এইমাত্র আমি যা বললাম, তাতে আমাদের সম্পর্ক কি আগের মতো থাকছে? জানতে চাইল পিটার। আমি আপনাকে খুন করতে পারতাম, এটা জানার পর আপনি কি আমাকে আগের মতো বিশ্বাস করতে পারবেন?
মজার কথা কি জানো, তোমার সম্পর্কে আমার যে ধারণা, এই ঘটনা থেকে সেটা আরো দৃঢ় হলো। আমাদের যেমন দৃঢ়, নির্দয় লোক দরকার তুমি ঠিক তাই। সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে তোমার মতো লোক ছাড়া আমার চলবে না। ক্ষীণ একটু হাসলেন তিনি। কথাটা ভেবে আজ রাতে আমি হয়তো ঘেমে গোসল হব বিছানায় কিন্তু বিশ্বাস কর, তোমার আমার কাজ বা দায়িত্ব তাতে বদলাবে না।
৫. চুরুট ফুঁকছে কলিন
চুরুট ফুঁকছে কলিন, তার সামনে বসে পাইপ টানছেন ডক্টর পার্কার, যেন প্রতিযোগিতা চলছে কার আগে কে ঘরটা ভরে তুলতে পারে ধোঁয়ায়। থোর কমান্ডের অস্থায়ী হেডকোয়ার্টারে এখনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হয়নি। ওদের কীর্তিকলাপ দেখে নিজে আর ধূমপান করতে সাহস পেল না পিটার। অস্বস্তি বোধ করলেও, এমন সব কথা শুনতে হলো ওকে যে খানিক পর ধোঁয়ার অস্তিত্ব চোখে বা নাকে আর ধরাই পড়ল না।
আইরিশ অপারেশন সম্পর্কে রিপোর্ট দিচ্ছে কলিন। লারাগের পোড়াবাড়ি সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে, কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। অস্টিনটা চুরি করা হয় ডাবলিন থেকে, নতুন রঙ আর রুফ ক্যারিয়ার পরে লাগানো হয়। গাড়িতেও কিছু পাওয়া যায়নি। বাড়ি বা গাড়ি, দুটোই এক্সপার্টরা পরীক্ষা করে দেখেছে।
লোকগুলো সম্পর্কে বল। নড়েচড়ে বসল পিটার।
ইয়েস, স্যার। প্রথমে যারা মারা গেছে। জিলি ও’ শওনেসি, উনিশশো আটান্ন সালে বেলফাস্টে জন্ম,সামনের টেবিল থেকে একটা ফাইল তুলে খুলল কলিন, পাঁচ ইঞ্চি মোটা। সব পড়ার দরকার আছে কি? মনে হয় না। লোকটা পরিচিত টেরোরিস্ট, বহুবার জেল ভেঙে পালিয়েছে। এই কেসটার সাথে কিভাবে সে জড়াল জানা যায়নি। এবার, তার পকেটে যা পাওয়া গেছে। ফাইল বন্ধ করল সে। তেমন কিছু নয়, অন্তত আমাদের কাজে আসার মতো কিছু নয়। পনেরোশ পাউন্ড ট্রাভেলার্স চেক, পয়েন্ট থারটি-এইট অ্যামুনিশন আটত্রিশ রাউন্ড। কাগজপত্র পাওয়া গেছে এডওয়ার্ড এবং হেলেন ব্যারি নামে। এবারে, অপরজন। মরিসন ক্লউদ মরিসন, কুখ্যাত অ্যাবরশনিস্ট এবং মদ্যপ। কম করে হলেও পনোরো বছরের জেল হবে তার। গুরুত্বপূর্ণ একটাই তথ্য পেয়েছি তার কাছ থেকে। দলটা ছিল দুজনের, লীডার ছিল জিলি ও’ শওনেসি। যা কিছু করেছে সে জিলির নির্দেশে করেছে, আর জিলি ও’ শওনেসি অন্য একজনের কাছ থেকে নির্দেশ পেত। এই অন্য একজনের নাম আমরা আগেই শুনেছি। খলিফা।
এখানে একটা পয়েন্ট রয়েছে, বাধা দিয়ে বললেন ডক্টর পার্কার। খলিফা তার নাম ব্যবহার করতে পছন্দ করে। পিটারকে লেখা চিঠিতেও সে তার নিজের নাম সই করেছিল। এখন দেখা যাচ্ছে খুব নিচুস্তরের শিষ্যদেরও নিজের নাম জানতে দিয়েছে সে। কেন?
উত্তরটা আমি দিতে পারব। মাথা তুলল পিটার। সে চায় আমরা জানি তার অস্তিত্ব আছে। ভয় আর ঘৃণা কাকে করব? একজন থাকতে হবে তো? নামটা প্রচার করছে সে, আর কাজের মধ্যে দিয়ে অবয়বের একটা ধারণা দিচ্ছে, আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি ভীতিকর সে।
তোমার সাথে আমি একমত। প্রকাণ্ড মাথাটা গম্ভীরভাবে ঝাঁকালেন ডক্টর পার্কার। নিজের নাম ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করছে সে, এক সময় এটা থেকে অনায়াসে ফায়দা লুটবে। ভবিষ্যতে খলিফা যখন খুন করার বা ক্ষতি করার হুমকি দেবে আমরা ধরে নেব সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠেছে এবং আপোষের কোনো প্রশ্ন থাকবে না। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রে সে তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবে। সে বা তারা, চতুর সাইকোলজিস্ট।
আইরিশ অপারেশনের একটা দিক নিয়ে একটু মাথা ঘামানো দরকার,বলল পিটার। কে আমাদের খবরটা দিল, তার টেলিফোন করার পিছনে কারণ কি? পুরস্কার দাবি করল না কেন?
সবাই ওরা চুপ করে থাকল, অবশেষে কলিনের দিকে ফিরল পিটার। তোমার কি ধারণা?
পুলিশের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি আমি। ওদের কাছেও ব্যাপারটা রহস্যময়। ইন্সপেক্টর অ্যালান রিচার্ডসের বিশ্বাস, আয়ারল্যান্ডকে বেছে নেয়ার কারণ জায়গাটা শওনেসির পরিচিত, ওখানে তার পুরানো বন্ধুরা আছে। এক সময় ওখানে থাকত সে। এখানে সে যত সহজে গাড়ি এবং জিনিসপত্র জোগাড় করেছে, লন্ডন বা এডিনবার্গে ব্যাপারটা তত সহজ নয়।
পিটারের নির্লিপ্ত চেহারা দেখে কলিন বুঝল, ব্যাখ্যাটা ওর মনে ধরছে না।
বন্ধু যেমন ছিল, তেমনি ওখানে শত্রুও ছিল জিলির, আবার শুরু করল কলিন। আয়ারল্যান্ড ত্যাগ করার পর অনেকেই তার ওপর খেপে ছিল। পুলিশের মতো আমারও ধারণা, তার পুরানো বন্ধুদেরই কেউ প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে আমাদের টেলিফোন করে। রেকর্ড করা ফোন কলটা ভাষা বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করানো হয়েছে, কম্পিউটারে নেই, আবার থাকতেও পারে। কথা বলার সময় ইচ্ছে করে কণ্ঠস্বর বিকৃত করা হয়, নোজ প্লাগ ব্যবহার করা হয়েছিল, অথবা মুখে রুমাল ধরা ছিল। ভাষা বিশেষজ্ঞের ধারণা, কোনো আইরিশ লোক ফোনে কথা বলেছে। টেলিফোন ডিপার্টমেন্ট থেকে জানা গেছে, কলটা করা হয় দেশের বাইরে থেকে বেশিরভাগ সম্ভাবনা আয়ারল্যান্ড থেকে, কিন্তু নিশ্চতভাবে কিছু বলা যায় না।
