চোখ মেলে তোমাকে পাশে না পেলে দিনটাই আমার মাটি হয়ে যায়, বলে হাত দুটো পিটারের দিকে সবটুকু বাড়িয়ে দিল ব্যারনেস, পিটারের ঘাড়ের চারপাশে ভাঁজ করল, এখনো পিঠটা একটু উঁচু করে আছে। এসো ভান করি এই সুখ যেন চিরস্থায়ী হয়, শরীরে মেয়ে-মেয়ে গন্ধের সাথে মিশে আছে গোলাপের মৃদু সুবাস। ধীরে ধীরে খুলে গেল তার ঠোঁট মুখের ভেতর পিটারের জিভ টেনে নিল সে, চাহিদা পুরোপুরি মিটছে না বলে নাক-মুখ দিয়ে গোঙানির আওয়াজ বেরিয়ে আসছে। এত তাড়াতাড়ি উত্তেজিত হয়ে উঠল পিটার, এত শক্ত আর পাশবিক যে, আবার গুঙিয়ে উঠল ব্যারনেস, শরীরের সমস্ত আড়ষ্ট ভাব দূর হয়ে দিয়েছিল, পড়ল পেশিতে, যেন আগুনের খুব কাছাকাছি ধরায় গলে যাচ্ছে মোমের পুতুল। কাঁপতে কাঁপতে বন্ধ হয়ে গেল তার চোখের পাতা, ভাজ খুলে বিছানায় লম্বা হলো হাঁটু আর পা। পিটার, মাই লাভ! শেরি, মাই লাভ! যেন তীব্র জ্বরের মধ্যে প্রলাপ বকে চলেছে ব্যারনেস।
তারপর পাশাপাশি বহুক্ষণ নিথর হয়ে পড়ে থাকল ওরা, দুজনেই চিৎ হয়ে রয়েছে। শুধু দুজনের একটা করে আঙুল পরস্পরকে আঁকড়ে আছে, একটু আগে ওদের শরীর যেভাবে পরস্পরকে আঁকড়ে ছিল।
যেতে যখন হবেই, যাব, ফিসফিস করে বলল ব্যারনেস, কিন্তু এখন নয়, এখনই নয়।
পিটার কোনো কথা বলল না।
এসো দর কষি। আমাকে তুমি তিনদিন সময় দাও। শুধু তিনটে দিন, আজকের মতো এভাবে সুখী হবার জন্যে। আমার জন্যে প্রথমবার ছিল ব্যাপারটা, এ জিনিসের সাথে আগে কখনো পরিচয় হয়নি-জানি না হয়তো এটাই শেষবার…
প্রতিবাদ করার জন্যে মাথা তুলতে গেল পিটার, কিন্তু ওর আঙুলে চাপ দিয়ে চুপ থাকতে অনুরোধ করল ব্যারনেস। এটাই হয়তো শেষবার, আবার বলল সে। তাই প্রাণভরে উপভোগ করতে দাও আমাকে। এই তিনদিন আমরা খলিফার নামটা পর্যন্ত মুখে আনব না। এটা যদি দান কর আমাকে, তোমার যে কোনো আদেশ আমি বিনা শর্তে পালন করব। দেবে, পিটার? বল তুমি রাজি।
বেশ তো, নাহয় আরো তিন দিন মহাসুখে থাকলাম আমরা, আপত্তি কিসের।
তাহলে বল, স্পষ্ট করে বল, তুমি আমাকে ভালোবাস। কথাটা খুব বেশি বার তোমার মুখে শুনেছি বলে মনে পড়ে না।
ওই তিন দিন প্রায়ই কথাটা ব্যারনেসের কানে কানে বলার সুযোগ পেল পিটার। যতবারই শুনল ব্যারনেস, অপার আনন্দে ভাঙায় ভোলা মাছের মতো খাবি খেল সে, যেন উচ্চারণটা কানে ঢুকলেই তার দম আটকে আসে। তখন ওরা পরস্পরকে না ছুঁয়ে পারে না।
এই তিনটে দিন অমর স্মৃতি হয়ে থাকবে ওদের জীবনে। নিঃসঙ্গ চাঁদের হলদেটে আলো গায়ে মেখে লেগুনের শান্ত স্বচ্ছ পানিতে গভীর রাতে সাঁতার কাটল ওরা, নির্জন দুপুরে দোলনায় পাশাপাশি বসে গাছের ছায়ার নিচে বাতাস খেল, সূর্য ওঠার আগে ছোট একটা দ্বীপের উন্মুক্ত সৈকতে হাত ধরাধরি করে হাঁটল-বিবস্ত্র, সব সময় বিবস্ত্র। পালা করে নয়টা দ্বীপেই সময় কাটাল ওরা। কলোনিতে মিলিত হতে দেখল পাখিদের, দেখল কিভাবে ডিম পাড়ে। আমাকে একটা বাচ্চা দেবে তুমি, হুকুমের সুরে পিটারকে বলল ব্যারনেস। খোলা সাগরে বেরিয়ে এসে একটা রাত কাটাল ওরা, ভেলার ওপর, তারাজ্বলা গোটা আকাশ চোখের ভেতর নিয়ে ভালোবাসার গান গাইল ব্যারনেস–বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ছারখার হয়ে যাবার পরও ওদের নাকি বিচ্ছিন্ন করা যাবে না, ধূলিকণার ভেতর বা অগ্নিকণার সাথে ওদের শরীর আর আত্মার অংশবিশেষ অবশিষ্ট থেকে যাবে অনন্তকাল। তারপর আবার যখন নতুন বিশ্ব তৈরি হবে, তেত্রিশ কোটি আলোকবর্ষ দূরত্ব পেরিয়ে খুঁজতে এসে প্রথম পুরুষ পিটার বিশাল এক পদ্মফুলের ভেতর দেখতে পাবে প্রথম নারী ম্যাগডাকে। দুজনেই একযোগে বলে উঠবে, এতদিন কোথায় ছিলে? তারপর আবার মৃত্যু, এবং পুনর্জন্ম, এভাবেই চলতে থাকবে–অবিনাশী অস্তিত্ব, পরমায়ু, অনন্ত ভবিষ্যৎ অমর প্রেম। কী সুন্দর গান, মুগ্ধ হয়ে শুনল পিটার এবং বিশ্বাস করতে প্ররোচিত হলো।
চারদিনের দিন সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখল, ম্যাগডা নেই। রাজ্যহারা সম্রাটের মতো লাগল নিজেকে, অসহায় এবং দিকভ্রান্ত। ব্যারনেস ফিরে আসতে তাকে প্রথমে চিনতেই পারল না ও।
তারপর খেয়াল হলো, চুল প্রায় সবই কেটে ফেলেছে ব্যারনেস খুলি কামড়ে কালো গোলাপের মতো যেটুকু আছে সেটুকু না থাকলে ন্যাড়া মনে হত। এভাবে চুল কাটায় লম্বা ব্যারনেসকে আরো লম্বা দেখাচ্ছে। দীর্ঘ গলা যেন ফুলের ডাটা, হাঁসের মতো একটু বাঁকানো। পিটারের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে ক্ষীণ একটু হাসল ব্যারনেস, মৃদুকণ্ঠে বলল, ভাবলাম চেহারা একটু বদলানো দরকার। নতুন পরিচয় নিয়ে যাচ্ছি যখন। আবার গজাবে, আগের মতো যদি লম্বাই পছন্দ কর তুমি।
ব্রেকফাস্টে বসে নিজের প্ল্যান ব্যাখ্যা করল ব্যারনেস। তার সেক্রেটারি মোটা একটা এনভেলাপ রেখে গেছে প্লেটের পাশে, কাগজপত্র দেখতে দেখতে কথা বলল সে। রুথ লেভি নামটা ব্যবহার করব, এনভেলাপ থেকে প্লেনের একাধিক টিকেট বের করল সে। ঠিক করেছি, জেরুজালেম যাব। ওখানে আমার একটা বাড়ি আছে। আমার নামে নয়, তাছাড়া মোসাড় ছাড়া ওটার কথা আর কেউ জানে বলেও মনে করি না। আমার জন্যে ভালো একটা সেন্টার হতে পারে, আমার মোসাড কন্ট্রোলের কাছাকাছি। ওখান থেকে যতটা সম্ভব তোমাকে আমি সাহায্য করার চেষ্টা করব। এমন কিছু তথ্য হয়তো দিতে পারব, খলিফাকে খুঁজে বের করতে সাহায্য হবে তোমার।
