমুল ঝড়-ঝঞ্জর মতো ছিল ব্যাপারটা। ডক্টর পার্কার ম্যাগডা অল্ট ম্যানের যৌন-জীবন নিয়ে বেশি কথা বলছেন, যে তথ্যগুলো পাচ্ছে পিটার সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আপত্তি করতে গিয়েও নিজেকে সামলে রাখল ও। দুজনেই সব দিক থেকে অসাধারণ, পরস্পরের উপযুক্ত। এক কোটি মানুষের মধ্যে ব্যতিক্রম একজোড়া নর-নারী। ওদের একটা বাচ্চা হতে পারলে কি ঘটত, গবেষণার বিষয় বৈকি। আমার ধারণা, বাচ্চাটা হতো মঙ্গোলিয়ান গর্দভ। ঠোঁট টিপে একটু হাসলেন তিনি। লাইফ ইজ লাইক দ্যাট।
