সাহায্য করবে আমাকে, পিটার? ম্যাগডার কণ্ঠে অনুনয়।
তুমি জানো, করব। শান্ত স্বরে বলে পিটার। এছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।
.
অ্যাবোটস্ ইউতে সেই সাক্ষাতের পরবর্তী ছয় সপ্তাহে আর মাত্র তিনবার ম্যাগডার দেখা পেল পিটার। খুবই সংক্ষিপ্ত–পিটারের জন্যে খুব অতৃপ্ত–তিনটি সাক্ষাত।
খলিফাকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে এখনো কোনো অগ্রগতি হয় নি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পিটার। তৃতীয় সাক্ষাতের সময়ে ম্যাগডার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা বলেছে সে।
প্রথমে নিরাপত্তার ব্যবস্থা বদল করতে রাজি হয়নি ম্যাগডা, শেষপর্যন্ত পিটারের যুক্তির কাছে হার মানতে হয় তাকে। তারপর পিটার চাপ দেয়, তাকে তার নিয়মিত আচরণের প্যাটার্ন বদলাতে হবে।
কিন্তু সমস্যা কি জানো, বলল ম্যাগডা, হাসছে বটে, কিন্তু হাসির নিচে লুকিয়ে রয়েছে বিষণ্ণ একটা ভাব। আমার স্বামী আমাকে একটা ট্রাস্টের দায়িত্ব দিয়ে গেছে। দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হবে। আমি ভাবছি, একদিন সব তোমাকে আমি ব্যাখ্যা করে শোনাব।
মৃদু তুষার পড়ছে। তুষার মেঘ, আর পাথুরে পাহাড়ের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেছে সূর্য। গ্রামের ভেতর দিয়ে ফিরে আসছে ওরা। সুইটজারল্যান্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চল এখানকার গ্রামও সার সার ডিপার্টমেন্টাল স্টোর উজ্জ্বল আলোয় ঝলমল করছে। ইউরোপে সম্পদের অভাব নেই, আর শীতপ্রধান আবহাওয়া বলে পরিশ্রমও করতে পারে এরা, ফলে সম্পদ বৃদ্ধি ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।
গরম পানিতে শাওয়ার সেরে স্ন্যাকস, ব্লেজার আর সিল্ক রোলনেক পরল পিটার, এখনো নিচের তলায় অফিস কামরা থেকে টেলেক্স মেশিনের আওয়াজ পাচ্ছে ও। আরো এক ঘণ্টা পর হাউজ ফোনে ওকে ডাকল ব্যারনেস।
গোটা একটা ফ্লোর একা ব্যবহার করে সে। জানালার বাইরে বেশ গাঢ় হয়ে নেমেছে অন্ধকার, তবে তুষারের সাদায় গোটা উপত্যকা অবছায়া আলোকিত। স্কি বুটের ভেতর গোঁজা সবুজ স্ন্যাকস পরেছে সে। একই রঙের ব্লাউজ, চোখের সাথে ম্যাচ করা। পিছনে পিটারের পায়ের আওয়াজ পেয়েই পর্দার আড়ালে হাত ঢুকিয়ে একটা বোতাম চাপ দিল সে, কোনো শব্দ না করে জানালায় পর্দা পড়ল তারপর পিটারের দিকে ঘুরে দাঁড়াল সে।
ড্রিঙ্ক, পিটার?
আগে কাজের কথা শেষ হোক।
হোক।
হাত তুলে ফায়ারপ্লেসের কাছাকাছি চৌকো, নরম লেদার আর্মচেয়ার দেখাল ব্যারনেস ম্যাগডা, তারপর হঠাৎ হাসল সে। নার্মকোর সেলস ডিরেক্টর হিসেবে এমন একটা জাদুকরকে পেয়ে যাব ভাবতেও পারিনি। এই অল্প কদিন তুমি যা করেছ আমি অবাক হয়ে গেছি।
তুমি জানো, পুরো ব্যাপারটা একটা কাভার, প্রশংসাটা উড়িয়ে দিল পিটার। কাভারটা জেনুইন প্রমাণ করতে হবে না। তাছাড়া আমি এখনো নিজেকে একজন সৈনিক বলে মনে করি। কাজটা ইন্টারেস্টিং লাগছে।
ইংরেজরা কি সবাই তোমার মতো বিনয়ী! কৃত্রিম অসহায় একটা ভঙ্গি করে হাসল ব্যারনেস ম্যাগডা। পিটারের সামনে হাঁটাহাঁটি করছে, ঠিক অস্থির নয় তবে কি এক পুলক যেন তাকে চঞ্চল করে তুলেছে। আমাকে জানানো হয়েছে ন্যাটো নাকি কেসট্রেল টেস্ট করতে যাচ্ছে, একটানা প্রায় দুবছর টালবাহানা করার পর।
কেসট্রেল হলো নার্মকোর তৈরি মাটি থেকে মাটিতে নিক্ষেপযোগ্য পোর্টেবল মিসাইল।
আরো খবর পেলাম পুরানো কজন কলিগের সাথে তুমি কথা বলার পর সিদ্ধান্তটা নিয়েছ ওর।
দুনিয়াটা তো চলছে বন্ধুত্বের খাতিরে, মৃদু হাসল পিটার।
ইরানেও তাহলে তোমার বন্ধু আছে? মাথা একটু কাত করে উত্তরের অপেক্ষায় পিটারের দিকে তাকিয়ে থাকল ব্যারনেস ম্যাগডা।
শুধু বন্ধুত্ব নয়, ভাগ্যও সহায়তা করছে, বলল পিটার। নতুন সামরিক উপদেষ্টার সাথে এক সময় একই ট্রেনিং কোর্স-এ ছিলাম।
.
পরের সপ্তাহে ব্যারনেসের লিয়ার জেট বিমান নিয়ে প্যারিসের ওরলি বিমানবন্দরে এল ওরা দুজন। ব্যারনেসের লাল ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দেখে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেয়া হলো।
পিটারের কানের কাছে ঠোঁট রেখে ব্যারনেস ম্যাগডা ফিসফিস করে বলল, আমার মতো তোমারও একটা লাল বই দরকার। তারপর, অফিসারদের বলল, কেউ বলতে পারবে না সকালটা আজ ঠাণ্ডা নয়, কাজেই আপনাদের হাতে গ্লাস থাকা দরকার।
আগেই অবশ্য সাদা জ্যাকেট পরা স্টুয়ার্ড ড্রিঙ্ক পরিবেশনের আয়োজন শুরু করেছে। আরাম করে বসার জন্যে হ্যাট আর পিস্তল বেল্ট খুলে ফেলল অফিসাররা, আয়েশ করে হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে।
ওদের ওখানে রেখেই প্লেন থেকে নেমে পড়ল ব্যারনেস, পিটারকে নিয়ে। হ্যাঙ্গারের পিছনে ড্রাইভার আর গার্ডসহ তিনটে গাড়ি অপেক্ষা করছিল। তিনটের মধ্যে একটা মাসেরাতি, দেখেই পিটারের ঠোঁটের কোণ বাঁকা হয়ে গেল।
ওটা চালাতে তোমাকে আমি নিষেধ করেছি, গম্ভীর সুরে বলল ও। নিজের বিপদ ডেকে আনতে চাও নাকি?
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর সময় গাড়িটা নিয়ে তর্ক করেছে ওরা। মাসেরাতির রঙ ইলেকট্রিক সিলভার গ্রে, ব্যারনেসের প্রিয় রঙগুলোর একটা। ঝকঝকে গাড়িটা, সবাই জানে ব্যারনেস অল্টম্যান ওটায় চড়তে ভালোবাসে। সকৌতুক একটা আওয়াজ করে পিটারের কাছে সরে এল ব্যারনেস ম্যাগডা, কি ভালোই না লাগছে, কোনো পুরুষ আবার কর্তৃত্ব ফলাচ্ছে আমার ওপর। অনেক দিন পর আবার অনুভব করতে পারছি, আমি আসলে মেয়ে।
