দাঁড়িয়েই থাকবে শুধু? পিটার থামতেই ঝাঁপ দেয়ার গতি পেল, ওর বুকে ধাক্কা খেল ব্যারনেস। পিটার অনুভব করল পেলব দুটো বাহু ওর ঘাড় জড়িয়ে ধরে সাপের মতো প্যাঁচ কষছে।
প্ল্যানটা কি, পিষে মেরে ফেলবে? দম নিতে রীতিমতো কষ্ট হচ্ছে পিটারের।
পিছিয়ে এল ব্যারনেস, কিন্তু দুহাত দিয়ে ধরে রাখল পিটারের কাঁধ। পিটার, ডার্লিং–বেশিক্ষণ থাকতে পারব না। অসম্ভব ঝুঁকি নিয়ে এখানে এসেছি। হোটেলের ওপর নজর রাখছে ওরা, আর সুইচবোর্ডের মেয়েগুলো মোসাড। তা না হলে ফোন করলেও পারতাম…।
কি জানো সব বল, নির্দেশ দিল পিটার।
ঠিক আছে, কিন্তু ধরো আমাকে, শেরি। যতক্ষণ একসাথে আছি একটা সেকেন্ডও নষ্ট করতে চাই না।
বাথরুমে লুকাল ব্যারনেস, রুম সার্ভিস হুইস্কি সোডা দিয়ে চলে গেল। বেরিয়ে এসে সোফায় পিটারের গায়ে হেলান দিয়ে আবার বসল ব্যারনেস।
ক্যাকটাস ফ্লাওয়ার,,,?
কন্ট্রোলকে রিপোর্ট করেছে, খলিফার সাথে দেখা করতে চেয়েছে স্টিভেন, এবং তার পরিচয় ফাস করে দিতে চাচ্ছে। কাল পর্যন্ত এইটুকু জানতাম আমি। তবে আন্দাজ করে নিতে অসুবিধে হয়নি। ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের প্রথম রিপোর্টে তোমার বদলে স্টিভেনের নাম রয়েছে দেখে প্রথমে আমি অবাক হয়ে যাই। তারপর আমার মনে পড়ে, আমার কন্ট্রোল স্টিভেনের নামটাও বলেছিল, ভাবলাম স্টিভেনই তাহলে খলিফার সমার্থক নাম, কিন্তু স্টিভেন আসছে কেন, আসার কথা তো তোমার! ধরে নিলাম, স্টিভেনের সাথে তোমার একটা সমঝোতা হয়েছে, ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের কথা তাকে তুমি জানিয়েছ…পিটার, মাই লাভ, আমরা তো বিছানায় শুয়েও কথা বলতে পারি, তাই না? ফিসফিস করে বলল ব্যারনেস। কতদিন তোমাকে আমি কাছে পাই না..।
তার ত্বক নিরাবরণ গরম সাটিনের মতো। তার গলা পিটারের গলার সাথে সেঁটে থাকল। তার সমতল মসৃণ তলপেটে ভারী আর শক্ত একটা ঊরু তুলে দিল পিটার।
স্টিভেনের দেখা করার অনুরোধ অন্য একটা চ্যানেলে খলিফার কাছে পৌঁছায়, মেসেজটা পৌঁছুতে বাধা দেবে সে উপায় ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের ছিল না…
তার পরিচয় কি? জানতে পেরেছে কে সে?
না। মাথা নাড়াল ব্যারনেস। এখনো জানতে পারেনি।
পিটারের পেটে আঙ্গুল দিয়ে রেখা আঁকছে সে।
এমন করলে চিন্তা করতে পারছি না, প্রতিবাদ করল পিটার।
দুঃখিত। হাতটা পিটারের গালে তুলে আনল ব্যারনেস। তবে সাক্ষাৎকারের আয়োজন করার দায়িত্ব খলিফা ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের দিল। কি আয়োজন করা হয়েছে আমি জানতাম না। তারপর আজ সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশন তালিকায় স্যার স্টিভেন স্ট্রাইড নামটা দেখলাম। দেখা মাত্র বুঝতে পারলাম কি হতে চলেছে। সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা ইসরায়েলে করা হয়েছে, কারণ এখানে স্টিভেনকে খুন করা ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের জন্যে পানির মতো সহজ। স্টিভেন কোথায় উঠবে জানতে তিন ঘণ্টা লেগে গেল আমার।
এখন ওরা দুজনেই চুপচাপ, পিটারের ঘাড়ে নামিয়ে মুখটা তুলে ধরল ব্যারনেস, পরম সুখে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলছে। ওহ্ গড, পিটার! তুমি দূরে থাকলে আমার যে কি কষ্ট হয়!
শোনো, ডার্লিং। আর কি জানো সব বল আমাকে। নরম আঙ্গুলে তার চিবুক ধরে উঁচু করল পিটার চোখ দেখার জন্যে, তার চোখে দৃষ্টি ফিরে এল। তুমি কি জানতে স্টিভেনকে খুন করার চেষ্টা করা হবে?
না–কিন্তু সঙ্গত কারণেই মোসাড সে চেষ্টা করতে পারে, ক্যাকটাস ফ্লাওয়ারের পরিচয় তারা গোপন রাখতে চাইবে।
আর কি জানো?
কিছু না।
খলিফা আর স্টিভেনের দেখা করার ব্যবস্থা আদৌ করা হয়েছে কিনা জানো?
না, স্বীকার করল ব্যারনেস। জানি না।
খলিফার পরিচয় সম্পর্কেও এখনো কিছু জানতে পারনি?
না।
আবার ওরা চুপ করে গেল। কনুইয়ের ভর দিয়ে পিটারের বুকের ওপর উঁচু হয়ে আছে ব্যারনেস, ওর মুখ লক্ষ্য করছে।
পিটার বলল, খলিফার নির্দেশ অমান্য করার ঝুঁকি ক্যাকটাস ফ্লাওয়ার নেবে না, সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে তাকে। খলিফা জড়িত, কাজেই কোনো ছল-চাতুরির আশ্রয় নিতেও সাহস করবে না।
নিঃশব্দে মাথা ঝাঁকাল ব্যারনেস।
তাহলে আমাদের বিশ্বাস করতে হয়, এই মুহূর্তে কাছে কোথাও রয়েছে। খলিফা, খুব কাছাকাছি কোথাও।
হ্যাঁ, আবার মাথা ঝাঁকাল ব্যারনেস, কিন্তু অনিচ্ছাসত্ত্বেও।
তার মানে স্টিভেনের বদলে আমাকে যেতে হবে তার কাছে।
না, পিটার, না। ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে।
একবার এরইমধ্যে চেষ্টা করা হয়েছে, মার্সিডিজের ঘটনাটা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করল পিটার, ওর শিরদাঁড়ার ওপর ক্ষতটায় নরম আঙুল ছোঁয়াল ব্যারনেস।
পিটার, ওরা তোমাকে খলিফার কাছে পৌঁছুতে দেবে না।
না দিয়ে উপায় নেই ওদের, বলল পিটার। খলিফা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভারি উদ্বিগ্ন, স্টিভেনের কাছ থেকে তথ্য পাবার জন্যে অস্থির হয়ে আছে সে।
ওরা তোমাকে তার আগেই যদি খুন করতে পারে? তাই করবে, পিটার, ওদের তুমি চেনো না!
চেষ্টা করবে, হয়তো, বলল পিটার। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে সাক্ষাৎকারের একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা আছে, তার বেশি দেরি নেই। আরেকবার খুনের আয়োজন করার মতো সময় নেই ওদের হাতে। তাছাড়া, এখন আমি জানি, আমার ওপর হামলা হতে পারে। সব দিক ভেবেই বলছি, আমার এগোনো উচিত।
ওহ্ পিটার… ব্যারনেসের ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরল পিটার।
