তোমাকে শুধু সেলস ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলা হয়? অন্য কোনো দায়িত্বের কথা বলা হয়নি? সিকিউরিটি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স…?
না। তবে ব্যারনেসের সাথে ঘনিষ্ঠ হবার পর আমি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলি। সিকিউরিটি সিস্টেমে কিছু রদবদল করা হয়।
তার স্বামীর মৃত্যু নিয়ে তোমাদের মধ্যে কথা হয়নি?।
হয়েছে, বলল পিটার, যথাসম্ভব কম মিথ্যে বলে পার পেতে চাইছে পিটার।
ব্যারনেস তোমাকে বলেনি যে সে তার স্বামীর খুনিকে খুঁজছে বা খুনিকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে তোমার সাহায্য পেলে ভালো হতো?
দ্রুত চিন্তা করল পিটার। প্যারিসের ব্রিটিশ দূতাবাসের মিলিটারি অ্যাটাশের সাথে যোগাযোগ করেছিল পিটার, খলিফাকে আকৃষ্ট করার জন্যে ওটা একটা টোপ ছিল ওর। যোগাযোগের খবরটা হয় পেয়ে গেছেন ডক্টর পার্কার, নয়তো পেয়ে যাবেন। অ্যাটলাসের কম্পিউটার ব্যবহার করা তার জন্যে কোনো সমস্যা নয়। না, অস্বীকার করে লাভ হবে না।
হ্যাঁ, এ ধরনের একটা অনুরোধ সে আমাকে করেছে। প্যারিসে খোঁজখবর করেছি আমি, কেউ কিছু বলতে পারে নি।
ডেস্কের ওপর ঝুঁকে নোটবুকে খসখস করে কি যেন লিখলেন ডক্টর পার্কার। অল্টম্যানের সাথে বিয়ের আগে আটজন লোকের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক ছিল ব্যারনেস ম্যাগডার, আমরা জানি। প্রত্যেকেই তারা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ধনী। তাদের মধ্যে ছয়জন বিবাহিত…।
রেগে গিয়ে ভেতর ভেতর এমন কাঁপতে লাগল পিটার, নিজেই অবাক হয়ে গেল। ব্যারনেস ম্যাগডাকে অমার্জিতভাবে কলঙ্কিত করায় ডক্টর পার্কারকে ঘৃণ্য বলে মনে হলো। প্রাণপণ চেষ্টা করে চেহারা শান্ত রাখল ও, হাত দুটো কোলের ওপর শিথিলভাবে পড়ে আছে।
…এসব সম্পর্ক অত্যন্ত সাবধানে লুকিয়ে রাখত সে, বলে চলেছেন ডক্টর পার্কার। তবে বিয়ের কাছাকাছি সময়ে অন্য কোন পুরুষের সাথে মেলামেশা করেনি। বিয়ের পরও তার জীবনে অন্য কোনো পুরুষ ছিল না। কিন্তু স্বামী মারা যাবার পর আবার বিছানার সঙ্গী হিসেবে তিনজনকে জুটিয়ে নেয় ব্যারনেস। একজন ফ্রেঞ্চ সরকারের মন্ত্রী, একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী, ঝট করে নোটবুকের দিকে একবার ঝুঁকেই মাথা তুললেন তিনি। অতি সম্প্রতি আরেকজনের সাথে তার অ্যাফেয়ার চলছে।
ঠাণ্ডা, অন্তর্ভেদী চোখে সরাসরি পিটারের চোখে তাকিয়ে আছে পার্কার।
মহিলা ব্যবসার সাথে ব্যক্তিগত সুখ মেলাতে ভালোবাসে। তার সাম্প্রতিক সেক্সয়াল পার্টনারের ক্ষেত্রেও বোধ হয় কথাটা খাটে।
কলিন নোবলস অস্বস্তিভাবে কেশে ওঠে, কিন্তু তার দিকে না তাকিয়ে সোজা পার্কারের দিকে তাকিয়ে থাকল পিটার। ওর আর ম্যাগডার সম্পর্কের কোথাও লুকোচুরি ছিল না–কিন্তু এই সব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা দারুণ তিক্ত লাগছে ওর কাছে।
আমার ধারণা, তুমি খুব ভালো পজিশনে আছে, পিটার। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনায়াসে বের করে আনতে পারবে। তোমার আশপাশেই রয়েছে শত্রু, চোখ খোলা রাখলেই চিনতে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভাবাবেগের বা দুর্বলতার বশে দায়িত্বের কথা ভুলে যাবে কিনা।
আমাকে দুর্বল বা ভাবাবেগে আপ্লুত ভাবার কোনো কারণ নেই, ডক্টর পার্কার, বলল পিটার। আমার দায়িত্ববোধ সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকার কথা।
আছেও, আর সেজন্যেই তোমার ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করছি আমরা। ব্যারনেস ম্যাগডা সম্পর্কে এখন অনেক বেশি জানো তুমি। কাজেই বুঝতে পারছ, কেন আমরা ভদ্রমহিলা সম্পর্কে এত বেশি আগ্রহী।
পারছি, শান্ত সুরে বলল পিটার। চেহারায় রাগের কোনো চিহ্নমাত্র নেই। আপনি চাইছেন সম্পর্কের সুযোগটা নিয়ে আমি তার ভেতরের খবর সংগ্রহ করি, তাই না?
তাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে উল্টোটাও সত্যি-ব্যারনেস ম্যাগডাও সম্পর্কটার সুযোগ নিয়ে তোমার কাছ থেকে আমার সম্বন্ধে খবর নেয়ার চেষ্টা করছে। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ডক্টর পার্কার। আমাকে হয়তো একটু অমার্জিত মনে হয়েছে, পিটার। সেজন্যে আমি দুঃখিত। আমি হয়তো তোমার রঙিন একটা স্বপ্নে কাদা ছিটালাম, সেজন্যেও দুঃখিত।
হাত নেড়ে ইঙ্গিত করলে পার্কার। অর্থাৎ, মিটিং শেষ।
আমার বয়সে ভাবালুতা একটা অবাস্তব ব্যাপার, ডক্টর। উঠে দাঁড়ায় পিটার। আমি কি সরাসরি আপনার কাছে রিপোর্ট করব?
সমস্ত যোগাযোগের ব্যবস্থা কলিন করবে। এগিয়ে এসে পিটারের কাঁধে একটা হাত রাখলেন ডক্টর পার্কার। অন্য কোনো উপায় থাকলে কাজটা তোমাকে দিতাম না, পিটার।
অস্বস্তি না করে পার্কারের হাত নিজের হাতে নিয়ে নিল পিটার। দারুণ ঠাণ্ডা, শুষ্ক ওটা। যদিও বোঝা যায় না, কিন্তু পিয়ানো বাজিয়ে ওই হাতে দারুণ শক্তি ধরেন কিংস্টোন পার্কার-অনুভব করল সে।
আমি বুঝতে পারছি, স্যার, পিটার বলে। যাই হোক, সত্যটা সে উদঘাটন করেই ছাড়বে।
.
ক্লান্তির অজুহাত দেখিয়ে জিন-রামি খেলার প্রস্তাব এড়িয়ে গেল পিটার, দীর্ঘ ট্রান্স আটলান্টিক ফ্লাইটের বেশিরভাগ সময় ঘুমের ভান করে কাটাল। চোখ বন্ধ, মন জুড়ে থাকা সমস্ত চিন্তা-ভাবনা গোছগাছ করে গোটা ব্যাপারটার একটা আকার পাবার চেষ্টা করল ও। কিন্তু লাভ হলো না, বারবার তালগোল পাকিয়ে গেল সব। ব্যারনেস ম্যাগডার প্রতি ওর অনুভূতি এবং বিশ্বস্ততা সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারল না। দৈহিক সম্পর্ক–ডক্টর পার্কার ব্যারনেস সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তথ্যটা সত্যি হয়? বিয়ের আগে আটজনের সাথে দৈহিক সম্পর্ক ছিল ব্যারনেসের, ছয়জন তার মধ্যে বিবাহিত পুরুষ বিয়ের পর আরো দুজনের সাথে, দুজনই ধনী বা প্রভাবশালী লোক। ব্যারনেস ম্যাগডার বিবস্ত্র শরীর চোখের পর্দায় ফুটে উঠল। শুধু সুন্দর নয়, পবিত্র বলে মনে হয়েছিল পিটারের। ওর মনে হলো, ওর সাথে বেঈমানী করা হয়েছে। পরমুহূর্তে নিজেকে তিরস্কার করল পিটার–কিশোরসুলভ ভাবাবেগে ভোগার কোনো মানে হয় না।
