খালি পায়ে মইয়ের তিনটে ধাপ টপকে থামল পিটার, ধীরে ধীরে ফ্লাইং ব্রিজের লেভেলের ওপর চোখ তুলল।
ক্রীশ-ক্রাফটের কেন্ট্রাল সামনে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ম্যাগডা অল্টম্যান, বিরাট বোটটাকে চ্যানেলের মুখে নিয়ে আসছে সে, গভীর মনোযোগের সাথে তাকিয়ে আছে সামনে।
স্কার্ফ খুলে ফেলেছে ম্যাগডা, চুল উড়ছে বাতাসে। তার উদোম পিছনটা পিটারের দিকে ফেরানো–গভীর একটা খাদের ভেতর শিরদাঁড়া, খাদের দুপাশে উঁচু হয়ে আছে মসৃণ শক্ত পেশি।
প্যান্টির একটা পায়া সামান্য একটু উঁচু হয়ে থাকায় আধখানা চাঁদের মতো বেরিয়ে আছে সাদা সুডৌল নিতম্বের নিচের অংশ। নৃত্যপটিয়সীর মতো সুঠাম পা সম্পূর্ণ অনাবৃত, পাতার ওপর ভর দিয়ে সামনের দিকে একটা ঝুঁকে আছে সে, বোর। ওপর নিয়ে সামনেটা দেখার চেষ্টা করছে।
ব্রিজ থেকে চলে গিয়েছিল পিটার বারো সেকেন্ডও হয়নি, এরই মধ্যে সম্পূর্ণ অসতর্ক হয়ে উঠেছে ব্যারনেস ম্যাগডা।
একই ভুল পিটার দ্বিতীয়বার করল না। ক্ষিপ্র একটু ঝাঁকির সাথে ধাপ থেকে ব্রিজে উঠে এল ও, কোনো শব্দ যদি হয়েও থাকে, ইঞ্জিনের গর্জনে তা চাপা পড়ে গেছে।
সুযোগ থাকলে হাড় এড়িয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়, কারণ হাড়ে লেগে ছুরির ডগা দিকভ্রান্ত হতে পারে।
লক্ষ্যস্থল ঠিক করল পিটার, পিঠটা যেখানে সবচেয়ে সরু-কিডনির লেভেলে, পাঁজরের খাঁচার ভেতর গহ্বরটাকে আড়াল করার জন্যে ওখানে কোনো গাড়ি নেই। সম্ভাব্য সবটুকু শক্তি দিয়ে ঘ্যাঁচ করে এক ধাক্কায় ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হবে ছুরি, একেবারে হাতলের কিনারা পর্যন্ত, তা নাহলে ভেতরে ঢোকার পরও একপাশে সরে যেতে পারে ফলা।
তাই করল পিটার, সর্ব শক্তি দিয়ে চালাল ছুরিটা।
ঢিল ছোঁড়া হয়ে গেছে, ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার জন্যে ছুরি চালিয়ে বসার পর, উপলব্ধি করল পিটার ওর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে প্রতিপক্ষ। ক্রীশ-ক্রাফটের আয়নার মতো ঝকঝকে কন্ট্রোল প্যানেলে পরিষ্কার ফুটে আছে পিটারের প্রতিচ্ছবি। ও ব্রিজে ওঠার পর থেকেই ওর দিকে একইভাবে তাকিয়ে আছে ম্যাগডা।
কন্ট্রোল প্যানেলে ম্যাগডার মুখ সবটুকু নয়, শুধু তার বিস্ফারিত চোখজোড়া দেখতে পেল পিটার। ছুরির ফলা মাংসের ভেতর ঢুকতে যাচ্ছে তখন। মনোযোগ নষ্ট হয়ে গেল পিটারের। ম্যাগডার নড়ে ওঠা দেখতেই পেল না।
হাতসহ ডান পাশ বেয়ে নেমে এল তীব্র ব্যথাটা, অসাড় একটা অনুভূতির সাথে চোখে অন্ধকার দেখল পিটার। ব্যথার উৎস ওর কলার বোন যেখানে বাহু ছুঁয়েছে তার পাশের গর্তটা। একই সময়ে ওর ডান হাতের কনুইয়ের নিচে কিসের যেন একটা প্রচণ্ড বাড়ি পড়ল, দিক বদলাল ছুরির ফলা, ম্যাগডার নিতম্ব থেকে এক ইঞ্চি দূর দিয়ে চলে গেল সেটা।
ম্যাগডার সামনে কন্ট্রোল পানেল, ছুঁচালো ফলার ডগা কয়েকটা নব আর ডায়াল চুরমার করে দিল। পিটারের অসাড় আঙুল হাতলটা ধরে রাখতে পারল না, লাফ দিয়ে মুঠো থেকে বেরিয়ে এসে টং করে স্টীল হ্যান্ড-রেইলে ধাক্কা খেল, ব্রিজের কিনারা ঘেঁষে ফিরতি পথে ছিটকে পড়ল সেটা, পিটারের পিছনে ককপিটের দিকে অদৃশ্য হয়ে গেল।
ওর দিকে না ফিরেই আঘাত করেছে ম্যাগডা, কন্ট্রোল প্যানেলে ওর প্রতিচ্ছবি দেখে কাঁধের প্রেশার পয়েন্টে লক্ষ্যস্থির করেছিল।
ব্যথায় পঙ্গু হয়ে গেছে পিটার, অপর হাতটা ব্যথার উৎস খামছে ধরতে চাইল। কিন্তু না, বাঁচার স্বতঃস্ফুর্ত প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করল বা হাতটাকে–আড়াল করার ভঙ্গিতে ঘাড়ের পাশে উঠে এল সেটা।
আবার পিছন দিকে আঘাত করল ব্যারনেস, সাদা হাত আলোর একটা প্রবাহের মতো ঝলসে উঠল চোখের সামনে, ঘাড়ের কাছে ভোলা বাঁ হাতের কবজির একটু নিচে লাগল, মনে হলো গায়ের সবটুকু জোর দিয়ে ক্রিকেটের ব্যাট চালিয়েছে।
যেখানে লক্ষ্যস্থির করা হয়েছিল, ঘাড়ে, লাগলে সাথে সাথে মারা যেত পিটার। পরিবর্তে অপর হাতটাও অবশ্য হয়ে গেল, এখন অনায়াসে ঘুরে গিয়ে ওর দিকে ফিরছে ম্যাগডা-পিটারের মতো সেও আশুরিক শক্তির অধিকারিণী, সমান ক্ষিপ্র, ভারসাম্য রক্ষায় কেউ কারোও চেয়ে কম নয়।
পিটার জানে, ম্যাগডার কাছাকাছি থাকতে হবে ওকে—-ভার, আকার আর শক্তি দিয়ে পরাস্ত করতে হবে শত্রুকে। কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত অবশ্য ডান হাতের আঙুল বাঁকা করে ম্যাগডার মুখ খামছে ধরতে গেল ও, ইতোমধ্যে ঘুরে গেছে ম্যাগডা। অনায়াসে হাতটাকে বাধা দিল সে, কয়েক সেকেন্ড হাতাহাতি হলো, তারপর ঝাঁকি দিয়ে ছাড়িয়ে নিল নিজেকে। তার বুকের কাছ থেকে খানিকটা কাপড় ছিঁড়ে নিয়েছে পিটার।
পরস্পরের দিকে তাকাল ওরা।
হাড়ের মতো সাদা হয়ে গেছে ম্যাগডার মুখ। দাঁতের সাথে সেঁটে আছে ঠোঁট, নাকের ফুটো কাঁপছে। মেয়ে বা মানুষ বলে মনে হলো না, যেন হিংস্র একটা বাঘিনী। আবারও সে প্রথম আঘাত হানল। লম্বা চুল পিটারের মুখের সামনে ঘুরপাক খেল, চাবুকের মতো বাড়ি মারল চোখে। পিটারের নাক, কানের নিচে, চোয়ালে, কপালের পাশে অবিরাম ঘুষি চালার সে, হাতের কিনারা দিয়ে ঘাড় লক্ষ্য করে কোপ মারল–মেরেই প্রতিবার লাফ দিয়ে সরে গেল, পরমুহূর্তে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ল বারবার ঝাঁকি খেল উন্মুক্ত স্তন জোড়া।
বিস্ময়ের সাথে উপলব্ধি করল পিটার, একাই পেটাচ্ছে ম্যাগডা। এ পর্যন্ত শুধু ঘুষিগুলো ঠেকাতে পেরেছে ও, কখনো হাত তুলে থামিয়েছে, কখনো শক্ত কাঁধটাকে তাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু খালি পায়ের লাথিগুলো প্রত্যেকটা ওর উরু আর পেটে লেগেছে, ভাজ করা হাটুর গুতো একটাও লক্ষ্যচ্যুত হয়নি, বারবার প্রচণ্ড ঝাঁকি খেয়ে পেলভিসের হাড়ে চিড় ধরার কথা।
