ইউটিএ ফ্লাইট ধরে ক্যালিফোর্নিয়া চলে এল পিটার। সাথে সাথে এয়ারপোর্ট থেকে না বেরিয়ে টয়লেটে ঢুকে দাড়ি কামিয়ে শার্ট বদলাল ও, তারপর ফার্স্ট ক্লাস প্যান অ্যাম লাউঞ্জে বসে এক কাপ কফি খেল। টেবিল থেকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালটা তুলে নিয়ে দেখল, কালকের। ব্যারনেস অল্টম্যানের মৃত্যু সংবাদ ছাপা হয়েছে তৃতীয় পৃষ্ঠায়, পুরো এক কলাম জুড়ে। এই প্রথম উপলব্ধি করল পিটার, স্টিল আর অল্টম্যান গ্রুপ অভ ইন্ডাস্ট্রি মার্কিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কি গভীরভাবে জড়িত। ব্যবসার বিভিন্ন শাখার একটা তালিকা দেয়া হয়েছে, তারপর ছাপা হয়েছে ব্যারন অল্টম্যানের সাফল্য আর উত্থানের চমকপ্রদ ইতিহাস, সবশেষে ব্যারনেস ম্যাগডার ভূয়সী প্রশংসা আর গুণকীর্তন! মৃত্যুর বিবরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর সাথে স্কুবা ডাইভিং-এ গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন ব্যারনেস। বন্ধুর পরিচয়, জেনারেল পিটার স্ট্রাইড।
ওর নামটা উল্লেখ করায় খুশি হলো পিটার। যেখানেই থাকুক, রিপোর্টটা পড়বে খলিফা, এবং যা তাকে ভাবতে চাওয়ানো হচ্ছে তাই সে ভাববে। এবার কিছু একটা ঘটবে বলে ধারণা করল পিটার। কি ঘটবে ঠিক জানা নেই, কিন্তু অনুভব করছে চুম্বক ওকে লোহার টুকরোর মতো টানছে।
বড়সড় একট আর্মচেয়ারে লম্বা হয়ে ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়ে নেয়া গেল। বলে রাখা ছিল, একজন হোস্টেস ঘুম ভাঙিয়ে জানাল, প্যান অ্যামের পোলার ফ্লাইট ছাড়ার সময় হয়েছে।
লন্ডনের হিথরো এয়ারপোর্টে নেমে প্রথমেই স্টিভেনের বাড়ি, অ্যাবোটস ইউ তে ফোন করল পিটার। ওর গলা পেয়ে পাখির মতো আনন্দে কিচিরমিচির শুরু করে দিল প্যাট্রিসিয়া।
স্টিভেন দারুণ খুশি হবে শুনলে।
এয়াপোর্টের অ্যাভিস ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে ফাইন্যানশিয়াল টাইমসের ভাঁজ খুলল পিটার, একটা গাড়ি চেয়ে অপেক্ষা করছে ও। আজকের পত্রিকা, ব্যারনেস ম্যাগডা সম্পর্কে ফলো-আপ খবর বেশ বড় করে ছাপা হয়েছে। যা মনে করা গিয়েছিল, লন্ডন আর ইউরোপিয়ান স্টকে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শেয়ারের পতন ব্যারনেসের হিসেবকে ছাড়িয়ে অনেক বেশি নেমে গেছে। দুর্ঘটনাটা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবার উল্লেখ করা হয়েছে ওর নাম। দুটো ব্যাপারই আনন্দ বয়ে আনল পিটারের জন্যে। অনেক সস্তার শেয়ার কিনতে পারছে ব্যারনেসের লোকজন, তারমানে একশো মিলিয়ন নয়, দেড়শো মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক লাভ হবে তার। আর ওর নামটা প্রচার হচ্ছে দেখে সন্তুষ্ট বোধ করল।
অ্যাবোটস ইউ-এর গেস্টরুমে ঢুকে বিছানার পাশের টেবিলে এনভেলাপটা পেল পিটার। বেন গারিয় এয়ারপোর্ট, তেল আবিব থেকে পাঠানো হয়েছে। ভেতরের কাগজে একটা মাত্র শব্দ টাইপ করা। পিটার জানল, নিরাপদে আর নিঝঞ্জটে গন্তব্যে পৌঁছেছে ম্যাগডা। গরম পানি ভরা বাথটাবে লম্বা হয়ে তার কথা ভাবতে লাগল ও। আবার কবে দেখা হবে কে জানে! আর কোনোদিন দেখা হবে কিনা তাই বা কে বলতে পারে!
৭. খুশি হলো স্যার স্টিভেন স্ট্রাইডc
পিটারকে দেখে ভারি খুশি হলো স্যার স্টিভেন স্ট্রাইড। স্পেনে কদিন থাকায় তার গায়ের চামড়া খানিক পুড়েছে, তবে আগের চেয়ে বেশ একটু মুটিয়েছে সে। এভাবে যদি ওজন বাড়তে থাকে, সমস্যায় পড়বে স্টিভেন। সাফল্যের এই এক বিড়ম্বনা, ভালো খাবার আর দামি ওয়াইন এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।
লাঞ্চে বসে চোরাচোখে ভাইকে লক্ষ্য করল পিটার। দুজন প্রায় সমান লম্বা, তবে চওড়ায় স্টিভেন টেক্কা দেবে। রীতিমতো হাসিখুশি দেখাল তাকে, কোনো রকম উদ্বেগ আছে বলে মনে হলো না।
জঙ্গলে শেয়ালের উপদ্রব খুব বেড়েছে, লাঞ্চ শেষ হওয়ার পর লাইব্রেরিতে বসে ধূমপান করছিল ওরা, মৃদুকণ্ঠে কথাটা বলল পিটার। চাষীরা নাকি অভিযোগ করে গেছে, এভাবে চলতে থাকলে একটা মুরগিও নাকি বাঁচানো যাবে না।
তাই? বলল স্টিভেন, হঠাৎ উৎসাহী হয়ে উঠল সে। তাহলে তো ওদিকে একবার ঢু মেরে আসতে হয়। চল, যাবে নাকি?
কাঁধ ঝাঁকিয়ে পিটার বলল, আপত্তি নেই, যেতে পারি।
পিটারকে নিয়ে গানরুমে লে এল স্টিভেন, র্যাক থেকে একটা শটগান নামাল, মুঠো ভর্তি কারট্রিজ ফেলল পকেটে।
এস্টেটের কোথাও কোথাও কাঁটাতারের বেড়া আছে, কোথাও আবার সীমানা একেবারেই চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এর আগের অভিজ্ঞতা থেকে জানে পিটার, চিনতে ভুল হয় না স্টিভেনের। নদীর কিনার ঘেঁষে পাশাপাশি হাঁটছে ওরা, রাস্তা যেখানে সরু সেখানে পিছিয়ে আসছে একজন, এক লাইনে হাঁটছে। স্টিভেনের হাতে শটগান, অর্থাৎ শেয়াল সেই মারবে, কাজেই তাকে সামনে থাকতে দেয়ার একটা অজুহাত রয়েছে। অবশ্য এ ব্যাপারে ওদের মধ্যে কোনো কথা হলো না।
একটা খরস্রোতা নালাকে পিছনে রেখে বাক নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়ল ওরা। স্পেন ভ্রমণ সফল হয়েছে, সেই আনন্দে বকবক করে চলেছিল স্টিভেন। সাগর পাড়ে আরো একটা হোটেল কমপ্লেক্স কেনার সমস্ত ব্যবস্থা চুড়ান্ত করে এসেছে সে। তার আগের হোটেলের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে, বছর শেষ হবার আগেই পাঁচশ রুম তৈরি করা হবে।
কেনাকাটার এখনই সময় পিটার, পরামর্শ দেয়ার সুরে পিটারকে বলল সে। শিল্পপতিরা এতদিনে মোটা লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করা যায়।
