হ্যাঁ। গলায় হাত বুলাল ম্যাগডা। তুমিই প্রথমে।
উঠে গিয়ে বাল্কহেডের পেছন থেকে গ্লাস ভরে নিয়ে এল পিটার। ফিরে এসে দেখল ম্যাগডার চোখ আধবোজা হয়ে আছে, একটু একটু টলসে সে। দুঢেকে হুইস্কি খাওয়াল তাকে, তারপর গ্লাস রেখে দিয়ে দুহাতের উপর তুলে নিল শরীরটা। পিটারের বুকের সাথে লেপটে থাকল ব্যারনেস। তাকে নিয়ে মাস্টার কেবিনে ঢুকল পিটার, শুইয়ে দিল বাল্কে। নিচের লকারে বালিশ আর চাদর পাওয়া গেল, একই চাদরের তলায় ম্যাগডার পাশে লম্বা হলো পিটার। কুঁকড়ে ওর দিকে পিছলে এল ম্যাগডা, ওর শরীরের ভাঁজে ঢুকে পড়ল। পিটারের বুকে ম্যাগডার পিঠ, ওর শক্ত ঊরুতে তার গোল নিতম্ব, ওর ভাঁজ করা কনুইয়ের ওপর তার মাথা। পিটারের ওপর তার হাতটা তার পাঁজরের ওপর দিয়ে বুকের ওপর স্থির হয়ে থাকল। এই অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ল ওরা। তারপর পিটার যখন চোখ মেলে পাশ ফিরল, অস্কুট গোঙানির মতো শব্দ করলেও ম্যাগডার ঘুম ভাঙল না। আবার ঘুমিয়ে পড়ল পিটার। দ্বিতীয়বার চোখ মেলে দেখল, ম্যাগডা নেই। এত চমকে উঠল, নিজেই অবাক হয়ে গেল। পলকের মধ্যে কত রকম সন্দেহ খেলে গেল মনে, তারপর বাথরুম থেকে পানির আওয়াজ পেয়ে ঢিল পড়ল পেশিতে। একটু পর বাথরুম থেকে ফিরল ম্যাগডা, টাওয়েলিং ট্রাক স্যুট খুলে ফেলেছে, বাহুর ভেতর তার নগ্ন শরীর অরক্ষিত অমূল্য সম্পদ বলে মনে হলো পিটারের।
আবার ওদের ঘুম ভাঙল একসাথে, পোর্টহোল থেকে তখন রোদ ঢুকছে কেবিনের মেঝেতে।
মাইগড, নির্ঘাত দুপুর হয়ে গেছে। বিছানায় উঠে বসল ব্যারনেস, মাথা ঝাঁকিয়ে চকচকে কালো চুল উদোম পিঠে ছড়িয়ে দিল।
কিন্তু পিটার উঠে বসতে গিয়ে গুঙিয়ে উঠল।
কোথায় লাগল, শেরিং।
নিশ্চয়ই আমি ট্রাকের নিচে চাপা পড়েছিলাম। কাতরাতে লাগল পিটার। শুকাতে শুরু করায় ক্ষতগুলোয় টান ধরেছে, ছেঁড়া পেশি আর ছড়ে যাওয়া চামড়া সামান্য নড়াচড়াতেই প্রতিবাদ করে উঠল।
দুজনের জন্যে একটাই মাত্র চিকিৎসা আছে, পিটারকে জানাল ব্যারনেস। সেটাকে আমরা তিন পর্যায়ে ভাগ করে নিতে পারি।
পিটারকে বাল্ক থেকে নামতে সযত্নে সাহায্য করল সে, ও যেন থুড়থুড়ে একটা বুড়ো। আরো বেশি আদর আর সহানুভূতি আদায়ের জন্যে গোঙানির মাত্রা বাড়িয়ে দিল পিটার, ওরে দুষ্টু, বলে হেসে উঠল ম্যাগডা। একটু বেসুরো শোনালেও, এখন সে হাসতে পারছে।
ক্রীশ-ক্রাফটের ডাইভিং প্ল্যাটফর্ম থেকে শান্তভাবে পানিতে নামল ওরা, পরস্পরকে ছুঁয়ে থেকে সাঁতার কাটল কিছুক্ষণ।
কাজ হচ্ছে, স্বীকার করল পিটার, উষ্ণ লোনা পানিতে আরাম পেল থেঁতলানো শরীরটা।
পাশাপাশি থেকে সাঁতার কাটল ওরা, দুজনেই বিবস্ত্র-প্রথমে ধীরে ধীরে, তারপর দ্রুত, একেবারে সেই রীফ পর্যন্ত পিছিয়ে এল। হাপরের মতো হাঁপাচ্ছে ওরা।
এখন ভালো? চোখ থেকে চুল সরিয়ে জিজ্ঞেস করল ব্যারনেস।
আগের চেয়ে। চলো একদমে ফিরে যাই।
একসাথে ক্ৰীশ ক্রাফটে ফিরল ওরা, হাঁপাতে হাঁপাতে ককপিটে উঠল, পানি আর হাসি ছড়াচ্ছে চারদিকে। কিন্তু কু-উদ্দেশ্য নিয়ে পিটার হাত বাড়াতে, বাতাসের মতো মোলায়েম একটু আদর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল ম্যাগডা।
চিকিৎসার প্রথম পর্যায়ে শেষ হলো।
কোমরে শুধু একটা অ্যাপ্রন জড়িয়ে গ্যালিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ব্যারনেস, অ্যাপ্রনে তার পেটের লম্বা দাগটা ঢাকা পড়ল।
নতুন অভিজ্ঞতা! বিস্ময় প্রকাশ করল পিটার। অ্যাপ্রন যে কোনো পুরুষকে প্ররোচিত করতে পারে জানা ছিল না।
তোমার না কফি বানাবার কথা? কৃত্রিম ঝঝের সাথে মনে করিয়ে দিল ম্যাগডা। কিন্তু পিটার নড়ছে বা চোখ ফেরাচ্ছে না দেখে নিতম্ব দিয়ে ধাক্কা দিল সে।
মোটা, ফোলা, আর সোনালি ওমলেটের দিক থেকে চোখ তুলে ম্যাগডার বুকের দিকে তাকাল পিটার। খেতে শুরু করে মন্তব্য করল, অদ্ভুত মিল আছে।
হাভাতে, জবাব দিল ব্যারনেস, হঠাৎ লালচে হয়ে ওঠা চেহারাটা লুকাতে চেষ্টা করল না।
প্রচুর খেল ওরা, ঝলমলে নতুন সকাল কাল রাতের সমস্ত উদ্বেগ, উত্তেজনা, আর দ্বন্দ মন থেকে মুছে নিয়ে সুন্দর মেজাজ দান করেছে ওদেরকে। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ যেন ভেড়ার পাল, মন্থরগতিতে চলছে, আর ফাঁকগুলোর ভেতর আকাশ অদ্ভুত সুন্দর উজ্জ্বল নীল। কেউই ওরা এই খোশ মেজাজ হারাতে চায় না, অর্থহীন আর অপ্রাসঙ্গিক প্রলাপ বকে চলেছে। সীগালদের লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারছে রুটির টুকরো, প্রশংসা করছে আবহাওয়া–যেন পিকনিকে বেরিয়েছে দুটো বাচ্চা।
তারপর ম্যাগডা দাঁড়াল, হঠাৎ ঘাড় ফিরিয়ে লক্ষ্য করল তার নিতম্বের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে পিটার। চোখে রাগ নিয়ে হেঁটে এল ব্যারনেস, ধপ করে বসে পড়ল পিটারের কোলে। দেখ এবার! তারপর পিটারের একটা হাতের কবজি ধরল। পালস্ দেখার ভান করছে।
রোগীর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো, ঘোষণা করল সে। তৃতীয় পর্যায়ের চিকিৎসা বোধ হয় শুরু করা যেতে পারে।
সেটা কি?
পিটার, মাই লাভ, কোনো ভয় নেই তোমার, অভয় দিল ব্যারনেস, পিটারের কোলের ওপর নিতম্ব ঘষল সে। যদি ভুলেও গিয়ে থাকো, সব তোমাকে আমি শিখিয়ে নেব।
তুমি নদীর মতো ডাগর একটা মেয়ে, ঢোক গিয়ে বলল পিটার।
গরম রোদে মিলিত হলো ওরা, নরম বালি আর ফেনা ওদের বিছানা হলো, টানা বাতাস অদৃশ্য আঙ্গুলের মতো সোহাগের স্পর্শ দিয়ে গেল শরীরে।
