সেটা অনুভব করাবার আরো অনেক উপায় জানা আছে আমার।
জানি, বলে চকিতে একবার পিটারের সর্বাঙ্গে দৃষ্টি বুলিয়ে নিয়ে হাসল। ব্যারনেস, চোখে ঝিক করে উঠল দুষ্টামি। এবং ভারি পছন্দও করি। কিন্তু এখন নয়, প্লিজ। আমার স্টাফরা কি ভাববে। পরমুহূর্তে সিরিয়াস হয়ে উঠল সে। মাসেরাতিতে তুমি ওঠো, তোমার জন্যেই আনিয়েছি। কেউ একজন উপভোগ করুক ওটা। আর শোন, আজ সন্ধ্যায় আবার দেরি করে ফেল না। অনেক বুদ্ধি খরচ করে সময় বের করেছি। লা পিয়েরে বেনিতে তোমাকে আমি আটটার সময় চাই।
মূল শহর প্যারিসে ঢোকার মুখে ট্রাফিক জ্যামের কারণে মাসেরাতির গতি কমাতে হলো পিটারকে, ইতোমধ্যে গাড়িটার আসুরিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গেছে ও। ম্যাগডা ঠিকই বলেছে, উপভোগ করার মতোই একটা ব্যাপার বটে। সামনে হাজার হাজার গাড়ি, সামান্য একটু ফাঁক-ফোকর পেলেই সেখানে বুলেটের মতো মাসেরাতিকে নিয়ে ঢুকছে পিটার, দুপাশের দ্রুতগতি গাড়িগুলোকে ওভারটেক করার অদ্ভুত এক পাগলামি পেয়ে বসেছে ওকে। ম্যাগডা কেন যে এটাকে এত ভালোবাসে, বোঝা গেল। মাসেরাতি যেন কোনো মেশিন নয়, জ্যান্ত একটা ব্যাপার-ড্রাইভারের মনে পুলক জাগাবার জন্যে প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে অপেক্ষ করছে।
এলিসি প্রাসাদের কাছাকাছি একটা আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজে ঢুকে গাড়ি থামাল পিটার, রিয়ার ভিউ মিররে তাকিয়ে সহাস্যে বলল, ব্লাডি কাউবয় রোলেক্সের দিকে তাকাল, অ্যাপয়েন্টমেন্টর চেয়ে এক ঘণ্টা আগে পৌঁছে গেছে। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ায় কোবরা পিস্তলসহ শোল্ডার হোলস্টার খুলল ও। মাসেরাতির গ্লাভ কম্পার্টমেন্ট রেখে তালা লাগিয়ে দিল। নিঃশব্দে আবার হাসল—সশস্ত্র অবস্থায় ফ্রেঞ্চ ন্যাভাল হেডকোয়ার্টারে ঢুকতে চেষ্টা করলে একটা সিন ক্রিয়েট করা হবে। তুষারপাত বন্ধ হয়েছে, এলিসি প্রাসাদের ফুল বাগানে কুঁড়িগুলো পাপড়ি মেলছে। কনকর্ড মেট্রো স্টেশনে ঢুকে পাবলিক বুথ থেকে ব্রিটিশ দূতাবাসে ফোন করল পিটার। দুমিনিট কথা বলল মিলিটারি অ্যাটাশের সাথে, রিসিভার রেখে দিয়ে ভাবল, বল ছোঁড়া হয়ে গেছে, এবার অ্যাকশন শুরু হতে যতক্ষণ লাগে। খলিফা যদি অ্যাটলাসের ভেতর ঢুকে থোর কমান্ড সম্পর্কে জানার ক্ষমতা রাখে তাহলে থোর কমান্ডের প্রাক্তন কমান্ডার যে তার পিছনে লেগেছে এ খবরও পেয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। প্যারিসের ব্রিটিশ মিলিটারি অ্যাটাশে শুধু পার্টি দেয় আর ভদ্রমহিলাদের হাতে চুমো খায় না; তার আরো গোপন দায়িত্ব আছে।
হাতে ক মিনিট সময় নিয়ে রু রয়্যালের কোণে, মেরিন হেডকোয়ার্টারের প্রধান ফটকে উপস্থিত হলো পিটার। তবে আগে থেকেই ওখানে একজন সেক্রেটারি অপেক্ষা করছিল ওর জন্য। ভেতরে ঢোকার পথটুক নিষ্কণ্টক করে তুলল সে, সেন্ট্রিদের পাশ কাটিয়ে হনহন করে এগোল ওরা। চারতলার আমামেন্ট কমিটি রুমে উঠে এল পিটার। নার্মকো থেকে আগেই পৌঁছেছে পিটারের দুজন সহকারী। এরই মধ্যে ব্রীফকেস খুলে টেবিলের ওপর কাগজপত্র সাজিয়ে বসেছে তারা। গত সপ্তাহয় ফ্রেঞ্চ নেভী নার্মকোর কেসট্রেল রকেট মটর পেতে কতটুকু আগ্রহী।
দুপুরের পর একজন অ্যাডমিরাল তার ব্যক্তিগত অফিসে আমন্ত্রণ জানালেন পিটারকে। সেখানে দুঘণ্টা কাটাল ওরা, লাঞ্চ সারল, তারপর সদলবলে চলে এল মিনিস্ট্রি অভ মেরিনের অফিসে। ছটার দিকে মেজাজ বিগড়ে গেল পিটারের। প্রতিপক্ষের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বিদায় নিল ও। ঠিক হলো দিন কয়েক পর আবার আলোচনা করা যাবে। এই সময়, একেবারে শেষ মুহূর্তে অ্যাডমিরালরা জানালেন, নার্মকোর কেসট্রেল রকেট মটর পাবার জন্যে অধীর হয়ে আছেন তারা। বিস্ময়ের বিষম একটা ধাক্কা খেল পিটার। কি আশ্চর্য, সারাটা দিন ধরে পিটারকে তারা বোঝাবার চেষ্টা করেছেন ওগুলো তাদের না হলেও চলে।
খুশির কথা, বলে চলে এল পিটার। এবং রাস্তায় বেরিয়ে এসেই ভুলে গেল সব, মন জুড়ে ফিরে এল ব্যারনেস ম্যাগডা। ওর জন্যে অপেক্ষা করছে সে।
মাসেরাতি নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজ থেকে বেরুবার মুখে সামনে গাড়ি থাকায় একবার থামতে হলো পিটারকে। রিয়ার ভিউ মিররে তাকাল ও অনেক দিনের পুরানো অভ্যেস। মাসেরাতির পিছনে অনেকগুলো গাড়ি সবগুলো বেরুবার জন্যে লাইন দিয়েছে। কিন্তু মনে দাগ ফেলল শুধু স্ট্রিনটা। মাসেরাতির পিছনে তিন নম্বর গাড়ি ওটা, চোখে পড়ার কারণ ওটার উইন্ডশিল্ডের কাঁচ চিড় ধরা। আরো ভাল করে তাকাতে পিটার দেখল, ট্রিনের মাডগার্ড বেড়ানো, কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে রঙ চটে গেছে।
এলিসি প্রাসাদ ছাড়িয়ে এসে বাঁক নেয়ার সময়ও কালো ট্রিনটাকে পিছনে দেখল পিটার। মাথা নিচু করে ড্রাইভারকে দেখার চেষ্টা করল ও, কিন্তু সাথে সাথে ট্রিনের হেড লাইট জ্বলে উঠল। পরবর্তী কয়েক মাইল একই রাস্তায় থাকল গাড়ি দুটো। তবে দুটোর মাঝখানে অন্যান্য আরো কয়েকটা গাড়ি রয়েছে। এভিনিউতে লা গ্র্যান্ড আরমিতে ঢুকে বারবার পিছনে তাকিয়ে ট্রিনটাকে খুঁজল পিটার। দেখতে না পেয়ে ভাবল, আশপাশের কোনো গলিতে ঢুকে পড়েছে। ট্রিন পিছনে থাকায় যেন একটা কাজে ব্যস্ত ছিল পিটার, এখন নিজেকে বেকার মনে হতে লাগল। স্বস্তি বোধ করার কথা কিন্তু ঘটছে উল্টোটা, খুঁতখুঁত করছে মন। একটু পর অবশ্য ঠিক হয়ে গেল সব, আবার মন ঘুরেফিরে এল ব্যারনেস ম্যাগডা। মাসেরাতির গতি বেড়ে গেল, গাড়ি এবং ড্রাইভার দুজনেই রোমাঞ্চপ্রিয় হয়ে উঠল যেন। যানবাহনের প্রচুর ভিড় রাস্তায় পিছনে সিট্রন থাকলেও এখন আর সেটাকে দেখতে পাবার কথা নয় পিটারের।
