পুলিশকে জানিয়েছিলেন?
কেন জানাইনি বলতে পারব না। তখন ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়নি। মনের অবস্থাও ভালো ছিল না যে খতিয়ে সব কিছু দেখব। তাছাড়া প্রথম থেকেই আমার জেদ ছিল ওদের আমি নিজের চেষ্টায় খুঁজে বের করব।
ওই একবারই নামটা শোনেন?
অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল ব্যারনেস, যেন পিটারের প্রশ্ন শুনতেই পায়নি। আমেরিকানরা কিউবার সাথে আপোষ করে কিছুটা সামাল দিয়েছে। আপনাদের দেশেও আইআরএ-এর বিরুদ্ধে ভালো সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জার্মানিতেও একই কথা। নিজেদের মধ্যেকার লড়াই নিয়ে লেবাননে আরবরা ব্যস্ত। সারা দুনিয়া জুড়ে টেরোরিজম একটা লাভজনক ব্যবসা হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রমাণিত হিসেব-সফল হবার সম্ভবনা শতকরা সত্তর ভাগ! পুঁজি খুব কম লাগে। নগদ প্রাপ্তির সাথে উপরি পাওনা পাবলিসিটি। প্রভাব বা ত্রাস সষ্টি হয়, অসামান্য রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতে চলে আসে। এমনকি ব্যর্থ হলেও শতকরা পঞ্চাশ ভাগ সম্ভাবনা থাকে প্রাণে বাঁচার। হাসল সে, কিন্তু এখন আর মাধুরী বা উষ্ণতা নেই হাসিতে। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বলতে পারি, এর চেয়ে ভালো ব্যবসা আর হতে পারে না।
কিন্তু ব্যবসাটা অ্যামেচাররা করছে, বলল পিটার। কিংবা এভাবে বলা যায়, প্রফেশলনাল যারা জড়িত তাদের উদ্দেশ্য সীমিত, সমাজের অব্যবস্থা আর অন্যায় অবিচার সহ্য করতে না পেরে ঘৃণায় আর আক্রোশে অন্ধ হয়ে এ পথে নেমেছে। এদের দ্বারা মহৎ কোনো উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
দুঃখিত, আমি শুধু একা একা বকবক করে যাচ্ছি। আসলে কি জানেন, আপনাকে আমার পুরানো বন্ধুর মতো লাগছে। ভালো কথা, আমি ম্যাগডা।
ধন্যবাদ, ম্যাগডা।
হ্যাঁ, আপনার কথা ঠিক, আগের সূত্র ধরে আবার শুরু করল ব্যারনেস ম্যাগডা। এতদিন অ্যামেচারই জড়িত ছিল। কিন্তু কথাটি এখন আর সত্যি নয়।
আপনি বলতে চাইছেন মাঠে খলিফা নেমেছে।
ফিসফিস গুঞ্জন যা শুনেছি আর কি। কোনো নাম নয়, শুধু ওই একটা রহস্যময় শব্দ। এথেন্সে হয়তো একটি মিটিং হয়ে গেছে, কিংবা আমস্টারডাম, ইস্ট বালিনে, বা এডেনে। খলিফা কে জানি না, নামটা একজনের নাকি কয়েকজনের তাও বলতে পারব না। তবে সত্যি যদি তার অস্তিত্ব থাকে, নিশ্চয়ই সে ধনকুবেরদের একজন হবে। এবং খুব তাড়াতাড়ি প্রচণ্ড ক্ষমতা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে।
একজন বা একদল মানুষ? কোনো সংগঠন নয়?
হতে পারে, জানি না। হয়তো কোনো সরকার। রাশিয়া, কিউবা, লিবিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশ।
কিন্তু উদ্দেশ্য?
টাকা। রাজনৈতিক মতলব হাসিলের জন্য ফান্ড। তারপর, ক্ষমতা অসহায় ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকাল ব্যারনেস ম্যাগডা। এও স্রেফ কল্পনা। তবে টাকা ওরা যথেষ্ট কামিয়েছে–ওপেক আর আমার কাছ থেকে তো বটেই, আন্যান্য আরো অনেকের কাছ থেকে। এবারে চাই রাজনৈতিক ক্ষমতা। প্রথমে নরম একটা টার্গেট। আফ্রিকার একটা ব্যর্থ সরকার–এক ডজন প্রাণের বিনিময়ে খনিজ পদার্থে ভরা একটা দেশ। এমনকি মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হলেও তারা যে সান্ত্বনা পুরস্কার পেত, তাও কম নয়–প্রচুর সোনা। ওটাই ব্যবসা, পিটার। সফল হওয়ারই কথা ছিল। এবং হয়েছেও। পশ্চিমা দেশগুলো ভিকটিমদের চাপ দিয়েছে, চাপ দিয়ে হাইজ্যাকারদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করেছে। সবকিছু চলছিল ঠিক মতো-গোল বাঁধাল একজন মাত্র মানুষ।
ভয় পেলাম, মৃদু স্বরে বলল পিটার। জীবনে প্রথমবারের মতো চরম ভীত আমি।
আমিও তাই, পিটার, ব্যারনেস বলে। অ্যারনকে অপহরণ করে যেদিন ওরা। ফোন করল, সেদিন থেকে। আরো বেশি করে ভয় পাই আজকাল।
এরপর কি ঘটল?
জানি না। যে নামটা ওরা ব্যবহার করল, তার মধ্যে কেমন একটা ধর্মীয় উন্মাদনা ছিল। এমন একজন মানুষ রয়েছে এর পিছনে খোদার মতো ক্ষমতার ব্যারনেসের হাতের ডায়মন্ড ঝিকিয়ে উঠল। এমন একজন মানুষের মনের গভীরতা আচ করা সম্ভব নয়। সে হয়তো ভাবছে, মানবতার উন্নতির জন্যে এসব করছে সে। হয়তো ভাবছে, ধনীদের আক্রমণ করে, আতঙ্কবাদ দ্বারা শোষিতের মুক্তি আনবে। সম্ভবত অন্যায় দিয়ে সমস্ত ভুল সঠিক করতে চাইছে খলিফা।
আবারো, পিটারের হাত ধরল ম্যাগডা, তার হাতের শক্তিতে চমকে একটু চমকাল পিটার। তাকে খুঁজে বের করতে আমাকে সাহায্য কর, পিটার। সমস্ত কিছু দিয়ে আমি এর শেষ চাই, কোনো পরোয়া করি না। সমস্ত যোগাযোগ, অর্থ আমি ঢালব এই যুদ্ধে।
এজন্যে যে, আহত মেয়েটাকে আমি মেরেছি বলে বিশ্বাস কর তুমি? পিটার জানতে চায়। এটাই কি আমার যোগ্যতা? একটু শিউরে উঠে সরে যায় ম্যাগডা। তেরছা মঙ্গোলীয় চোখে তাকায় ওর দিকে। ঠিক আছে, স্বীকার করি, এটাও একটা কারণ। কিন্তু পুরোটা নয়। তুমি তো জানেনা, তোমার লেখা আমি পড়েছি। তোমাকে আমি ভালোভাবে স্টাডি করেছি। এই কাজের জন্যে তুমি সেরা। শেষপর্যন্ত তুমি নিজে তা প্রমাণ করেছ। আমি জানি, খলিফাকে খুঁজে বের করার জন্যে যতটুকু সামর্থ আর যোগ্যতা দরকার–তা তোমার আছে। সে আমাদেরকে, এই দুনিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়ার আগে তাকে ধ্বংস কর।
নিচু হয়ে তাকিয়ে ছিল পিটার। ওর ধারণা ছিল, শয়তানটার বহু মাথা, একটা কাটলে আরো একটা গজাবে। কিন্তু এখন সে জানে, জন্তুটার আকার কেমন। এখনো সে আড়ালে আছে, কিন্তু মাথা তার একটা–এটা নিশ্চিত। হতে পারে, সে হয়তো মরণশীল।
