হ্যাঁ, নিঃশ্বাসের আওয়াজ, উত্তরটা ওর কল্পনাও হতে পারে।
কেন?
কারণ আমি ভয়ে মরে যাচ্ছি। কারণ আমি দুঃখিত। একা। তুমি আসবে?
আসব, বলল পিটার। কিভাবে যাব বলে দাও।
লা পিয়েরে বেনিতে ফোন করে জেমের সাথে কথা বল, সেই সব ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তাড়াতাড়ি আসবে, পিটার? যত তাড়াতাড়ি পার।
হ্যাঁ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, কিন্তু জায়গাটা কোথায়?
উত্তরের জন্যে অপেক্ষা করে থাকল পিটার, কিন্তু শব্দজট ছাড়া কিছুই শোনা গেল না।
ম্যাগডা? ম্যাগডা? গলা ফাটিয়েও কোনো লাভ হলো না, যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে। আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ক্রেলে চাপ দিল পিটার।
লে নিউফ পোইজোঁ, বিড়বিড় করে বলল ও, আঙুলটা তুলে নিল। অপারেটর, একটু দম নিয়ে শুরু করল, ফ্রান্সের বঁবুইলের ৪৭-৮৭-৪৭ নম্বরটা দিন আমাকে, প্লিজ। অপেক্ষা করার সময়টুকু দ্রুত চিন্তার মধ্যে কেটে গেল।
যেন ঠিক এই ঘটনার জন্যেই অপেক্ষা করছিল ও, অবচেতনভাবে। মনে হলো একমাত্র এটাই ঘটার ছিল–চাকা শুধু ঘুরতে পারে, দুপাশের কোনো দিকে গড়াতে পারে না।
খলিফার সামনে কোনো বিকল্প ছিল না। ইতি টানার জন্যে এই ডাক। অবাক হয়েছে পিটার শুধু একটা কারণে, ডাকটা আরো আগে আসেনি ভেবে। আরো কয়েকটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেল ওর কাছে। লন্ডন বা ইউরোপের কোনো শহরে ওকে মারতে চাইছে না খলিফা। সে ধরনের একটা প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছিল বুইলেতে, কিন্তু সফল হয়নি। সতর্ক হয়ে গেছে খলিফা, বঁবুইলের ঘটনার পর তার জানা হয়ে গেছে শিকার দুর্বল নয়, পাল্টা আঘাত হানার শক্তি আর বুদ্ধি রাখে সে।
পিটারের কয়েকটা সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। কোথাও আর কখন, এই দুই প্রশ্নের উত্তর খলিফার কাছ থেকে আসছে। বাকি থাকল কিভাবে। সেটা জায়গামতো পৌঁছে ঠিক করতে পারবে পিটার।
ঝানু অভিনেত্রী। সামান্য একটু শব্দ করেছে, পিটার যাতে শুধু চিনতে পারে ওটা কান্না।
ব্যারনেস অল্টম্যানের রেসিডেন্স থেকে বলছি।
গ্যাসটন?
স্পিকিং, স্যার।
জেনারেল স্ট্রাইড।
গুড ইভনিং, জেনারেল। আপনার জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম। ব্যারনেসের সাথে আগেই কথা হয়েছে আমার। লে নিউফ পেইজেতে আপনার যাবার ব্যবস্থা করতে বলেছেন তিনি। ব্যবস্থা হয়েছে, স্যার!
জায়গাটা কোথায়, গ্যাসটন?
লে নিউফ পোইজোঁ-ইল সুলে ভঁৎ এ ব্যারনেসের হলিডে আইল্যান্ড, স্যার। ইউ.টি.এ ফ্লাইট ধরে তাহিতির পাপেটি ফায়াতে পৌঁছতে হবে, ওখানে ব্যারনেসের পাইলট অপেক্ষা করবে আপনার জন্যে। ওখান থেকে আরো একশ মাইল দূরে লে নিউফ পোইজো, দুর্ভাগ্য যে এয়ারস্ট্রিপ খুব ছোট বলে লিয়ার ল্যান্ড করতে পারে না, আরো ছোট প্লেন ব্যবহার করতে হয়।
ব্যারনেস কখন পৌঁছবেন লে নিউফ পোইজোঁতে?
তিনি তো সাতদিন হলো চলে গেছেন, স্যার। তারপরই ইউ.টি.আই, ফ্লাইট সম্পর্কে বিশদ বলতে শুরু করল গ্যাসটন। ইউ.টি.আই. টিকেট কাউন্টারে আপনার জন্যে টিকেট থাকবে, স্যার-নন-স্মোকিং একটা সীট বুক করেছি। জানালার ধারে।
সব তোমার মনে থাকে। ধন্যবাদ, গ্যাসটন।
রিসিভার নামিয়ে রাখল পিটার, অনুভব করল সমস্ত বোধ দূর হয়ে গেছে। কোথা থেকে যেন বিপুল শক্তি এসে ভর করল শরীরে। এ শক্তি কি ট্রেনিং পাওয়া একজন সৈনিকের প্রাণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা থেকে আসছে, নাকি সিদ্ধান্তহীনতা আর অজানা ভীতির অবসান ঘটার আশা থেকে?
দুজনের উদ্দেশ্যই এক। বলা কঠিন কে জিতবে কে হারবে। তবে বেশি দেরি নেই, অচিরেই সব জানা যাবে।
বাথরুমে ঢুকে বেসিন থেকে অবশিষ্ট হুইস্কি ভরা গ্লাসটা নিয়ে এল ও।
.
তাহিতি-ফায়া-য় ল্যান্ড করল ডিসি টেন। একটু গরম আবহাওয়া, ফুলের গন্ধে ভারী আছে বাতাস। রানওয়ে থেকে সাগর আর শহর দেখা যায়; নিতম্বিনী নধর যুবতীদের বোটে, সৈকত, বা ফুটপাতে যেখানেই দেখা গেল মনে হলো অফুরন্ত আনন্দ পুলকে সারাক্ষণ নাচছে। চারদিকে ভালো করে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নিয়ে লাগেজ হোন্ডের দিকে এগোল পিটার।
কাস্টমস চেকিঙের পর আরেক দিকের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ও, এই সময় অস্বাভাবিক এক ঘটনা ঘটল। গেটের পাশে দুজন সশস্ত্র কাস্টমস অফিসার দাঁড়িয়ে রয়েছে, দূর থেকে পিটারকে দেখে নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কি যেন আলাপ করল তারা। তারপর দুজনই পিটারের পথ আগলে দাঁড়াল।
গুড আফটারনুন, স্যার, বলল একজন, অমায়িক হাসছে, কিন্তু হাসিটুকু চোখ ছোঁয়নি। আমাদের সাথে এদিকে একটু আসবেন, প্লিজ? পিটারকে পথ দেখিয়ে পর্দা ঘেরা একটা অফিস ঘরে নিয়ে আসা হলো।
দয়া করে আপনার ব্যাগগুলো খুলুন, স্যার। হ্যান্ডব্যাগ আর ব্রিফকেস, দুটোই তন্নতন্ন করে খুঁজল ওরা, গোপন পকেট আছে কিনা তাও পরীক্ষা করল একজন।
আপনাদের প্রশংসা করতে হয়, বলল পিটার, ওদের মতোই হাসছে ও, কিন্তু কণ্ঠস্বর টান টান আর নিচু।
অনিয়মিত চেক, স্যার, সিনিওর লোকটা বলল ওকে। দশ হাজার লোকের মধ্যে আপনি আনলাকি একজন। আবার, স্যার, আশা করি দেহ-তল্লাশিতে আপত্তি করবেন না?
দেহ তল্লাশি করবেন? চটে গেল পিটার, কিন্তু কি মনে করে তর্ক করল না; কাঁধ ঝাঁকিয়ে হাত দুটো মাথার ওপর তুলল। করুন।
জানা গেল, ফ্রান্সের মতো এখানেও ম্যাগডা অল্টম্যান একজন মহীয়সী নারী। একগুচ্ছ দ্বীপের মালিক সে, তার অঙ্গুলি হেলনে ভালো-মন্দ অনেক কিছুই ঘটতে পারে। নবাগত একজন বিদেশি অস্ত্র বহন করছে কিনা সেটা জানতে চাওয়া তার জন্যে স্বাভাবিক।
