এখন কি মনে হচ্ছে তোমার? এখনো কি তুমি তার প্রতি আস্থা রাখতে পারছ?
টাম্বলারের অবশিষ্ট হুইস্কি দুঢোকে খেয়ে ফেলল স্টিভেন, হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ভেজা গোঁফ মুছল। নার্ভাস হয়ে পড়েছে সে।
উত্তর দাও, স্টিভেন।
আমি এখনো মনে করি আইডিয়াটা ভালো… অনিচ্ছাসত্ত্বেও বলল স্টিভেন। আমরা একটা বাতিলযোগ্য দুনিয়ায় বাস করছি। আরেক ছাচে ফেলে এটাকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব…।
তুমি বলতে চাইছ খলিফা অসৎ লোক? তার মহৎ কোনো উদ্দেশ্য নেই?
আমি কেন বলব, তুমিই নিজেই বলেছ অল্টম্যান খুন হবার পর তার প্রতি বিশ্বাসে তোমার চির ধরে, বলল পিটার। তারপর মেলিসাকে কিডন্যাপ করে সে। বলতে পার, এর পিছনে কি মহৎ উদ্দেশ্য ছিল তার?
হ্যাঁ, মৃদুকণ্ঠে বলল স্টিভেন, তার এই দুটো কাজ অন্যায় হয়ে গেছে…
তার মানে খলিফা মানবজাতির মঙ্গলের জন্য নয়, নিজের স্বার্থে কাজ করছে, এটা বুঝতে পারছ?
আমি এখনো নিশ্চিত নই
এখন তাহলে বিশ্বাস হয় না যে লোকটা একটা শয়তান?
কিন্তু পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার একটা ব্যাপক পরিকল্পনা থাকা উচিত, এ আমি এখনো বিশ্বাস করি।
কিন্তু সে ধরনের কোনো পরিকল্পনা খলিফার নেই।
হয়তো নেই, তবে থাকলে ভালো হতো… থমথম করছে স্টিভেনের চেহারা।
তুমি বলেছ, মেলিসার কিডন্যাপিঙের ব্যাপারে জড়িত ছিলে না প্রমাণ করার জন্যে যে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি আছো। খলিফাকে বাধা দেয়ার কাজে তুমি আমাকে সাহায্য করবে?
পিটারের চোখে চোখ রেখে স্টিভেন বলল, তুমি কিছু চাইলে সেটা না দিয়ে পারব না।
আমি তোমার সাহায্য চাইছি, বলল পিটার। কিন্তু তার আগে বুঝে দেখবিরাট ঝুঁকি নিতে হবে তোমাকে।
জানি। খলিফাকে আমি তোমার চেয়ে ভালো চিনি।
আমাকে দিয়ে কি করাতে চাও, পিটার?
খলিফার সাথে একটা সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করবে তুমি—সামনাসামনি।
অসম্ভব! সাথে সাথে ধারণাটা বাতিল করে দিল স্টিভেন।
তুমিই না বললে তার কাছে মেসেজ পাঠাবার একটা উপায় আছে?
আছে, কিন্তু দেখা করার প্রস্তাবে খলিফা কখনোই রাজি হবে না।
আচ্ছা, স্টিভেন, বল তো খলিফার সবেচেয়ে বড় দুর্বলতা কি?
তার কোনো দুর্বলতা নেই।
ভেবে দেখ–আছে, বলল পিটার।
তুমিই বল।
তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, ব্যক্তিগত পরিচয়টা ফাঁস হয়ে যাবার ভয়ে আতঙ্কিত থাকে। এর সাথে তার নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। যখনই তার পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দেয়, তখনই সে মরিয়া হয়ে উঠে হাইজ্যাক, কিডন্যাপ, টরচার, আর মার্ডার শুরু করে।
এ তার দুর্বলতা নয়, শক্তি, মন্তব্য করল স্টিভেন।
মেসেজে বল, তার পরিচয় ফাস হতে চলেছে, পরামর্শ দিল পিটার। বল, কেউ একজন, তার এক শত্রু, সিকিউরিটি স্ত্রীন ভেদ করে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
প্রায় দশ সেকেন্ড চিন্তা করল স্টিভেন, পায়ে ব্যথা অনুভব করে এগিয়ে এসে একটা সোফায় বসল। হ্যাঁ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া হবে তার। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি জেনে ফেলবে আমি মিথ্যে কথা বলছি। আমাকে সে শত্রু বলে চিনে ফেলবে, তারমানে ঝুঁকি নেব ঠিকই কিন্তু তোমার কোনো কাজে আসব না।
কথাটা মিথ্যে নয়, বলল পিটার। খলিফার কাছাকাছি মোসাডের একজন এজেন্ট সত্যি আছে।
তুমি জানলে কিভাবে? তীক্ষ্ণ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল স্টিভেন।
তা বলা যাবে না। তবে তথ্যটা নির্ভুল। এমনকি এজেন্টের কোড নেম-ও আমি জানি।
সেক্ষেত্রে, আবার কিছুক্ষণ চিন্তা করল স্টিভেন, এরই মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে খলিফার মনে, আমার কথা সাথে সাথে বিশ্বাস করবে সে। তবে লাভ নেই। লোকটার শুধু নাম জানতে চাইবে সে, বলবে রুটিন চ্যানেলে নামটা আমাকে জানাও।
তুমি বলবে, তথ্যটা ভারী সেনসিটিভ, সামনাসামনি ছাড়া দেয়া সম্ভব নয়। বলবে, এর সাথে তোমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও জড়িত।
সে আমার ওপর চাপ দিতে থাকবে…
কিন্তু তুমিও যদি জেদ বজায় রাখ?
মনে হয় শেষপর্যন্ত দেখা করতে রাজি হবে। তোমার কথা ঠিক, পরিচয় নিয়ে একটা আতঙ্কে ভোগে সে। কিন্তু, আমার সাথে দেখা করলে তার পরিচয় কিন্তু সেই ফাসই হয়ে গেল…
কাজেই চিন্তা কর, স্টিভেন–ভেবে বের কর কি করবে সে, উৎসাহ দেয়ার সুরে বলল পিটার।
বুঝতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগল স্টিভেনের, বদলে গেল তার চেহারা, এমনভাবে বেকে গেল ঠোঁট যেন ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করছে। গুড গড! বাধ্য হয়ে দেখা সে করবে, কিন্তু তারপর আমি আর বাঁচব না।
ঠিক তাই, বলল পিটার। তোমাকে সে দেখা দেবে, কিন্তু তার পরিচয় তুমি আর কাউকে জানাবার আগেই তোমাকে সে খুন করবে।
তাহলে? একটু অসহায় দেখাল স্টিভেনকে। আমি মোটা হয়ে গেছি, ওর সাথে লড়ে আমি পারব না। আমতা আমতা করল স্টিভেন।
খলিফাকে লোকটার নাম না জানানো পর্যন্ত তুমি নিরাপদ, বলল পিটার।
হ্যাঁ, কিন্তু তারপর?
তার আগে বা তার পরে, তোমার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার, স্টিভেন। কথা দিচ্ছি, তোমার কোনো বিপদ হবে না।
বেশ। কখন তার সাথে যোগাযোগ করতে বল তুমি?
যোগাযোগ কর কিভাবে?
ব্যক্তিগত কলামে বিজ্ঞাপন ছাপি।
সোমবার সকালে ছাপতে দাও, নির্দেশ দিল পিটার। হঠাৎ ওকে খুব করে নিরিক্ষণ করতে লাগল স্টিভেন।
কি হলো, স্টিভেন?
না, ভাবছিলাম। ভাবছিলাম, যদি খলিফা তোমার মতন কেউ হয়, পিটার?
আমার মতন? দারুণ রকম আশ্চর্যান্বিত হলো পিটার।
