মুখ তুলে তাকাল পিটার।
তুমি তেমন একজন মানুষ, পিটার। অন্তত আমার তাই বিশ্বাস। পিটারের কাঁধ থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে সিধে হলেন ডক্টর পার্কার, তার চেহারা বদলে নির্লিপ্ত হয়ে গেল। ব্যবস্থা করেছি, কাল কলিনের সাথে আমাদের দেখা হবে। আইরিশ অপারেশনের গোটা ব্যাপারটা তদন্ত করে দেখছে সে। তার রিপোর্ট পাবার পর বিষয়টা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারব। থোর কমান্ডে, বেলা দুটোয়, ঠিক আছে?
জ্বী।
তাহলে এসো মেজবান ভদ্রলোককে একটু সঙ্গ দিই এবার…, দরজার দিকে এগোলেন ডক্টর পার্কার।
ডক্টর পার্কার, এক মিনিট, তাকে থামিয়ে দিল পিটার। আপনাকে একটা কথা বলার আছে আমার। সব শোনার পর আমার সম্পর্কে আপনার এখনকার ধারণা পাল্টেও যেতে পারে।
ইয়েস?
দরজার দিকে পিছন ফিরে পিটারের দিকে তাকালেন ডক্টর পার্কার।
আপনি জানেন, মেলিসাকে যারা কিডন্যাপ করেছিল তারা মুক্তিপণ চায়নি, বা কারও সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি।
হ্যাঁ, এবং ব্যাপারটা এখনো আমার কাছে একটা রহস্য হয়ে আছে।
কথাটা সত্যি নয়। ওরা যোগাযোগ করেছিল।
তোমার কথা বুঝলাম না। চিন্তার ভাঁজ পড়ল ডক্টর পার্কারের কপালে, তীক্ষ্ণ চোখে পিটারের দিকে তাকিয়ে থাকলেন তিনি, পিটারের মুখে কি যেন খুঁজছেন।
কিডন্যাপাররা আসলে আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল। চিঠিটা আমি পুড়িয়ে ফেলি।
কেন? ডক্টর পার্কারের কণ্ঠস্বর গমগম করে উঠল।
বলছি। মেলিসাকে ছাড়ার ব্যাপারে একটা মাত্র শর্ত দিয়েছিল ওরা, শর্তটা দু সপ্তাহর মধ্যে পূরণ করতে হবে। তা না হলে ওরা মেলিসাকে মেরে ফেলবে। প্রথমে আঙুল কেটে পাঠায়, তারপর হাত কাটবে, তারপর পা এবং সবশেষে মাথা পাঠাবে বলে জানায়।
কি স্পর্ধা? বিড়বিড় করে বললেন ডক্টর পার্কার। কি অমানবিক! শর্তটা কি ছিল?।
জীবনের বদলে জীবন, বলল পিটার। মেলিসাকে ফেরত পেতে হলে আপনাকে আমার খুন করতে হবে।
আমাকে? চমকে উঠলেন ডক্টর পার্কার, বিস্ময়ের ধাক্কায় তার মাথা পিছন দিকে ঝাঁকি খেল। ওরা আমাকে চেয়েছিল?
উত্তর না দিয়ে তাকিয়ে থাকল পিটার। ডক্টর পার্কারও তাকিয়ে থাকলেন। তারপর নড়ে উঠলেন তিনি, আঙুল চালালেন মাথার চুলে।
গোটা ব্যাপারটা তাহলে বদলে গেল। সব কিছু সাবধানে, নতুন করে ভেবে দেখতে হবে আমাকে। মাথা নাড়লেন ডক্টর পার্কার। আমাকে? অ্যাটলাসের প্রেসিডেন্টকে? কেন? অ্যাটলাসে এককভাবে আমি সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী, তাই? উঁহু, তা নয়।
তাহলে? জিজ্ঞেস করল পিটার।
সম্ভাব্য মাত্র একটাই ব্যাখ্যা আছে। মনে আছে, তোমাকে আমি বলেছিলাম নির্দিষ্ট একটা কেন্দ্র বা সেন্টার থেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে? কেউ একজন প্রচণ্ড ক্ষমতা নিয়ে মাথা চাড়া দিচ্ছে, পিটার। জ্ঞাত অজ্ঞাত সমস্ত টেরোরিস্ট গ্রুপগুলোকে এক করছে সে, একজন পাপপটমাস্টার। তোমাকে তাহলে বলেই ফেলি, পিটার-এই লোকটাকে খুঁজছি আমি। তোমার সাথে শেষবার দেখা হবার পর তার সম্পর্কে আরো অনেক খবর পেয়েছি আমি–তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আর কোনো সন্দেহ নেই।
অ্যাটলাসের জন্যে আরো ক্ষমতা সেজন্যেই চেয়েছি আমি, লোকটা বাড়তে বাড়তে নাগালের বাইরে চলে যাবার আগে তাকে আমি ধ্বংস করতে চাই। একটু থেমে কি যেন ভাবলেন। তারপর আবার বললেন, আমি যেমন তার সম্পর্কে সচেতন, এখন জানা গেল সেও আমার সম্পর্কে সচেতন। আমি যে তার বিরুদ্ধে লাগতে যাচ্ছি, সে জানে। তোমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার ভান করে আমি যখন তোমাকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করলাম, ভেবেছিলাম শত্রু তোমার সাথে যোগাযোগ করবে। কিন্তু, গড নোজ, যোগাযোগটা এ ধরনের হবে তা আমি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করিনি।
নিভে যাওয়া পাইপে আগুন ধরালেন তিনি। আবার পায়চারি শুরু করলেন। অবিশ্বাস্য! যাকে আমি ভুলেও সন্দেহ করতাম না–তুমি। ওহ পিটার, যে কোনো সময় অনায়াসে আমার কাছে পৌঁছুতে পারো তুমি। আর হয়তো দুই কি তিনজন এই সুযোগ ভোগ করে। এবং দেখ, লিভার হিসেবে কি ব্যবহার করেছে ওরা! তোমার আদরের মেয়ে! ওহ্ গড়, শত্রুকে আমি ছোট করে দেখেছি!
আপনি কি কখনো খলিফা নামটা শুনেছেন? জিজ্ঞেস করল পিটার।
কর্কশ কণ্ঠে পাল্টা প্রশ্ন করলেন ডক্টর পার্কার, তুমি কোত্থেকে শুনলে?
চিঠিটায় সই ছিল, জিলি ও’ শওনেসি আর ডাক্তারের মুখে মেলিসাও নামটা শুনেছে।
খলিফা। মাথা ঝাঁকালেন ডক্টর পার্কার। হ্যাঁ, নামটা আমি শুনেছি, পিটার। তোমার সাথে শেষবার দেখা হবার পর। নিঃশব্দে কিছুক্ষণ পাইপ টানলেন তিনি, তারপর মুখ তুললেন। কাল থোরে দেখা হলে কিভাবে, কখন, সব তোমাকে বলব। আজকের মতো যথেষ্ট হয়েছে, তাই না? অন্তত আমার রাতের ঘুম হারাম করার জন্যে যথেষ্ট। বিরাট একটা ফাড়া কাটল মনে হচ্ছে!
দরজার কাছে পৌঁছে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালেন ডক্টর পার্কার। পিটার, কাজটা কি তুমি করতে? শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
চোখ থেকে চোখ না সরিয়ে উত্তর দিল পিটার, করতাম, ডক্টর পার্কার।
যদি করতে, কিভাবে করতে পিটার?
এক্সপ্লোসিভ ব্যবহার করতাম।
বিষের চেয়ে ভালো, ঘোঁৎ করে বললেন ডক্টর পার্কার। তবে পিস্তলের চেয়ে খারাপ। পরমুহূর্তে রেগে গেলেন তিনি। লোকটাকে আমাদের থামাতে হবে, পিটার! এ এমন একটা দায়িত্ব যেটাকে সবকিছুর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
