ঠিক আছে। তার চেয়ে চল, ধাঁধার খেলা খেলি। প্রথমে আমার পালা। একজন নারীর জন্যে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক অভিজ্ঞতা কি হতে পারে?
পারলাম না। পিটার বলে।
শীতের রাতে একা ঘুমানো।
পরিত্রাণ যে হাতের নাগালে, হেসে বলে এবারে পিটার
কিন্তু বেচারা আহত কাধ?
নিজেদের বিশাল প্রতিভা আর প্রজ্ঞা কাজে লাগালে আমার মনে হয়, এটা কোনো সমস্যা হয়ে দেখা দেবে না!
মনে হয়, ঠিক বলেছ, বলে, ধূর্ত বিড়ালির মতো পিটারের গায়ে সেঁটে আসে ম্যাগডা।
.
সুন্দরী একজন নারীর জন্যে অন্তর্বাস কেনাটা একটা আনন্দময় অভিজ্ঞতা। মধ্যবয়স্কা সেলস্ লেডির চেহারায় প্রজ্ঞার ছাপ লক্ষ্য করল পিটার। এক ট্রে ভর্তি লেস দেয়া দারুণ সুন্দর অন্তর্বাস বের করে টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখল সে। দারুণ দামি ওগুলো।
হ্যাঁ, ব্যথভাবে সমর্থন জানায় মেলিসা–জেইন, ওগুলো ঠিক
সামনের কাঁচে তাকিয়ে পিটার নিশ্চিত হয়, ওর পিছনে লেজ লেগেছে।
গ্রে ওভারকোটে মোড়া এক লোক খুব নিবিষ্ট মনে ডিসপ্লেতে সাজানো ব্রেসিয়ার পর্যবেক্ষণ করছে।
ডার্লিং, আমার মনে হয় তোমার মা ওগুলো পরার অনুমতি দেবে না, মেয়েকে বলে পিটার। সেলস ওম্যান চমকিত হয় এমন কথায়।
ওহ, প্লিজ, ড্যাডি! আগামী মাসে আমার বয়স চৌদ্দ হতে যাচ্ছে।
হিথ্রোতে নামার পর থেকে পিটারের পিছনে লেগেছে এই ফেউ। গতকাল বিকেল থেকে। কিন্তু কে বা কারা–বুঝে উঠছে না সে। নদীতে সেদিন কোবরা পিস্তলটা যে কেন হারাল-এখন আফসোস হচ্ছে পিটারের।
আমার মনে হয়, এসো একটু সতর্ক হই, মেয়েকে বোঝায় সে।
না, না! প্রতিবাদ করে মেলিসা।
হাতঘড়ি দেখল পিটার। পালা বদলের সময় হয়ে এসেছে। নতুন লোক আসবে এখন।
প্রতি পাঁচ ঘণ্টা পরপর পালা বদল করে ওর পাহারাদারেরা। দাম দেয়ার সময় আয়নায় দেখল স্টোর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে গ্রে-কোট। নতুন লোকটাকে চিনতে পারল পিটার। পরনে টুইডের স্পোর্টস জ্যাকেট। বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হাসছে।
সান অভ এ গান। দিস ইজ এ সারপ্রাইজ। পিটারের সামনে এসে বাউ করল কলিন নোবলস।
ক্ষীণ একটু স্বস্তি বোধ করল পিটার, শেষপর্যন্ত জানা গেল কারা ওরা। সারপ্রাইজই বটে। তোমার গরিলাদের সাথে কাল বিকেল থেকে ধাক্কা খাচ্ছি আমি।
আরে ছাড়ো ওদের কথা। সব কটা ছাগল।
মেলিসার দিকে ফিরে চুমো খায় গালে।
আঙ্কল কলিন! একেবারে আকাশ থেকে পরলে যে! আলিঙ্গন ভেঙে স্বচ্ছ প্যান্টিগুলো কলিনকে দেখাল সে।
কি মনে হয় ওগুলো দেখে?
ওগুলো তোমারই জন্য তৈরি-মাই লেডি।
খালি আমার বাপকে একটু বোঝাও কথাটা!
.
ডরচেস্টারে পিটারের স্যুইটে ঢুকে চারদিকে তাকাল কলিন। একেই বলে বেঁচে থাকা। সত্যি খুব সুখে আছ। পিটারের হাত থেকে হুইস্কির গ্লাস নিল সে। আমাকে অভিনন্দন জানাবে না?
সানন্দে। নিজের গ্লাস নিয়ে জানালার সামনে চলে এল পিটার। জানালা দিয়ে হাইড পার্কের কুয়াশা ঢাকা বিষণ্ণ আকাশ দেখল। কি করছ তুমি?
ভান কর না তো, পিটার। থোর কমান্ড-তুমি চলে আসার পর ওরা আমাকে তোমার কাজটা দিয়েছে।
ওরা আমাকে বিদায় করে দেয়ার পর।
তুমি চলে আসার পর, জোর দিয়ে আবার বলল কলিন। ঢকঢক করে দুচেক হুইস্কি খেল সে। এ কথা ঠিক যে অনেক জিনিসই আমরা বুঝি না। আওয়ারস নট টু রিজন হোয়াই, আওয়ারস বাট টু ডু অ্যান্ড ডাই। শেক্সপীয়র।
পিটারের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলেও পিছন থেকে কলিন তা দেখতে পেল না।
এখন এখানে তুমি অনেক ভালো আছ। সবাই জানে থোর-এ তোমার মেধা অপচয় হচ্ছিল। তাছাড়া দুহাতে টাকা কামানো চাই, তবে না পুরুষমানুষ।
তুমি খুব ভালো করেই জানো নার্সকোতে চাকরি করছি আমি।
নার্সকোতে, পিট? তুমি নার্সকোতে আছ? সত্যি, জানতাম না!
হাসল পিটার। কলিনের সামনে এসে বসল ও কে তোমাকে পাঠিয়েছে, কলিন?
কেন কেউ আমাকে পাঠাতে যাবে? দোস্তের সাথে আমি দেখা করতে পারি না?
উনি বোধ হয় ভয় করছেন আবার আমি কার না কার চোয়াল ভাঙি, তাই না?
সবাই জানে, তোমাকে আমি পছন্দ করি, পিট। মনের টান আছে বলেই না চলে এলাম …
মেসেজটা কি, কলিন?
কংগ্রাচুলেশন্স, পিটার বেইবি। তুমি একটা রিটার্ন টিকেট জিতেছ। হৃৎপিণ্ডের ওপর একটা হাত রেখে উদার কণ্ঠে গেয়ে উঠল কলিন, নিউ ইয়র্ক নিউ ইয়র্ক ইট স আ ওয়ান্ডারফুল টাউন।
অধৈর্যের মতো কলিনের দিকে চেয়ে থাকে পিটার। কোথায় যেতে হবে, আন্দাজ করতে পারল ও। মনের কাছ থেকে সায় পাওয়া যাচ্ছে, যাওয়া দরকার।
কাদা আর ঘোলা পানি নিচ থেকে কি যেন একটা উঠে আসতে চাইছে, সুতোর অদৃশ্য প্রান্তটা এবার বোধ হয় পাওয়া যাবে। শিকারে নেমেছে ও, এই খবরটা বাতাসে ছড়িয়ে দেয়ার পর এ ধরনের কিছু একটা ঘটবে বলেই আশা করছিল।
কখন?
কেন বলিনি, এই মুহূর্তে ক্রয়ডনে একটা এয়ারফোর্স জেট অপেক্ষা করছে তোমার জন্যে?
কিন্তু, মেলিসা?
নিচে একটা গাড়ি অপেক্ষা করছে ওর জন্যে।
ও কিন্তু তোমার উপর ক্ষেপে যাবে।
এটাই আমার জীবনের গল্প, দোস্ত, কলিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কেবল কুকুরগুলো আমাকে ভালোবাসে হে!
.
জিন-রামি খেলে আটলান্টিক পাড়ি দিল ওরা। ঠোঁটের কোণে চুরুট রেখে সারাক্ষণ বক বক করে গেল কলিন। নতুন দায়িত্ব কেমন লাগছে, ট্রেনিং এর সময় মজার কি কি ঘটেছে, দুজনেই যাদের চেনে তাদের এখনকার খবর, সবাই জানাল সে। তবে পিটারের নতুন চাকরি বা নার্সকো সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করল না। কথার ফাঁকে এক সময় শুধু বলল, আগামী সোমবারে পিটারকে লন্ডনে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে সে, তার জানা আছে নার্মকোর প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকটা মিটিং-এ বসতে হবে পিটারকে। কথাটা ইচ্ছা করেই বলল কলিন, বোঝাতে চাইল ওরা পিটার এবং তার বর্তমান তৎপরতা সম্পর্কে কতটুকু কি জানে।
