হ্যাঁ। আপোষহীন, নির্দয় সৈনিক। নিজের বিশ্বাসের জন্যে যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত?
কিন্তু আমি অমন নই, পিটার প্রতিবাদ করে।
হ্যাঁ, তুমি তাই, নিঃসন্দেহ কণ্ঠে বলে স্টিভেন! তুমি ঠিক খলিফার মতন মানুষ। এ ধরনের মানুষই যে আমাদের দরকার।
.
পিটারকে ধরে নিতে হলো, ওর ওপর কড়া নজর রাখছে খলিফা। ব্যারনেস ম্যাগডাকে ও খুন করার পর ওর ওপর খলিফার আকর্ষণ শতগুণ বেড়ে গেছে। কাজেই স্বাভাবিক আচরণ করতে হবে ওকে।
সোমবার ভোরের ফ্লাইট ধরে ব্রাসেলস ফিরে এল ও, দুপুরের আগে হেডকোয়ার্টারে নিজের ডেস্কে দেখা গেল ওকে। এখানেও ওকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে, তার সাথে শুরু হয়েছে ক্ষমতা ভাগ-বাটোয়ারার তোড়জোড়। অল্টম্যান ইন্ড্রাস্ট্রি তার চীফ একজিকিউটিভকে হারিয়েছে, কাজেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডিরেক্টররা মাথাচাড়া দিচ্ছে, প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে কে কার চেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে। এই দ্বন্দ্ব থেকে কৌশলে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখল পিটার। তবে গোটা ব্যাপারটার ওপর নজর রাখল, পরে যাতে ব্যারনেসকে রিপোর্ট করা যায়। এই পরিস্থিতিতে অনেক ডিরেক্টরের মুখোশ খসে পড়বে, পরে প্রয়োজনে তাদের বিদায় করে দেয়া সহজ হবে ব্যারনেসের পক্ষে।
সোম নয়, মঙ্গলবারের কাগজে ছাপা হলো স্টিভেনের বিজ্ঞাপন। ব্রাসেলসে বসে বিজ্ঞাপনটা পড়ল পিটার–
ইসরায়েলের শিশুরা প্রভুর সাহায্য কামনা করেছে, বলেছে, যুদ্ধে যাব কি? জাজেজ, ২০:৩০
স্টিভেন পিটারকে জানিয়েছে, সাড়া দিতে সাধারণত আটচল্লিশ ঘণ্টা সময় নেয় খলিফা।
লিডেনহল স্ট্রিটে, নিজের অফিস বিল্ডিংয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করবে স্টিভেন, দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত, এই সময়ের মধ্যেই আসবে ফোনটা। বুধবারে কোনো ফোন এল না, তবে আসবে বলে আশাও করেনি স্টিভেন। বৃহস্পতিবারে অফিসের মেঝেতে পায়চারি শুরু করল সে।
বিকেল চারটের সময় বাজল টেলিফোন। একবার, তারপর আরেকবার। রিসিভার তুলল স্টিভেন, হাতটা কাঁপছে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল। ভাবল, পিটারের কথা ঠিক, আমি বদলে গেছি। স্টিভেন, বলল সে। অপরপ্রান্তের এই কণ্ঠস্বর তার চেনা। যতবার শুনেছে স্টিভেন, বুকের ভেতরটায় কাপ ধরে গেছে। যেন কোনো রোবট কথা বলেছে। অলডগেট আর লিডেনহল স্ট্রিটের মাঝখানে। তারপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
কর্মচারীদের কারও চোখে ধরা না দিয়ে পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে এল স্টিভেন, খোলা গ্যারেজে রোলস রয়েসটা রয়েছে, সেদিক না তাকিয়ে ফুটপাথ ধরে ছুটল সে। দুটো রাস্তার মাঝখানে একটাই ফোন বুথ, কাছাকাছি পৌঁছুবার আগেই শুনতে পেল বেল বাজছে। বুথের ভেতর ঢুকে রিসিভার তুলল সে। স্টিভেন।
আলডগেট টিউব স্টেশন, হাই স্ট্রিট এন্ট্রান্স।
বুদ থেকে বেরিয়ে আবার হনহন করে এগোল স্টিভেন, বাঁক নিতেই দেখা গেল হাই স্ট্রিটের মুখে আরেকটা বুথ। এবারও ভেতরে ঢোকার আগেই বেলের আওয়াজ পেল সে। রিসিভার তুলে রুদ্ধশ্বাসে বলল, স্ট্রাইড।
একটা মেসেজ আছে।
ইয়েস।
খলিফার বিপদ।
ইয়েস।
একটা সরকারি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি তার কাছাকাছি একজন এজেন্টকে পাঠিয়েছে, এত কাছে যে কোনো মুহূর্তে তার পরিচয় ফাঁস হয়ে যেতে পারে।
তথ্যের উৎস বলুন।
আমার ভাই। জেনারেল পিটার স্ট্রাইড। স্টিভেনকে নির্দেশ দিয়েছে পিটার, যতটা সম্ভব সত্যি কথা বলতে হবে।
ইন্টেলিজেন্সের নাম বলুন।
নেগেটিভ। তথ্যটা ভয়ঙ্কর। খলিফা ব্যক্তিগতভাবে মেসেজটা রিসিভ করলেন কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে আমাকে।
শত্রু এজেন্টের নাম আর পজিশন বলুন।
নেগেটিভ। সেই একই কারণ।
রোলেক্স হাতঘড়ির ওপর চোখ বুলাল স্টিভেন। পনেরো সেকেন্ড হলো কথা বলছে ওরা। জানে, যোগাযোগ ত্রিশ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হবে না।
অপরপ্রান্তে যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর শব্দ করছে না।
আমি শুধু খলিফাকে তথ্যটা দেব, আমাকে নিশ্চিতভাবে জানতে হবে একা তিনিই পেলেন। আমি তার সাক্ষাৎ প্রার্থনা করছি।
তা সম্ভব নয়।
তাহলে খলিফা সাংঘাতিক বিপদের মধ্যে থাকবেন, গম্ভীর গলায় বলল স্টিভেন।
আই রিপিট, শত্রু এজেন্টের নাম আর পজিশন বলুন।
পঁচিশ সেকেন্ড পেরিয়ে যাচ্ছে।
আমি আবার বলছি, নেগেটিভ। যেভাবেই হোক তার সাথে আমার সামনাসামনি দেখা করার ব্যবস্থা করুন। স্টিভেনের জুলফি থেকে ঘামের ধারা গড়াচ্ছে।
আপনার সাথে যোগাযোগ করা হবে, যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর জানাল, তারপরই বিচ্ছিন্ন হতে গেল যোগাযোগ।
বুক পকেট থেকে সাদা সিল্কের রুমাল বের করে মুখ মুছল স্টিভেন। এরপর, যত্ন করে এলোমেলো ভঙ্গিতে পকেটে রাখল রুমালটা।
কাঁধ উঁচু করে, চিবুক খাড়া রেখে বুথ থেকে বেরিয়ে গেল সে। অনেকদিন পর নিজেকে সাহসী মানুষ মনে হচ্ছে তার। এমন অনুভূতি দারণ আনন্দ দিচ্ছে স্টিভেনকে। হাতের ছাতাটা নাচাতে নাচাতে হেঁটে চলল সে।
.
পুরো সপ্তাহ টেলিফোনের কাছাকাছি থাকল পিটার। তাহিতিতে যাবার আগে অনেক কাজ ফেলে রেখে গিয়েছিল, নতুন আরো কিছু জমেছে, সেগুলো সারতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ও। দুটো চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করার জন্যে অসলো আর ফ্রাঙ্কফুর্ট যেতে হলো, সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় মধ্যে ফিরে আসতে পারল। প্রতিদিন সন্ধ্যাটা ন্যাটো অফিসার্স ক্লাব জিমনেশিয়ামে শরীর-চর্চায় কাটে, ওখান থেকে বেরিয়ে ঢুকে পড়ে আন্ডারগ্রাউন্ড পিস্তল রেঞ্জে, টার্গেট প্র্যাকটিস করে রাত বারোটা পর্যন্ত। নাইন এম,এম, কোবরা ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠল দুটো হাত আর দশটা আঙুল।
