সে স্টার গেজারের মাথার দিকে গেল এবং যেখানে সে শুয়েছিল সেখানে তাদের নিয়ে এল। নেফার এক কনুইতে ভর দিয়ে দীর্ঘক্ষণ তার পাশে পড়ে থাকা সিংহটার মৃত দেহের দিকে তাকিয়ে রইল।
আমার প্রথম শিকার করা সিংহ, সে অনুতপ্তভাবে ফিসফিস করল। যদি আমরা এর চামড়া না ছাড়াই তাহলে কোন পুরষ্কার পাব না। এর চুল পিছলে যাবে ও পড়ে যাবে।
আবেগের ভার ও বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় মিনটাকা তার মেজাজ ঠিক রাখতে পারল না। এটা হচ্ছে কোন লোকের বোকামির সবচাইতে অসভ্য কিছু যা আমি এ পর্যন্ত শুনেছি। তুমি তোমার জীবনকে একটা দুর্গন্ধময় চামড়ার জন্যে বিপদে ফেলবে?
রাগতভাবে সে তাকে দাঁড়াতে সাহায্য করতে এল। যা করতে তাদের দুজনেরই অনেক কষ্ট হল। যখন সে রথের দিকে খুড়িয়ে চলল সে তার সব ভর নিয়ে তার উপর বাঁকা হয়ে রইল এবং পাদানির উপর দুর্বলভাবে বসে পড়ল ধপাস করে।
মিনটাকা তারা বিছানার ঝোলা থেকে ভেড়ার চামড়া ব্যবহার করল, যাতে সে একটু আরাম পায়। তারপর সে রথে চড়ল এবং তার উপর দিয়ে লাগাম হাতে নিয়ে দাঁড়াল। কোন দিকে? সে জিজ্ঞেস করল।
দলের বাকিরা এখন উপত্যকার অনেক দূরে চলে গেছে এবং তাদের ধরতে আমাদের খুব দ্রুত চলতে হবে। তারা ভুল দিকেও যাচ্ছে। নেফার তাকে বলল, অন্য শিকারীরা শুরুতে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের না পেয়ে আমরা সারাদিন তাদের খুঁজতে পারি।
আমরা ডাব্বায় যেখানে জাহাজটা আছে সেখানে ফিরতে পারি। জাহাজে একজন শল্যবিদ রয়েছে। সে শুধু একটা সম্ভাব্য উপসংহার টানল এবং সম্মতি সূচক মাথা নাড়াল। সে ঘোড়াগুলোকে হাঁটার তাগিদ দিল এবং তারা বন ছেড়ে উঁচু ভূমিতে উঠে এল, তারপর আবার দক্ষিণে রওনা দিল। ডাব্বায় পৌঁছতে তিন ঘণ্টা বা তার বেশি লাগবে, মিনটাকা বলল।
যদি আমরা নদীর বাঁক কেটে যাই। নেফার উত্তর দিল। আমরা চার ক্রোশ দূরত্ব কমাতে পারি।
মিনটাকা ইতস্তত করল এবং পূর্ব দিকে তাকাল, যা তাকে পাড়ি দিতে সে বলছে। আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলতে পারি। সে ভয়ে বিড়বিড় করে বলল।
আমি তোমাকে রাস্তা দেখাবো। সে উত্তর দিল। নির্দেশনায় আত্মবিশ্বাসী, টাইটা তাকে মরুতে চলতে শিখিয়েছি। এটা আমার সর্বোত্তম সুযোগ।
সে রথটাকে বাঁ দিকে ঘুরাল। যখন তারা শক্ত ও একটু সুস্থ হল তারা দুজনে …কঠিন ভাঙ্গা পথে রথ চলার গতি উপভোগ করল। তারা উঁচু-নিচু ও পিচ্ছিল পথে চলছিল। কিন্তু এখনও যখন ঘোড়াগুলো হাঁটা বা দুলকি চালে চলছিল তখন পাথর বা উঁচু স্থানের সাথে ধাক্কায় কিংবা গর্তে পতনে নেফারে ছিন্ন দেহ প্রতিবাদ করে উঠছিল।
সে ব্যথায় কুঁচকে গেল ও ঘেমে উঠল। কিন্তু তার এসব সে তার কাছ থেকে লুকাতে চেষ্টা করল। প্রায় ঘণ্টা চলে গেল। তার ক্ষতগুলো শক্ত হয়ে উঠল এবং ব্যথা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছল। একটা খারাপ ধাক্কায় সে জোরে চিৎকার করে উঠে অজ্ঞান হয়ে গেল।
সাথে সাথে মিনটাকা লাগাম টেনে ঘোড়া থামাল এবং তাকে জাগানোর চেষ্টা করল। সে একটুকরো কাপড় পানিতে ভিজিয়ে কয়েক ফোঁটা তার ঠোঁটের মধ্য দিয়ে ভিজিয়ে দিল। তারপর সে তার বিবর্ণ ঘামে ভেজা চেহারা মুছে দিল। কিন্তু যখন সে তার ক্ষতগুলো পুনরায় ব্যান্ডেজ করতে গেল সে দেখল তার উরুর ক্ষত থেকে আবার রক্ত ঝরা শুরু হয়েছে। সে তা বন্ধ করতে কাজ করল। কিন্তু শুধু রক্তের ধারা কমাতে সফল হল। তুমি ঠিক হয়ে যাবে, আমার প্রিয়। সে তাকে। বলল, এমন আত্মবিশ্বাসের সাথে যা সে অনুভব করল না। সে তাকে কোমলভাবে জড়িয়ে ধরল, তার ধুলো ও রক্তে ঢাকা মাথায় চুমু দিল এং পুনরায় লাগাম ধরল।
এক ঘণ্টা পরে সে শেষ পানিটুকু নেফার ও ঘোড়াগুলোকে দিল কিন্তু নিজে পান করল না। তারপর সে রথের ড্যাশবোর্ডের যতো উঁচুতে পারল দাঁড়াল এবং কাঁকড় বিছানো ও কোমল শিলায় পাহাড়টা দেখল যা তাপের মরীচিকায় নাচছিল ও দুলছিল। সে জানত সে হারিয়ে গেছে। আমি অনেক পূর্ব দিকে সরে এসেছি! সে বিস্মিত হল, সূর্যের দিকে তাকাল ও তার অবস্থান পরিমাপের চেষ্টা করল। তার পায়ের কাছে নেফার তখন নড়ে উঠল এবং গোঙিয়ে উঠল এবং সে একটা সাহসী নির্ভীক চেহারা নিয়ে নিচে তাকাল ও হাসল। এখন খুব বেশি দূরে নয়। আমার হৃদয়। আমাদের উচিত পরের চূড়ার পর নদীটা দেখা।
সে আবার ভেড়ার চামড়াটা তার মাথার নিচে দিল। তারপর দাঁড়াল ও লাগামগুলো এক সাথে করল এবং নিজেকে দৃঢ় করল। হঠাৎ বুঝল সে কত নিঃশেষিত ছিল। তার দেহের প্রতিটি মাংস পেশীতে ব্যথা এবং তার চোখ ব্যথা করছে ও সূর্যের আলো ও ধুলায় তা লাল হয়ে আছে। সে নিজেকে চলতে বাধ্য করল এবং দলটি সামনে এগোলো।
শীঘ্রই ঘোড়াগুলো হতাশার ভাব দেখাল। তাদের ঘামা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঘাম শুকিয়ে লবণের ধারা তাদের পিঠে সাদা হয়ে আছে। সে তাদের ধীরে হাঁটার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে চাইল কিন্তু তারা সাড়া দিল না। হাই! সে নিচে নামল, ঘোড়াগুলোর মাথা ধরল এবং তাদের পথ দেখাল। এখন সে নিজেও টলমল করে হাঁটছে। কিন্তু অবশেষে সে বালুময় উপত্যকার তলদেশে রথের দাগ দেখতে পেল এবং সাথে সাথে তার মধ্যে গতি সঞ্চারিত হল।
তার পশ্চিমে চলছে, সে ফিসফিসিয়ে বলল। ঠোঁটগুলো তার ফুলতে ও দাগ পড়তে শুরু করেছে। তারা আমাদেরকে নদীর কাছে নিয়ে যাবে। সে চাকার দাগ ধরে কিছু সময় চলল যততক্ষণ না যে দ্বিধায় পড়ে থামল যখন সে তার সামনে নিজের পায়ের দাগ দেখল। তার কিছু সময় লাগল বুঝতে যে সে বৃত্তের মধ্যে ঘুর পাক খাচ্ছে ও নিজের চাকার দাগ অনুসরণ করছে।
