মাথা ঝাঁকিয়ে নিঃশব্দে ধন্যবাদ জানাল পিটার। জায়গার নামটা আগে কখনো শুনিনি। লারাগ। সম্ভবত ছোট একটা জায়গা…
ম্যাপ আনতে পাঠিয়েছে, বলল ইন্সপেক্টর, তারপর ম্যাপ এসে পৌঁছুবার সাথে সাথে দুজন হুমড়ি খেয়ে পড়ল সেটার ওপর। লারাগ-উইকলো পাহাড়ের ঢালে, উপকূল থেকে দশ মাইল ভেতরে। লার্জ-স্কেল ম্যাপ থেকে তার বেশি কিছু জানা গেল না। আবার ডাবলিন পুলিশ যোগাযোগ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।
মাথা ঝাঁকাল পিটার। না। আমি চাই আপনি যোগাযোগ করুন। ওদের বলুন ওরা যেন সার্ভেয়ার-জেনারেলের সাথে কথা বলে। তার কাছে ডিটেলড় ম্যাপ পাওয়া যাবে-গ্রামের ম্যাপ, এরিয়াল ফটোগ্রাফস, স্ট্রীট লে-আউট। ওদের বলুন, এ-সব একজন লোককে দিয়ে যেন এনিসকেরী এয়ারফিল্ডে পাঠিয়ে দেয়া…
এখুনি কি এতটা ব্যস্ত হওয়া উচিত হবে? এটাও যদি ফলস অ্যালার্ম হয়?
স্থির হয়ে বসে থাকতে পারল না পিটার, লাফ দিয়ে চেয়ার ছেড়ে পায়চারি শুরু করল। এক গ্যালন পেট্রল আর ড্রাইভারের সময় খরচ হবে, তাই না? ফলস অ্যালার্ম? হতে পারে, কিন্তু আমার তা মনে হয় না। জানোয়ারটার গন্ধ পাচ্ছি আমি।
হতভম্ব হয়ে পিটারের দিকে তাকাল ইন্সপেক্টর।
সেটা লক্ষ্য করে তাড়াতাড়ি বাতাসে হাত ঝাপটা দিল পিটার, ও কিছু না, এ ম্যানার অভ স্পীচ। পরমুহূর্তে মাথায় একটা চিন্তা খেলে গেল। হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু তাতেও সমস্যা আছে, মাঝপথে রিফুয়েলিংয়ের দরকার হবে। তিন সেকেন্ড চিন্তা করে একটা সিন্ধান্তে পৌঁছুল ও। ইন্সপেক্টরের ডেস্কের সামনে থেমে ক্রেডল থেকে ফোনের রিসিভার তুলে থোর কমান্ডে কলিনের প্রাইভেট নম্বরে ডায়াল করল।
কলিন, উত্তেজনায় অধীর হয়ে পড়েছে পিটার, চাপা গলায় কথা বলছে। এইমাত্র একটা ইনফরমেশন পাওয়া গেছে। এখনো কনফার্মড় কিছু নয়। তবে আমার মন বলছে, এখানেই।
কোথায়? ব্যগ্রকণ্ঠে জানতে চাইল কলিন।
আয়ারল্যান্ড।
মাই গড, এত থাকতে ওই নরকে!
এনসিকেরীতে পৌঁছুতে কতক্ষণ লাগবে হেলিকপ্টারের?
এক সেকেন্ড। পিটার শুনতে পেল, কার সাথে যেন পরামর্শ করছে কলিন, সম্ভবত রয়্যাল এয়ারফোর্সের কোনো পাইলটের সাথে। ত্রিশ সেকেন্ড পর লাইনের ফিরে এল সে। মাঝপথে ফুয়েল নিতে হবে ওদের, পিটার।
হ্যাঁ?
চার ঘণ্টা তিরিশ মিনিট, কলিন জানাল।
দশটা বিশ এখন, তাই না? এনিসকেরীতে পৌঁছুতে প্রায় তিনটে বেজে যাবে। আবহাওয়ার যা অবস্থা, পাঁচটার মধ্যে অন্ধকার হয়ে যাবে। দ্রুত চিন্তা করছে। পিটার। আয়ারল্যান্ড অনেক দূরের পথ, থোর কমান্ডকে পাঠানো উচিত হবে কি? ওখানে পৌঁছুবার পর যদি জানা যায় ব্যাপারটা ফলস অ্যালার্ম আর ঠিক তখনই যদি সঠিক কোনো খবর স্কটল্যান্ড বা ইংল্যান্ড থেকে আসে? উঁহু, এত কথা ভাবলে চলবে না। মনের কথা শুনতে হবে। জানোয়ারটার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ব্রাভো কন্ডিশন ঘোষণা করার জন্যে কলিনকে অর্ডার করতে পারে না ও। ডক্টর কিংস্টোন পাকার মুখে যাই বলুন, থোর কমান্ডের কমান্ডিং অফিসার এখন পিটার নয়, কলিন।
কলিন, বলল পিটার, আমার একটা অনুরোধ রাখবে? আমরা যদি আধ ঘণ্টাও দেরি করি, অন্ধকার হবার আগে মেলিসাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। তুমি কি কন্ডিশন ব্রাভো ঘোষণা করবে?
অনেকক্ষণ কথা বলল না কলিন। শুধু তার হালকা নিঃশ্বাসের আওয়াজ পেল পিটার। তারপর শুনতে পেল, খুব বেশি হলে চাকরিটা হারাতে হবে। ঠিক আছে, স্যার, কন্ডিশন ব্রাভো ঘোষণা করা হলো। পনেরো মিনেটের মধ্যে হেলিপ্যাড থেকে আমরা তোমাকে তুলে নেব, তৈরি থেকো।
.
মেঘের রাজ্যে ভাঙচুর শুরু হয়েছে, কিন্তু আগের চেয়ে আরো চঞ্চলমতি হয়ে উঠেছে বাতাস। খোলা হেলিপ্যাডে দাঁড়িয়ে ঠাণ্ডায় হি হি করছে পিটার আর ইন্সপেক্টর অ্যালান রিচার্ডস। ট্রেঞ্চ কোট, ব্লেজার, আর রোলনেক জ্যাকেট পরে আছে পিটার, সব ভেদ করে চামড়ায় হুল ফোঁটাচ্ছে হিম বাতাস। অশান্ত টেমস নদীর ওপারে, দিগন্তরেখার দিকে তাকিয়ে আছে ওরা, যে কোনো মুহূর্তে হেলিকপ্টারগুলোকে দেখা যাবে।
এনিসকেরীতে আপনারা পৌঁছুবার আগেই এখানে বসে আমি যদি কনফার্ম নিউজ পেয়ে যাই?
রয়্যাল এয়ারফোর্সের ফ্রিকোয়েন্সিতে পাবেন আমাদের, বলল পিটার।
বাতাসে উড়ে যাবার ভয়ে হ্যাটটা এক হাতে চেপে ধরে আছে ইন্সপেক্টর। তার জ্যাকেটের কিনারা পতাকার মতো পতপত করে উড়ছে। আশা করি আপনাকে কোনো দুঃসংবাদ দিতে হবে না।
বাড়িগুলোর ছাদ প্রায় ছুঁয়ে ছুটে এল কপ্টার দুটো। একশ ফিটের মধ্যে আসার পর একটা কপ্টারের দোরগোড়ায় কলিন নোবলকে চিনতে পারল পিটার।
গুড হান্টিং, রোটরের আওয়াজকে ছাপিয়ে উঠল ইন্সপেক্টরের কণ্ঠস্বর। এদিকে কাজ না থাকলে আপনাদের সাথে আমিও যেতাম।
হালকা পায়ে ছুটল পিটার, কংক্রিট প্যাডে হেলিকপ্টারের নামার আগেই লাফ দিল। ওকে ধরে ফেলল কলিন, দুহাতে জড়িয়ে নিয়ে ভেতরে ঢোকাল, বরাবরের মতো দামি ডাচ চুরুট ঠিকই ঝুলে আছে ঠোঁটে।
ধন্যবাদ, বাড়ি, নিঃশব্দে হেসে বলল সে। ট্রেনিং নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে গেছি, এবার দেখা যাক অ্যাকশন দেখাবার সুযোগ পাই কিনা। তার কোমরে শোভা পাচ্ছে একটা ৪৫ পিস্তল।
.
ভেতরের কামরা থেকে বেরিয়ে এসে সিঙ্কের সামনে দাঁড়াল ডাক্তার, প্লেটের খাবার সিঙ্কের নিচে একটা বালতিতে ফেলে দিল। কিছুই খাওয়াতে পারলাম না। ঝট করে ঘাড় ফেরাল সে। নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে তারপর আবার হাত পা বেঁধে রাখার দরকারটা কি বলতে পারো আমাকে?
