তারপর এক সময় রুদ্ধ কণ্ঠে বলে উঠল, ওহ গড! সব সত্যি!
পিটার বলল, অল্টম্যান স্ত্রী হিসেবে কিভাবে ম্যাগডা বিপুল প্রভাব আর ক্ষমতার অংশীদার হলো। ব্যারনের শক্তি যত কমল ততই বাড়ল তার প্রতিপত্তি। ক্ষমতা কি জিনিস, উপলব্ধি করল ব্যারনেস। আরো ক্ষমতার জন্যে লালায়িত হয়ে উঠল সে। এমন একটা পর্যায় আসল, অনেক ব্যাপারে ব্যারনের সাথে দ্বিমত পোষণ করল সে। যেমন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ত্র বিক্রি! তুমি ব্যাপারটা পছন্দ করনি।
হ্যাঁ। আমরা তর্ক করেছি। মৃদু হাসল ম্যাগডা, কিন্তু হাসির কারণটা ব্যাখ্যা করল না–যেন এটা তার ব্যক্তিগত সেই সব স্মৃতির একটা, যা কাউকে বলা যায় না।
তারপর পিটার বলল, বিপুল ক্ষমা হাতে পেয়ে ব্যক্তিগত উচ্চাশা চরিতার্থের স্বপ্ন দেখতে শুরু করল ব্যারনেস। মহৎ বা অমর হওয়ার সাধ জাগল মনে। রাশিয়া বুঝতে পারল, ব্যারনেসের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে তারা। হুমকি দিল, চাপ সৃষ্টি করল, কিন্তু ততদিনে ব্যারনেস তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অল্টম্যানের মোসাড কানেকসন আবিষ্কার করে ফেলেছে সে, স্বামীর সাথে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলি ইন্টেলিজেন্স মোসাডের সাথে সহযোগিতা করছে–অর্থাৎ রাশিয়ার জন্যে তার হাতে একটা অস্ত্র চলে এসেছ।
অবিশ্বাস্য, পিটার! ফিসফিস করে বলল পিটার। আসল ঘটনার এত কাছাকাছি, প্রায় সত্যি বলা যায়। চিবুক নেরে পিটারকে আবার শুরু করার ইঙ্গিত করল সে।
রাশিয়া হুমকি দিল তোমার পরিচয় ব্যারনকে জানিয়ে দেবে। তোমার কোনো উপায় ছিল না, ব্যারনকে খুন করার সিদ্ধান্ত নিলে তুমি। প্ল্যানটা সুন্দর ছিল, ব্যারন নিহত হলো, কেউ তোমাকে সন্দেহ করল না। অল্টম্যান গ্রুপ অভ ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র মালিক বনে গেলে তুমি। মুক্তিপণের টাকাও নিলে, সে টাকা জমা পড়ল সুইজারল্যান্ডের একটা গোপন অ্যাকাউন্টে…
হায় ঈশ্বর!
সত্যি নয়? নিশ্চিত হতে চাইল পিটার।
ভীতিকর, পিটার! থামলে কেন, বল।
স্বামীকে হত্যা করার প্ল্যানটা নিখুঁতভাবে সফল হলো, সেই সাথে নতুন একটা সম্ভাবনাময় জগৎ তোমার সামনে উন্মোচিত হয়ে গেল। ঠিক এই সময় সত্যিকার খলিফা হয়ে উঠলে তুমি। অল্টম্যানকে খুন করার পর জিরো-সেভেন-জিরো হাইজ্যাক করার প্ল্যান কর তুমি, নাকি মাঝখানে আরো অপারেশন চালিয়েছে, আমার জানা নেই। ভিয়েনায় ওপেক মন্ত্রীদের ওপর হামলা চলে, কাজটা তোমার বলেই অনেকের ধারণা। রোমে রেড ব্রিগেড় পাইকারিভাবে খুন করল বাসভর্তি একদল স্কুলের ছেলেমেয়েকে, সম্ভবত ওখানেও তোমার হাত ছিল। তবে জিরো সেভেন-জিরো হাইজ্যাক করার সময়ই প্রথম খলিফা নামটা ব্যবহার করলে তুমি। এই অপারেশনও সফল হতে যাচ্ছিল, কিন্তু বাদ সাধল একজন কমান্ড। নিজের প্রতি ইঙ্গিত করল পিটার। এই ঘটনার পরই আমার ওপর চোখ পড়ল তোমার।
পিটারের কোল থেকে মাথা তুলে রিডিং লাইটের সুইজ অফ করল ম্যাগডা। সোনালি আলোয় ভরে উঠল কেবিন। পিটারের মুখ চোখ রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস চাপল সে। ইতোমধ্যে তুমি জেনে ফেলেছ, খলিফার পেছনে লোক লেগেছে। মোসাড, ফ্রেঞ্চ ইন্টেলিজেন্স ছাড়াও তথ্য পাবার ব্যক্তিগত উৎস ছিল তোমার। তুমি জানতে পারলে, লোকটা হলো ডক্টর কিংস্টোন পাকার। তিনিই যে শিকারি, সেটা আমার কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে জানতে পার তুমি। তাকে খুন করার জন্যে আমাকে তোমার আদর্শ লোক বলে মনে হলো। স্পেশাল ট্রেনিং আছে আমার, সন্দেহ না জাগিয়ে তার কাছাকছি যেতে পারব। কিন্তু আমাকে দিয়ে কাজটা করাতে হলে শক্তিশালী একটা লিভার দরকার হবে।
না! বিড়বিড় করল ম্যাগডা, পিটারের মুখ থেকে চোখ সরাতে পারল না।
খাপে খাপে মিলে যায়, বলল পিটার। পুরোটাই। এবার ম্যাগডার মুখে কোনো কথা নেই।
মেলিসার আঙুল পাবার পর…
আমি অসুস্থবোধ করেছি…
দুঃখিত। হুইস্কির গ্লাসটা বেঞ্চ থেকে তুলে ম্যাগডার মুখের সামনে ধরল পিটার। এক চুমুক হুইস্কি খেয়ে পিটারের কোল থেকে মাথা তুলল ম্যাগডা, আহত গলায় হাত রেখে চোখ বুজে বসে থাকল কয়েক সেকেন্ড।
এখন ভালো? অবশেষে জিজ্ঞেস করল পিটার।
হ্যাঁ। বল।
সবই মিলে যায়, শুধু অজ্ঞাতনামার টেলিফোন কলটা বাদে। মেলিসা কোথায় আছে আমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হলো। তবে ব্যাপারটা কো-ইন্সিডেন্স হতে পারে, খলিফার হিসেবের মধ্যে ছিল না।
কিন্তু প্রমাণ আছে বৈকি, শান্তভাবে বলল পিটার। জিলি ও’ শওনেসি, লারাগের হাইড-আউটে যে আটকে রেখেছিল মেলিসাকে, ওখান থেকে দুটো ফোন করে সে। দুটো ফোনই করা হয়েছিল রবুইলে, তোমার নম্বরে।
নির্বাক তাকিয়ে থাকল ম্যাগডা।
জিলি ও’ শওনেসি তার স্যার খলিফাকে রিপোর্ট করেছিল, বলে উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকল পিটার। কিন্তু কোনো উত্তর আসছে না দেখে আবার শুরু করল। খলিফাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় ও, সম্ভাব্য জায়গাও ঠিক করে ফেলে, কিন্তু তার আগেই ব্যারনেস ওকে নিজের আস্তানা, এখানে ডেকে পাঠায়। ওটা ছিল মৃত্যুকে বরণ করে নেয়ার আমন্ত্রণ। ইতোমধ্যে ব্যারনেস জেনে ফেলেছে, তার পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে ওর কাছে।
বলে যাও।
আমি এলাম। তোমার নিদের্শে কাস্টমস অফিসাররা আমাকে সার্চ করল…
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিল ম্যাগডা।
কাল রাতে তুমি তোমার লোকদের নিয়ে আমার কামরা সার্চ করিয়েছ। বুঝলাম, আজ তুমি খুন করতে চাও। জানতাম, বাঁচতে হলে প্রথমে আমাকে হানতে হবে। হানলামও তাই…
