এসো ধরি, মোসাড জানে আমি স্যার স্টিভেন স্ট্রাইড নই এবং আমার আসল কাজ ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের পরিচয় ফাঁস করে দেয়াও নয়, তাহলে? মোসাডের ওরা এই পরিস্থিতিতে কি ভাববে?
কয়েক সেকেন্ড বিবেচনা করল ব্যারনেস। ঠিক বুঝতে পারছি না।
ওরা যদি জানে স্টিভেনের জায়গায় পিটার স্ট্রাইড এসেছে, আবার প্রশ্ন করল পিটার, তাহলে কি ঘটে দেখার কৌতূহলে মোসাড কি সাক্ষাৎকারটা অনুষ্ঠিত হতে দেবে?
তুমি কি চাইছ তোমার কথা জানিয়ে মোসাডে রিপোর্ট করি আমি?
তাতে যদি আমার সুবিধে হয়, করবে না?
সুবিধে? ওদেরকে রিপোর্ট করা আর তোমার ডেথ ওয়ারেন্টে সই করা, একই ব্যাপার—পিটার, তুমি না আমার লক্ষ্মী সোনা!
কিংবা হয়তো সেটাই হবে আমার রক্ষাকবচ।
পিটারকে জড়িয়ে ধরে ঝাঁকি দিল ব্যারনেস। রক্ষাকবচ হয় কি করে!
ঠিক জানি না, বলল পিটার। তবে একটা জিনিস বুঝি, আমি খলিফার সামনে দাঁড়াতে পারলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তার সামনে একবার পৌঁছুতে পারাই আমার উদ্দেশ্য। বাঁচা-মরা ভাগ্যেরও তো ব্যাপার ম্যাগডা। কিন্তু ভেবে দেখ, এরকম সুবর্ণ সুযোগ আর পাব না। খলিফা জানে, তোমাকে আমি খুন করেছি। জানে, আমার ভাইয়ের মাধ্যমে তাকে সাবধান করে দিতে চাইছি। এই মুহূর্তে সিকিউরিটির কথা ভেবে খুব একটা উদ্বেগে নেই সে। এরকম সুযোগ আর পাব?
কথা বলতে পারল না ব্যারনেস, নিঃশব্দে শুধু মাথা নাড়ল।
তোমার জন্যে আমার এত ভয় হয়, পিটার। যদি চাও আমি মারা যাই, তাহলে হও, যাও খুন হয়ে। প্রচণ্ড ভালোবাসা বোধহয় অভিশপ্ত… কথা শেষ না করে পা দুটো ভাজ করল ব্যারনেস, হাঁটু জোড়া তুলে আনল বুকের ওপর-ভ্রুণের ভঙ্গি।
করবে, ম্যাগডা?
তুমি চাও, কন্ট্রোলকে তোমার আসল পরিচয় জানিয়ে দিই, বলি ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের পরিচয় ফাস করার কোনো ইচ্ছে তোমার নেই, তুমি অজ্ঞাত কোনো কারণে খলিফার সাথে দেখা করতে চাও, এবং খলিফা লোক ভালো নয়, এই তো?
হ্যাঁ।
মাথা ঘুরিয়ে পিটারের দিকে তাকাল ব্যারনেস। তোমাকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
কি প্রতিজ্ঞা?
কন্ট্রোলের সাথে কথা বলে যদি বুঝি তোমার বিপদ কাটেনি, যদি বুঝি খলিফার সাথে দেখা করার আগে তোমাকে ওরা বাধা দেবে ঠিক করেছে, তাহলে তোমাকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে দেখা করার প্ল্যান বাদ দেবে তুমি। সোজা আমার লীয়ারের কাছে চলে যাবে, পিয়েরে তোমাকে নিরাপদ কোথাও পৌঁছে দেবে।
তুমি আমার সাথে চালাকি করবে না, পুরোপুরি সৎ থাকবে? জিজ্ঞেস করল পিটার। মোসাডের প্রতিক্রিয়া নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিবেচনা করবে—আর, যদি দেখ দেখা করার ফিফটি-ফিফটি চান্স আছে, চান্সটা আমাকে নিতে দেবে?
মাথা ঝাঁকাল ব্যারনেস।
আমার মাথা ছুঁয়ে শপথ কর, জেদ ধরল পিটার।
পিটারের মাথায় হাত রাখল ব্যারনেস। বেঁচে ফিরে যাবার সম্ভাবনা আছে। দেখলে তোমাকে আমি বাধা দেব না—আমার ভালোবাসার নামে কসম।
পিটারের পেশিতে ঢিল পড়ল।
এবার তোমার পালা…
ব্যারনেসের মাথার হাত রেখে পিটার বলল, যদি দেখি খলিফার সাথে দেখা করার কোনো সুযোগ পাব না, তোমার কথা মতো লিয়ারের কাছে চলে যাব আমি…
পিটারের বুকের নিচে ঘুরে গেল ব্যারনেস, ওর ঘাড় পেঁচিয়ে ধরল দুহাতে। আমাকে ভালোবাসো পিটার। তাড়াতাড়ি। ভালোবাসো আমাকে।
.
কাপড় পরা শুরু করে ব্যারনেস বলল, ফোন করা সম্ভব নয়। এই কামরায় লোক পাঠাব আমি। ক্যানভাস বুটের ফিতে বাঁধল সে। শুধু বিপদের খবর হলে লোক পাঠাব। সে শুধু বলবে, ব্যারনেস আমাকে পাঠিয়েছে। সাথে সাথে তার সাথে বেরিয়ে পড়বে তুমি। সে তোমাকে লিয়ারের কাছে নিয়ে যাবে।
সিধে হয়ে দাঁড়াল ব্যারনেস, খাকি ট্রাউজার্স পরে আয়নার সামনে চলে এল, চুলে চিরুনি চালাচ্ছে। সাথে কিছু আছে তো, পিটার? আয়নায় ওকে দেখতে পাচ্ছে সে।
মাথা নাড়ল পিটার।
আমি জোগাড় করে পাঠাতে পারি, কি লাগবে বল-ছুরি, পিস্তল?
আবার মাথা নাড়ল পিটার। খলিফার সামনে যেতে দেয়ার আগে সার্চ করা হবে আমাকে।
হ্যাঁ, তা ঠিক। শার্টের বোতাম লাগাল ব্যারনেস, ওর বুকের বৃন্ত দুটো সাম্প্রতিক ভালোবাসায় লালচে-বেগুনি আর উদ্ধত হয়ে আছে।
সবকিছু খুব দ্রুত ঘটবে, পিটার। আগামীকালের মধ্যে সবকিছু বোঝা যাবে– ভালো বা খারাপ। আমি অনুভব করতে পারছি ছোট্ট বুক দুটোর মাঝখানে হাত রাখল ম্যাগডা। এইখানে। চুমো খাও। বহুক্ষণ ছিলাম এখানে। দুজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে এখন আমার চলে যাওয়া উচিত।
.
ভীষণ ক্লান্ত হলেও ব্যারনেস চলে যাবার পর সামান্য একটু ঘুমাতে পারল পিটার। সারা রাতে পঁচ-সাত বার ঘুম ভেঙে গেল, সটান বিছানার ওপর উঠে বসে নিস্তব্ধতার ভেতর কান পেতে থাকল। সূর্য ওঠার আগে ব্রেকফাস্টের অর্ডার দিল ও, কিন্তু সেদ্ধ একটা ডিম আর কফি ছাড়া কিছু চুল না। শুরু হলো অপেক্ষার পালা।
দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে, ব্যারনেস কোনো মেসেজ পাঠায়নি। মোসাড সম্ভবত সিদ্ধান্ত নিয়েছে খলিফার সাথে দেখা করতে ওকে তারা বাধা দেবে না। ব্যারনেসের মনে ক্ষীণ একটু সন্দেহ থাকলেও ওকে খবর পাঠাত সে। রুম সার্ভিসকে দিয়ে হালকা লাঞ্চ আনিয়ে খেয়ে নিল পিটার। জানালার সামনে দাঁড়িয়ে নিস্তেজ হতে দেখল কড়া রোদকে। বিকেল হয়ে গেছে।
সন্ধে হতে আধঘণ্টা বাকি, টেলিফোন বেজে উঠল। চমকে উঠে রিসিভার তুলল পিটার।
