মন দিয়ে পিটারের কথাগুলো শুনল ব্যারনেস ম্যাগডা। পিটারের মাথায়, মুখে আর বুকে হাত বুলিয়ে দিল সে।
রেডিওতে আগেই খবর পাঠিয়েছিল পুলিশ, হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ঢোকার আগে, দরজায় হাত রেখে বাধা দিল ব্যারনেস। পিটারের মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ল সে, চুমো খেল ঠোঁটে। আমার জীবনে এখনো তুমি আছ, ঈশ্বরের প্রতি সেজন্যে আমি কৃতজ্ঞ, পিটার। পিটারের কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়াল সে।
আবার খলিফা, তাই না?
কাঁধ ঝাঁকাল পিটার। এ ধরনের প্রফেশনাল কাজ আর কার দ্বারা সম্ভব জানি না।
অপারেশন থিয়েটারের দরজা পর্যন্ত ট্রলির সাথে হেঁটে এল ব্যারনেস, তারপর আবার একবার পিটারের কপালে চুমো খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
.
জ্ঞান ফিরে পাচ্ছে পিটার, ওর মুখের ওপর ঝুঁকে পাশে দাঁড়িয়ে আছে ব্যারনেস, বেডের আরেক পাশে ডাক্তার। কেবিনে দুজন নার্সও রয়েছে, দরজার কাছে।
জাদু দেখবার ভঙ্গিতে মুঠো খুলল ডাক্তার। কাটাছেঁড়া করতে হয়নি, খুঁচিয়েই বের করে এনেছি। পিটারকে বুলেটাটা দেখিয়ে বলল সে। আপনি খুব ভাগ্যবান মানুষ। রেসের ঘোড়ার মতো পেশি বেশি ভেতরে ঢুকতে দেয়নি বুলেটাকে। খুব তাড়াতড়ি সেরে উঠবেন।
কথা দিয়েছি আমি তোমার দেখাশোনা করব, কাজেই তোমাকে উনি ছেড়ে দেবেন, ব্যারনেস ম্যাগডা বলল। কি, দেবেন না, ডাক্তার?
আপনার কপালে জুটল দুনিয়ার সেরা সুন্দরী নার্সদের একজন, পিটারকে কথাটা বলে, ভক্তির সাথে ব্যারনেসের উদ্দেশে বাউ করল ডাক্তার। ডাক্তারের কথাই ঠিক, বুলেটের ক্ষতের চেয়ে কাঁটাতারে ছোঁড়া উরুর ক্ষতটা বেশি ভোগাল পিটারকে, কিন্তু ব্যারনেস ম্যাগডা এমন আচরণ করতে লাগল পিটার যেন দুরারোগ্য কোনো ব্যাধিতে ভুগছে, যমে মানুষ টানাটানি হচ্ছে। ওকে ফেলে পরদিন বুলেভার্ড দে কাপুসিন, অফিস হেডকোয়ার্টারে জরুরি কাজে যেতে হলো তাকে, সেখানে থেকে ফোন করল সাত বার, শুধু পিটার ঠিক আছে কিনা জানার জন্যে। ওর জুতো ও কাপড়ের মাপও অবশ্য জেনে নিল। দিনের আলো ফুরাল না, তার আগেই লা পিয়ের বেনিতে ফিরে এল সে।
মেইন গেস্ট স্যুইটে বসে ছিল পিটার, এখন থেকে টেরেসসহ লন আর কৃত্রিম হ্রদটা দেখা যায়। এত তাড়াতাড়ি ফিরলে যে?
তুমি খুশি হওনি? বলেই চোখে দুষ্ট ভাব নিয়ে হাসল ব্যারনেস। নিষ্ঠুর বা অন্য কিছু ভেবে না, ঘটনাটা ঘটার দরকার ছিল। তোমার কাছে থাকার, আরো ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ পেয়ে গেছি আমি। কাল আমি সারাদিন তোমার সাথে থাকব।
সেবা যত্নে ভাটা পড়লে কি চাইতে হবে জানা হয়ে যাচ্ছে আমার, বলল পিটার। খলিফা আবার একটা গুলি ছুঁড়লে যত্ন বেড়ে যাবে, তাই না?
প্রায় ছুটে এসে পিটারের ঠোঁটে একটা আঙুল রাখল ব্যারনেস। শেরি, অমন অলক্ষুণে কথা ভুলেও মুখে আনবে না। শুধু ভয় নয়, বিষাদের কালো ছায়া পড়ল তার চেহারায়। তারপরই তার মুখে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল ফুলের মতো হাসি। দেখো কি এনেছি তোমার জন্যে।
পিটারের ব্রিফকেসটা মাসেরাতির ট্রাঙ্কে রয়ে গিয়েছিল, সেটার বদলে কুমিরের কালো চামড়া দিয়ে তৈরি একটা ব্যাগ নিয়ে এসেছে ব্যারনেস। প্যারিসের অভিজাত অনেকগুলো দোকানে ঢু মেরে এটা সেটা কিনে ভরেছে ওটায়। ভুলেই গিয়েছিলাম প্রিয় কারও জন্যে উপহার কিনতে কি মজা লাগে, কথা শেষ না করে হাত দিয়ে তুলে সিল্ক ব্রোকেডের একটা ড্রেসিং গাউন দেখাল পিটারকে। এটা বাছার সময় সেন্ট লরেন্টের সবাই বুঝে নিয়েছে কি ভাবছিলাম আমি…
কিছুই ভোলেনি ব্যারনেস। শেভিং গিয়ার, সিল্কের রুমাল আর আন্ডারঅয়্যার, নীল একটা ব্লেজার, স্ন্যাকস আর জুতো, এমন কি সোনার কাফলিঙ্ক পর্যন্ত বাদ যায়নি। তোমার চোখে ও কিসের হাসি? উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে আবার বলল, ডিনারের জন্যে রেসপেক্টেবল হয়ে আসি। রবার্টোকে বলেছি, এখানেই খাব আমরা।
আজ অন্য কোনো গেস্ট নেই। গানমেটাল বিজনেস স্যুট আর সিল্কের পাগড়ি পরে ফিরে এল ব্যারনেস। চুল কোমর ছাড়িয়ে নেমে এসেছে, পোশাকের চেয়ে বেশি চকচকে।
শ্যাম্পেনের বোতল কিন্তু আমি খুলব, বলল সে। দুহাত দরকার সেজন্যে।
পিটার পরেছে ব্রোকেডসহ গাউনটা, বা হাত এখনো স্লিংয়ের সাথে ঝুলছে। শ্যাম্পেন ভরা গ্লাসের কিনারা দিয়ে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে ভাবল ওরা।
আমার ধারণাই ঠিক, তোমার রঙ ব্ল। নীল তোমার বেশি বেশি পরা উচিত। পিটারের গ্লাসের সাথে নিজের গ্লাসটা ছোঁয়াল সে, মাত্র একবার চুমুক নিয়ে নামিয়ে রাখল। ভাবগম্ভীর হয়ে উঠল চেহারা।
সুরেত-এ আমার বন্ধু আছে, ওদের সাথে কথা বলেছি আমি। ওদেরও ধারণা, আমাকে কিডন্যাপ করার চেষ্টাই ছিল ওদের। তুমি সুস্থ হও, তারপর একটা স্টেটমেন্ট দেবে। আমার অনুরোধে অপেক্ষা করতে রাজি হয়েছে ওরা। কাল ওরা একজন লোক পাঠাবে। জঙ্গলের কিনারায় দ্বিতীয় লোককে ওরা পায়নি। হয়তো হেঁটে চলে গেছে, নয়তো তার লোকেরা গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।
অপর লোকটা? জিজ্ঞেস করল পিটার। যে মারা গেছে?
তাকে ওরা ভালো করে চেনে, জঘন্য একটা লোক। আলজেরিয়ান, প্রফেশনাল কিডন্যাপার এবং মার্ডারার চেষ্টা করেও সে তোমাকে মারতে পারেনি, সুরেত-এর ওরা বিশ্বাস করতে পারছে না। আমি ওদেরকে তোমার আসল পরিচয় জানাইনি। ভাল করেছি, তাই না?
