জড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তারা ওয়াদির নরম মাটির উপর বসে পড়ল এবং অনুভূতির আরেক জগতে প্রবেশ করতে লাগল। একে ওপরকে এমন করে জড়িয়ে ধরল যেন কোন শত্রুকে তারা পাকড়াও করেছে। তাদের চোখে বন্যতা স্পষ্ট এবং তাদের নিঃশ্বাস দ্রুততর হলো। মুহূর্তের মধ্যে নেফারের হাতের কারুকার্যে মিনটাকার স্কার্টের কাপড় প্যাপিরাসের কাগজের ন্যায় একে একে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়তে ছিঁড়তে প্রায় উন্মুক্ত হয়ে এল। মিনটাকা সব বুঝতে পারছিল কিন্তু যেন বাঁধা দেবার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলেছে। এমনকি এ ঘটনাটা কোথায় ঘটতে যাচ্ছে সে জ্ঞানটুকুও তারা হারিয়ে ফেলেছে। নেফার শুধু চাচ্ছিল তার নগ্ন পেটের স্পর্শ পেতে। এটাই যেন এ মুহূর্তে তার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া। সে এক ঝটকায় তার নিজের অ্যাপ্রণটা খুলে ফেলল। দুটি তরুণ যুবার কোমল দেহের স্পর্শ এক অন্য অনুভূতির জন্ম দিল। তারপর কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ তার উপর নেফার চড়ে বসল, যেন সে কোন রথে চেপে ছন্দিল আনন্দে কোন অজানায় দুলছে।
সাথে সাথে মিনটাকা অনুভব করল তার নরীত্বের কৌমার্যটা এই মাত্র কেউ হরণ করতে চলেছে। এক পরম অভিজ্ঞতা যা অপ্রতিরোধ্য তৃষ্ণাকে নিবারণ করতে চলেছে, যা তার নরম গোপন অঙ্গের উদ্দেশ্যে হাতছানি দিচ্ছে।
কিন্তু হঠাৎ করে তার কাছে বাস্তবতা ফিরে এল। এক ঝটকায় সে তাকে দূরে ঠেলে দিল ও তার কাছ থেকে তার মুখ সরাল এবং জোরে চিৎকার করে উঠল, না। নেফার! তুমি ওয়াদা করেছিলে! হুরাসের আঘাত প্রাপ্ত চোখের নামে তুমি ওয়াদা করেছিলে।
সে তার উপর থেকে লাফ দিয়ে সরে গেল, গুটিয়ে গেল যেভাবে রথের ঘোড়া চাবুকের আঘাত থেমে যায়। সে তার দিকে নিষ্পলক ও ভয়ার্ত চোখ নিয়ে চেয়ে রইল। তার কণ্ঠটা কর্কশ ও হাঁপানো যেন সে অনেক পথ দ্রুত দৌড়ে এসেছে।
মিনটাকা, আমার ভালোবাসা, আমার প্রিয়তমা! আমি জানি না আমার কী হয়েছিল। এটা ছিল একটা পাগলামি। ইচ্ছে করে আমি এমনটা করি নি। সে একটা হতাশার ভাব করল। আমি বরং মরে যাব তবুও আমার শপথ ভাঙ্গবো না এবং তোমার অসম্মান করবো না।
মিনটাকার নিঃশ্বাস এতো পরিশ্রান্ত ছিল যে, সে তাকে তৎক্ষণাৎ কোন উত্তর দিতে পারল না। সে তার নগ্ন দেহ থেকে চোখটা সরিয়ে নিল। তখন নেফার আরো অনুনয়ের স্বরে বলল, দয়া করে আমাকে ঘৃণা করো না। আমি জানি না কি ঘটছিল।
আমি তোমাকে ঘৃণা করি না নেফার। আমি কখনোই তোমাকে ঘৃণা করতে পারি না। তার হতাশা সহ্য করার মতো নয়। তার ইচ্ছে করছে নিজেকে নেফারের বাহুতে নিক্ষেপ করতে ও তাকে সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু সে জানে তা কতো বিপদজনক হতে পারে। সে রথের চাকা ধরে নিজেকে দাঁড় করাল। তুমি যতোটুকু দোষী আমিও ততটুকু দোষী, কথাটা বলে সে তার দুই হাত দিয়ে মুখের উপর থেকে চুল পিছনে সরাতে চাইল।
নেফার অপরাধীর মতো দাঁড়াল। তার দিকে এক পা এগিয়ে গেল কিন্তু যখন সে পিছিয়ে গেল সেও সাথে সাথে থেমে গেল। আমি তোমার স্কার্ট ছিঁড়ে ফেলেছি। সে বলল, আমি তা করতে চাই নি।
মিনটাকা তার নিজের দিকে তাকাল এবং দেখল কিভাবে সে অশ্লীল ভাবে উন্মুক্ত হয়ে আছে। সে প্রায় তার মতই নগ্ন। দ্রুত সে ছেঁড়া টুকরোগুলো একত্রিত করল ও হেঁটে তার থেকে দূরে গেল।
তোমারও পোশাক পড়ে নেওয়া উচিত; সে আস্তে করে নেফারকে বলল এবং তার নিচের দিকে তাকাল। তাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল এবং সে অনুভব করল তার বাসনা আবার জাগছে। জোড় করে সে অন্যদিকে তাকাল। তারপর দ্রুত নিচে ঝুঁকে ফেলে দেওয়া স্কার্টটা এক সঙ্গে করল এবং ওটা তার কোমরে বাঁধল।
তারপর তারা দোষীর মতো দাঁড়িয়ে রইল এবং একটা বিরক্তিকর নীরবতা নেমে এল। মিনটাকা ব্যাকুলভাবে এ ভয়ংকর মুহূর্ত থেকে মনোযোগ সরানোর জন্যে কোন ভাষা খুঁজল। তার নিজের দেহে তাকে সাহায্য করতে এল। সে অনুভব করল তার মূত্রথলি পূর্ণ হয়ে গেছে এবং চাপ দিচ্ছে। আমাকে যেতে হবে!
না, সে অনুনয় করল। আমি এটা করতে চাই নি, এমনটা আর কখনো হবে না। আমার সাথে থাকো। আমাকে ছেড়ে যেও না।
মিনটাকা বিচলিতভাবে হেসে উঠল, না, তুমি বোঝনি। আমি শুধু কিছুক্ষণের জন্য যাব। সে তার ছোট স্কার্ট ধরা হাত দিয়ে একটা নির্ভুল সংকেত দেখাল, বেশিক্ষণ দেরি হবে না।
তার হাফ ছাড়াটাও প্রায় করুণ ছিল। ওহ, আমি বুঝেছি। আমি ততোক্ষণে রথ প্রস্তুত করছি। সে ঘোড়াগুলোর দিকে ঘুরল। মিনটাকা তাকে ছেড়ে ঘন কাঁটা ঝোঁপটার দিকে এগিয়ে গেল।
*
সিংহটা যেখানে শুয়েছিল সেখান থেকে ওটা মিনটাকাকে গাছটার দিকে আসতে দেখল। সে তার মাথা তার কান সমতল করল এবং পাথুরে মাটিতে নিজের দেহটা জোড়ে ঘষল।
পশুটা ছিল বৃদ্ধ, বেচারা তার জীবনের সুবর্ণ সময় অতিক্রম করে এখন বার্ধক্যে। একদা তার ঘাড়ে ঘন ঝোঁপের মতো ধূসর কেশর ছিল। তার পিঠ একদা সুন্দর উজ্জ্বল ছিল, কিন্তু এখন তা বয়সের ভারে একটু নুয়ে পড়েছে। তার দাঁতগুলো জীর্ণ ও দাগ পড়া এবং একটা লম্বা তীক্ষ্ণ দাঁত মাটির কাছে ভেঙে পড়ে রয়েছে। যদিও এখনও সে একটা প্রাপ্ত বয়স্ক মহিষকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার শক্তি রাখে এবং তার বিশাল থাবার এক ঝটকায় মেরে ফেলতে পারবে তবুও তার নখরগুলো শীর্ণ ও ভোতা, ফলে একটা দুর্বল শিকারকেও তার পক্ষে শক্ত করে ধরে রাখা কঠিন। গত রাতে সে একটা রিক্সকে পর্যন্ত ধরতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তার ক্ষিধে নিষ্প্রভ, জরুরি এক ব্যথা তার পেটের মধ্যে চিনচিন করছিল।
