হ্যামার সমস্যা করল কিন্তু স্টার গেজার ভালোভাবেই চলল। তাই সে টান দিয়ে চাবুকটা নিল যা নেফার কখনো তাদের উপর ব্যবহার করে নি এবং হ্যামারের চকচকে পেটে আঘাত করল যা বৃদ্ধাঙ্গুলের সমান পুরো একটা দাগ পশুটার দেহে সৃষ্টি করল।
হ্যা! সে চেঁচালো, এগিয়ে চল, হ্যামার!
হতভম্ব হ্যামার সামনে বাড়ল এবং সিংহটার দিকে এগিয়ে গেল। পশুটার পুরো মনোযোগ ছিল চিৎকাররত দুর্বল শিকারের দিকে যা তার সামনের থাবার নিচে ছিল এবং সে উপরে উঠে আসা রথের দিকে তাকাচ্ছিল না যা তার উপর নেমে আসছিল।
মিনটাকা চাবুক ফেলে দিল এবং তার পরিবর্তে তাক থেকে লম্বা বর্শাটা টেনে নিল। শিকারের সময় সে এটা নেফারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বহন করেছে এবং এখনও এটাকে তার ডান হাতে শক্ত ও পরিচিত মনে হল। বাঁ হাতে ছুটন্ত ঘোড়ার দলটাকে নিয়ন্ত্রণ করে সে একপাশে অনেকখানি ঝুঁকে এল এবং বর্শাটা উপরে তুলল। তারা গুটিসুটি মারা সিংহটাকে অতিক্রম করল, তার মাথা নিচু করা ছিল এবং ঘারের পিছন দিক ছিল পুরোপুরি উন্মুক্ত। কালো কেশরের ঝোঁপের নিচে মেরুদণ্ড ও খুলির সংযোগ স্থলটা ঢাকা ছিল কিন্তু সে স্থানটি অনুমান করল এবং তার ভয় ও নেফারের জন্যে তার যে ভালোবাসা সে শক্তি দিয়ে সে সজোরে আঘাত হানল ঐ বরাবর।
তাকে অবাক করে দিয়ে ফলাটা সহজেই পিছলে দৃঢ় ভাবে জন্তুটার ঘাড়ের পিছনে পুরো গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে ঢুকে গেল। সে তার হাতে হালকা টিপ টিপ অনুভব করল যখন বর্শাটা মেরুদন্ডের মাঝ জোড়া দিয়ে ঢুকে গেল এবং সেই সাথে আরো কতগুলো সংযোগস্থল অতিক্রম করল।
যখন রথটা ছুটে ওটাকে অতিক্রম করল, বর্শার বাট তখন তার মুঠো থেকে চলে গেছে। সিংহটা নেফারের উপর সাথে সাথে একটা জড় ভূপের ন্যায় ঢিলা হয়ে পড়ে গেল। সে আর নড়ল না, তৎক্ষণাৎ মারা গেছে।
ঘোড়াগুলোকে থামাকে তার আরো পঞ্চাশ কিউবিট যেতে হল, চাকাগুলোকে ঘুরাল এবং যেখানে নেফার বিশাল মৃত দেহটার নিচে পড়ে আছে সেখানে তাদের নিয়ে এল। পাদানি থেকে লাফ দিয়ে নামার আগে বুদ্ধি করে সে গতিরোধকটা ফেলে দিল চাকার উপর।
স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে নেফার মারাত্মকভাবে আহত। রক্তের আবরণের ভেতরে সে ভেবেছিল নেফার মৃত। সে তার পাশে হাঁটু ভর দিয়ে বসল। নেফার, কথা বল। আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?
তাকে স্বস্তি দিয়ে সে তার মাথা তার দিকে ঘুরাল এবং চোখ খুলে তাকে দেখল।
তুমি ফিরে এসেছে, সে দম নিল। অসাধারণ, মিনটাকা অসাধারণ।
আমি তোমাকে এ থেকে মুক্ত করছি।
সে দেখতে পেল সে মৃত পশুটার অত্যাধিক ওজন তার ফুসফুসের বারটা বাজিয়ে দিচ্ছে। সে লাফ দিয়ে দাঁড়াল এবং পশুটার মাথা ধরে জোরে টান দিল। লেজ ধরে, নেফার যন্ত্রণায় ফিসফিসিয়ে বলল।লেজে ধরে ওটাকে ঘুরাও।
সে দ্রুত তার কথা মতো কাজ করল এবং লম্বা শক্ত লেজটা ধরে তার সব শক্তি দিয়ে টান দিল। ধীরে ধীরে বিশাল দেহটা দুলতে শুরু করল। একসময় পুরো মৃত দেহটা সরে গেল এবং সে মুক্ত হল।
মিনটাকা হাঁটুগেড়ে তার পাশে বসল ও তাকে বসতে সাহায্য করল। কিন্তু নেফার মাতালের ন্যায় দুলতে লাগল এবং তার সাহায্য চাইল।
হাথোর, আমাকে সাহায্য কর, প্রার্থনা করল মিনটাকা।
তুমি মারাত্মক আঘাত পেয়েছ। অনেক রক্ত গিয়েছে।
এর পুরোটা আমার না, সে বোকার মতো বলল। কিন্তু তার ডান উরুতে লাল পালকের মত হালকা লাল ঝর্ণা দেখা গেল যেখানে প্রাণীটা তার নখগুলো দিয়ে খামচে দিয়েছে।
টাইটা তাকে অনেকদিন ধরে আন্তরিকভাবে কীভাবে যুদ্ধের ক্ষত চিকিৎসা করতে হয় তা শিখিয়েছে এবং সে বুঝতে পারছে এখনি রক্ত ঝরা না থামলে তা আরো ক্ষতির কারণ হতে পারে। সে তার বৃদ্ধাঙ্গুল কাটা মাংসের উপর চেপে ধরল যতক্ষণ না রক্তের প্রবাহ জমে বন্ধ হল।
পানির মশকটা নিয়ে এসো, নেফার তাকে তাড়া দিল। মিনটাকা রথের দিকে দৌড়ে গেল এবং তাকে পাত্রটা এনে দিল। যখন সে পান করছিল সে ওটা তার মুখের ওপর ধরে রইল। তারপর তার মুখ থেকে রক্ত ও ময়লা ধুয়ে দিল কোমল হাতে। চেহারায় কোন ক্ষত নেই দেখে সে স্বস্তি পেল। যাহোক যখন সে তার অন্য ক্ষতগুলো দেখল যা নেফারের পক্ষে তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা কঠিন হল এবং ওগুলো মারাত্মক ছিল।
আমার শয্যাটা রথে, তার কণ্ঠ আগের চেয়ে দুর্বল শোনাল। যখন সে ওটা তার কাছে গিয়ে এল সে বান্ডিলটা খুলতে বলল তাকে। যেন সে তার গৃহকত্রীর দায়িত্ব পেল।
মিনটাকা একটা সূঁচ ও সিল্কের সুতা তুলে নিল। নেফার তাকে দেখিয়ে দিল কীভাবে বাঁধতে হবে। এই একটা কাজ যা সহজেই সে করতে পারল এবং সে তা করতে ইতস্তত করল না। তার হাতের কব্জি পর্যন্ত রক্তে মেখে গেল। আঙ্গুল দিয়ে সে তার ভোলা ধমনীর চারপাশে সুতা ঢুকিয়ে দিল। তারপর তার মাংসের মধ্যে ভিতরে অংশটা বন্ধ করে দিল। তার নির্দেশে সে তার ছিন্ন বস্ত্র থেকে এক টুকরো কাপড় ছিঁড়ল তার ক্ষত বাঁধতে। এটা ছিল রুক্ষ প্রাথমিক অস্ত্রপ্রচার। কিন্তু রক্তের ধারা বন্ধের জন্যে যথেষ্ট।
এটুকুই আমরা করতে পারি। আমি তোমাকে রথের নিকট নিয়ে যেতে সাহায্য করবো। তারপর দ্রুত মূল দলের কাছে ফিরে যাবো। সেখানে একজন শল্যবিদ বাকিটা করবে। ওহ্! যদি টাইটা এখন এখানে থাকতো।
