আপনার সাথে যোগাযোগ…? পিটারকে জিজ্ঞেস করল ইন্সপেক্টর অ্যালান রিচার্ডস। নিজেও জানে, শুধু শুধু জিজ্ঞেস করা। পিটারের টেলিফোনে আড়ি পাতা যন্ত্র বসানো হয়েছে–থোর কমান্ডের হেডকোয়ার্টার আর হোটেলে।
না, মিথ্যে কথা বলল পিটার। এখন খুব সহজেই মিথ্যে বলতে পারছে ও, যেমন খুব সহজেই ভাবতে পারছে মেলিসাকে উদ্ধার করার জন্যে কি করতে হবে ওকে।
ব্যাপারটা আমার একদম পছন্দ হচ্ছে না, জেনারেল। ওরা যোগাযোগ করছে না কেন? চুপচাপ থাকার একটাই অর্থ হতে পারে–মুক্তিপণের জন্যে নয়, আপনার মেয়েকে ওরা কিডন্যাপ করেছে প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে।
পিটার কোনো মন্তব্য করল না।
কাল ডেপুটি-কমিশনার ফোন করেছিলেন। জানতে চাইছিলেন, স্পেশাল ইউনিট আর কতদিন রাখতে হবে আমাকে?
আপনি কি বললেন?
বললাম, দশ দিনের মধ্যে কোনো দাবি না জানানো হলে আমরা ধরে নেব মেলিসা-জেইন বেঁচে নেই।
হু। সম্পূর্ণ শান্ত থাকল পিটার। আসল ব্যাপার শুধু একা সে জানে। খলিফার দেয়া সময়ের মধ্যে এখনো বাকি রয়েছে চারদিন।
কবে কি করতে হবে ঠিক করে ফেলেছে পিটার।
ফোনে কাল সকালে ডক্টর পার্কারের সাথে কথা বলবে ও। জরুরি খবর আছে, দেখা হওয়া দরকার। আশা করা যায় বারো ঘণ্টার মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবটা যথেষ্ট লোভনীয় করে তুলবে পিটার, ফলে না এসে উপায় থাকবে না ডক্টর পার্কারের।
কিন্তু যদি কোনো কারণে ডক্টর পার্কার না আসেন, ডেডলাইনের আগে পিটারের হাতে আরো তিনটে দিন থাকছে। বিকল্প প্ল্যানের জন্যে যথেষ্ট সময়। বিকল্প প্ল্যান মানে ওকেই ডক্টর পার্কারের কাছে যেতে হবে। অবশ্য প্রথম প্ল্যানটাই সব দিক থেকে ভালো। কিন্তু সেটায় যদি কাজ না হয়, যে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি আছে পিটার। হঠাৎ ওর খেয়াল হলো, ইন্সপেক্টর অ্যালান রিচার্ডস হাঁ করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি দুঃখিত, জেনারেল। আপনার মনের অবস্থা কি রকম বুঝতে পারি। কিন্তু আমি চাইলেও ইউনিটকে অনির্দিষ্টকালের জন্যে আটকে রাখতে পারি না। এমনিতেই আমাদের লোকজন কম…
আমি জানি, ইন্সপেক্টর। হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুছল পিটার। বিধ্বস্ত চেহারায় পরাজয়ের ভাব ফুটে উঠল।
এই, আমাদের কফি দাও! পিটারের হাত ধরে একটা চেয়ারের দিকে এগোল ইন্সপেক্টর। বসুন আপনি, জেনারেল। চিন্তা করে কোনো লাভ নেই, যা হবার তা তো হবেই…।
পাশের ঘর থেকে মেয়েলি কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে, মহিলা পুলিশরা কথা বলছে ফোনে। দুজনের বয়স বিশ থেকে বাইশের মধ্যে, বাকি দুজন মাঝবয়েসী। চারজনের মধ্যে একজনের চুল সোনালি।
শান্ত মিষ্টি গলা তার। গুড মর্নিং। দিস ইজ পুলিশ স্পেশাল ইনফরমেশন ইউনিট। আজ বারো দিন এই চেয়ারে বসে একই কাজ করছে সে।
অপরপ্রান্ত থেকে কথা বলল কেউ, কথার সুরে বিদেশি টান, আপনি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন পরিষ্কার?
ইয়েস, স্যার।
তাহলে মন দিয়ে শুনন। জিলি ও’ শওনেসি তাকে আটকে রেখেছে,… না, লোকটা বিদেশি নয়, ইচ্ছে করে গলা বিকৃত করছে।
জিলি ও’ শওনেসি? জিজ্ঞেস করল সোনালি-চুল মেয়েটা।
হ্যাঁ, জিলি ও’ শওনেসি। মেয়েটাকে লারাগ-এ আটকে রেখেছে সে।
শব্দটা বানান করুন, প্লিজ।
লারাগ বানান করার সময় আবার বিদেশি টানটুকু থাকল না কণ্ঠস্বরে।
লারাগ জায়গাটা কোথায়, স্যার?
কাউন্টি উইকলো, আয়ারল্যান্ড।
ধন্যাবাদ, স্যার। আপনার নামটা যেন কি বললেন?
লোকটা তার নাম বলেনি, বললও না, রিসিভার নামিয়ে রাখল। কাঁধ ঝাঁকিয়ে মেসেজটা প্যাডে লিখল মেয়েটা, লেখার সময় চোখ তুলে হাতঘড়িতে সময় দেখল। সাত মিনিট পর টি-ব্রেক, বলে প্যাড থেকে কাগজটা ছিঁড়ে মাথার ওপর দিয়ে পিছন দিকে বাড়িয়ে ধরল। পিছনে বসে আছে অল্প বয়েসী মোটাসোটা সার্জেন্ট, হাতে তুলে নিল সেটা।
চলো, তোমাকে স্যান্ডউইচ খাওয়াব, প্রস্তাব দিল সার্জেন্ট।
আমি সুন্দরী বলে, নাকি আমাকে আরো মোটা দেখতে চাও? ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল মেয়েটা।
কাগজটা পড়ছে সার্জেন্ট। জিলি ও’ শওনেসি। নামটা আমার চেনা চেনা লাগছে কেন?
বয়স্ক আরেক সার্জেন্ট মুখ তুলল। জিলি ও’ শওনেসি? হাত বাড়িয়ে দিল সে। দেখি, আমাকে দেখতে দাও! কাগজটা পড়ে ঝট করে মুখ তুলল। নামটা চেনো কারণ ওয়ান্টেড পোস্টারে দেখেছ, টিভিতেও দেখে থাকতে পার। জিলি ও’ শওনেসি, একজন টেরোরিস্ট। বোমাবাজ। সন্দেহ করা হয় বেলফাস্টের চীফ কনস্টেবলকে সেই বোমা মেরে খুন করেছে।
মোটাসোটা সার্জেন্ট ঠোঁট গোল করে শিস দিল। তাহলে তো রুই। জাল ফেললেই…।
দ্বিতীয় সার্জেন্ট তার কথা শুনছে না, নক না করেই ইনার অফিসে ঢুকে পড়ল ঝড়ের বেগে।
.
সাত মিনিটের মধ্যে ডাবলিন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করল ইন্সপেক্টর অ্যালান রিচার্ডস। তার কানের কাছে মাছির মতো ভনভন করল পিটার, কঠোর ভাষায় কথা বলুন, ওদের কানে যেন পানি ঢেকে-কোনো অবস্থাতেই হামলা করা যাবে না…
ইন্সপেক্টর ওকে থামিয়ে দিল, আমার ওপর ভরসা রাখুন, কি করতে হবে আমার জানা আছে। কানেকশন পাওয়া গেল, এক মিনিট পর একজন ডেপুটি কমিশনারের সাথে কথা বলতে শুরু করল সে। শান্তভাবে দশ মিনিট কথা বলার পর রিসিভার নামিয়ে রাখল। স্থানীয় কনস্টেবলরাই ব্যাপারটা তদন্ত করে দেখবে, ডাবলিন থেকে লোক পাঠালে শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। তদন্তে যাই জানা যাক, ওরা হানা দেবে না।
