ইয়েস, হোয়াই ইট ইজ? বিরক্তি চেপে জিজ্ঞেস করল পিটার।
পিটার?
স্টিভেন?
দেখা করতে রাজি হয়েছে সে।
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন দ্রুত হলো, শান্ত থাকার চেষ্টা করল পিটার। কখন? কোথায়?
জানি না। কাল আমাকে প্লেনে করে ওরলিতে যেতে হবে। এয়ারপোর্টে পৌঁছে নির্দেশ পাব।
নিজের নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রেখে সাক্ষাতের আয়োজন করছে খলিফা। এ ধরনের কিছু ঘটবে, আগেই আন্দাজ করা উচিত ছিল পিটারের। ব্যস্তভাবে ওরলি এয়ারপোর্টের লে-আউট কল্পনা করার চেষ্টা করল ও। সবার চোখের আড়ালে কোথাও স্টিভেনের সাথে দেখা হওয়া চাই ওর, তা না হলে ভূমিকা বদলের সুযোগ পাওয়া যাবে না। লাউঞ্জে সম্ভব নয়, সম্ভব নয় ওয়াশরুমে। বাকি রইল আর মাত্র একটা জায়গা। তুমি ওখানে পৌঁছুবে কখন?
আমার ফ্লাইট সকালের দিকে, পৌঁছুবে সোয়া এগারোটায়।
তোমার আগে পৌঁছুব আমি, স্টিভেনকে বলল পিটার, সাবেনা ফ্লাইটের টাইমটেবল মুখস্থ হয়ে আছে ওর, আর নার্মকোর সিনিয়র একজিকিউটিভদের ভি.আই.পি কার্ড থাকায় যে-কোনো ফ্লাইটে সীট পাওয়া কোনো সমস্যাই নয়। মন দিয়ে শোনো, কিংবা লিখে নাও–ওরলি সাউথ টার্মিনালের পাঁচতলায় এয়ার হোটেল, জানো? তোমার নামে ওখানে আমি একটা কামরা ভাড়া করব। সোজা রিসেপশনে গিয়ে কামরার চাবি চাইবে তুমি। লাউঞ্জেই অপেক্ষা করব আমি দেখব কেউ তোমাকে ফলো করছে কিনা। আমাকে চেনো না। বুঝতে পারছ সব, স্টিভেন?
পারছি।
তাহলে কাল দেখা হবে।
কানেকশন কেটে দিয়ে আবারো বাথরুমে গিয়ে নিজের মুখ পরখ করল পিটার! কলিনের থেকে অস্ত্র ধার চাওয়ার বারোটা বেজে গেল।
আবার পায়চারি শুরু করল পিটার। বোঝা যাচ্ছে, খলিফা ইংল্যান্ডে দেখা করবে না। প্যারিসও সম্ভবত মধ্যবর্তী একটা স্টেশন মাত্র, গন্তব্য নয়। সাবজেক্টকে এভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা ঘোরাবার অনেক কারণের মধ্যে একটা, সে যাতে সাথে কোনো অস্ত্র নিয়ে যেতে না পারে। তাহলে সাক্ষাতের পর খুন করা সহজ হবে।
পোশাক, ভাঁজ করা ছুরি, কসমেটিক সামগ্রী, সব একটা গুচি ব্যাগে গুছিয়ে নিল পিটার। অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে।
.
ওরলি সাউথ এয়ার হোটেলের লবিতে বারোটা পাঁচে দেখা গেল স্টিভেনকে, কৃতজ্ঞ পিটার মনে মনে অভিবাদন জানাল নিজেকেই। নীল ডাবল ব্রেস্টেড ব্লেজার, সাদা শার্ট, আর ক্রিকেট-ক্লাব টাই পরেছে স্টিভেন, পায়ে গ্রে রঙের উলেন মোজা আর কালো ইংলিশ জুতো, হাতে তৈরি। ট্রেঞ্চ কোটের নিচে পিটারও একটা ডাবল ব্রেস্টেড পরেছে, পায়ের জুতো জোড়াও কালো।
স্টিভেনের সাধাসিধা পোশাকের একটা। তবে টাইয়ের ব্যাপারে একটু ভুল হয়ে গেছে ওর। সে নিজেও ডাবল ব্রেস্টেড জ্যাকেট আর কালো জুতো, ট্রেঞ্চ কোট পরেছে।
লবির চারদিকে একবার চোখ বুলাল স্টিভেন, পত্রিকায় মনোনিবেশ করা পিটারকে দেখেও দেখল না। হাবভাবে কর্তৃত্বের ভাব নিয়ে ডেস্কের সামনে দাঁড়াল সে।
আমার নাম স্যার স্টিভেন স্ট্রাইড, একটা রুম রিজার্ভ করা আছে–চাবিটা।
তাড়াতাড়ি খাতা চেক করে মাথা ঝাঁকাল ক্লার্ক, স্টিভেনকে একটা ফর্ম আর চাবি দিল।
চারশ খোলো, নম্বরটা ভারী গলায় পড়ল স্টিভেন, পিটার যাতে শুনতে পায়।
মুখের সামনে খবরের কাগজ মেলে ধরে প্রবেশ পথের দিকে তাকিয়ে আছে পিটার, স্টিভেন লবিতে আসার পর অল্প দু-একজন ভেতরে ঢুকেছে, একজনকেও খলিফার চর বলে মনে হলো না। অবশ্য প্যারিস যদি মধ্যবর্তী স্টেশন হয়ে থাকে, স্টিভেনের ওপর নজর রাখার জন্যে এখানে খলিফা লোক পাঠাবে বলে মনে হয় না।
স্টিভেন এলিভেটরের দিকে এগোল, পেছনে ছোট একটা ব্যাগ নিয়ে পোটার। এলিভেটরের সামনে আরো কয়েকজন দাঁড়িয়ে রয়েছে, কাগজ রেখে পিটারও ধীরে পায়ে এগোল সেদিকে, সিগারেট ধরাতে ব্যস্ত।
এলিভেটরে পাশাপাশি দাঁড়াল ওরা, কেউ কারো দিকে তাকাল না। পাঁচতলায় পোর্টারকে নিয়ে নেমে গেল স্টিভেন, পিটার আরো তিনতলা পর্যন্ত উঠে বেরিয়ে এল করিডরে, খানিক হাঁটাহাঁটি করে আবার ফিরে এল আগের জায়গায়, আরেকটা এলিভেটরে চড়ে নামল পাঁচতলায়।
চারশ দশ নম্বর কামরার দরজা ভিড়িয়ে রেখেছিল স্টিভেন, চাপ দিতেই খুলে গেল। ভেতরে ঢুকে এক পাশে সরে দাঁড়াল পিটার, সাথে সাথে তালা লাগিয়ে দিল স্টিভেন।
কোনো সমস্যা হয়নি তো?
সহাস্যে মাথা নাড়ল, বলল। ড্রিঙ্ক চলবে? ডিউটি ফ্রি শপ থেকে একটা বোতল এনেছি।
গ্লাসের সন্ধানে বাথরুমে ঢুকল স্টিভেন, এই ফাঁকে কামরাটা চেক করে নিল পিটার। ডাবল বেড, টি ভি আর রেডিও, ছোট একটা টেবিল, দুখানা চেয়ার, একটা ওয়ারড্রোব। সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেল না।
দুটো গ্লাসে হুইস্কি ঢালল, পিটারের হাতে ধরিয়ে দিল একটা। একবার মাত্র চুমুক দিয়ে গ্লাসটা রেখে দিল পিটার।
খলিফার নির্দেশ কিভাবে পাবে আন্দাজ করতে পার? জিজ্ঞেস করল ও।
পাব মানে, পেয়ে গেছি! চেয়ারের পিঠে ঝোলানো ব্লেজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে লম্বা একটা এনভেলাপ বের করল স্টিভেন এয়ার ফ্রান্সের ইনফরমেশন ডেস্কে আমার জন্যে রাখা ছিল।
চেয়ারে বসে এনভেলাপটা খুলল পিটার। তিনটে আইটেম পেল ভেতরে। একটা ফাস্ট ক্লাস এয়ার ফ্রান্স এয়ারলাইন টিকেট, শোফার চাতি একটা লিমুসিন এর ভাউচার, আর একটা হোটেল রিজার্ভেশন ভাউচার। প্লেনের টিকেট যে কোনো এয়ার ফ্রান্স এজেন্সি বা কাউন্টার থেকে কেনা সম্ভব, লিমুসিন আর হোটেল বুকিং ও পরিচয় গোপন রেখে করা যায় না। না, সূত্র হিসেবে এ-সব কাগজের কোনো গুরুত্ব নেই।
