এটা একটা বিশাল এলাকা, মহামান্য। নিচের উপত্যকা প্রায় অর্ধক্রোশ হবে। মাঝে মাঝে আমরা একজন আরেক জনের চোখের আড়াল হয়ে যাবো।
নেফার দেখল যে তার দল খুব ঘন আকারে ছড়িয়ে পড়া তার মিলিটারি স্বভাবের বিপক্ষে যাচ্ছে এবং সে তাকে দ্রুত প্রশমিত করতে বলল, যদি আমরা আলাদা হয়ে যাই তবে আমরা আমাদের সামনের তৃতীয় খাজে মিলিত হব, এখানে ঐ ছোট পাহাড়ের নিচে। এটা একা ভালো চিহ্ন। সে চার মাইল দূরে একটা আলাদা ধরনের পাথরের স্তূপের দিকে নির্দেশ করল। যদি আমাদের কেউ মিলন স্থলে আসতে দেরি করে তবে অন্যরা তার জন্য অপেক্ষা করবো যতোক্ষণ না সূর্য ঐ কোনায় যায়। তারপর তাকে খুঁজতে সবাই যাবো।
তারা তাকে ও মিনটাকাকে খুঁজতে বের হওয়ার পূর্বে সে নিজেদের জন্যে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় নিল। হিল্টো এখনো ইতস্তত করছে, আমি মহানুভবের ক্ষমা চাই, কিন্তু লর্ড নাজা আমাকে কঠোরভাবে দায়িত্ব দিয়েছে।
নেফার তীক্ষ্ণ কণ্ঠে ও ঠাণ্ডা অভিব্যক্তি নিয়ে বলল, আপনি আপনার ফারাও। আমার সাথে তর্ক করতে চান?
কখনোই না, মহামান্য! হিল্টো অভিযোগে ধাক্কা খেল।
তাহলে আপনার দায়িত্ব পালন করুন, সঙ্গী। হিল্টো গভীর শ্রদ্ধা সহকারে সালাম জানাল এবং দ্রুত নিজের রথের কাছে ফিরে গেল। যখন সে ছুটল তার লোকদের চেঁচিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল। দলটা খুঁজে চলে গেলে মিনটাকা নেফারকে কনুই দিয়ে আলতোভাবে গুতো মারল ও মিষ্টি একটা হাসি দিল।
আপনার দায়িত্ব পালন করুন, সঙ্গী। সে তার উদ্ধত কণ্ঠ নকল করল ও জোরে হেসে উঠল। দয়া করে কখনো আমার দিকে ওভাবে তাকাবেন না অথবা ঐ কণ্ঠ ব্যবহার করবেন না, মহামান্য। আমি নিশ্চিত যে ভয়ে আমি মরে যাব।
আমাদের হাতে খুব অল্প সময় আছে, সে উত্তরে বলল। আমাদের তা সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে এবং একটা জয়গা খুঁজে বের করতে হবে যেখানে আমরা একা হবো।
সে রথটাকে আকাশ সীমার ওপাশে পুনরায় নিয়ে গেল যাতে তাদেরকে উপত্যকা থেকে আর দেখা না যায় অথবা নিচের খাজের রথ থেকে। যখন তারা হেলে দুলে সামনে এগোলো তারা উভয়েই গলা টেনে ব্যাকুলভাবে সামনে দেখছিল।
দেখ, ঐ খানে, মিনটাকা ডান দিকে দেখল। কণ্টক বৃক্ষের একটা ছোট ঝোঁপ যা প্রায় ঢাকা, শুধু বিবর্ণ সবুজ আগা বেরিয়ে আছে। নেফার ওটার দিকে ঘুরল এবং তারা একটা গভীর সংকীর্ণ উপত্যকা পেল যা হাজার বছর আগে বাতাস ও জলবায়ু এবং অস্বাভাবিক বজ্র ঝড় দিয়ে তৈরি হয়েছে পাহাড়ের পাশে। সেখানে নিশ্চয়ই ভূগর্ভস্থ পানি আছে ফলে কাটা গাছগুলো জন্মেছে। তাদের দেহ এই গরমে দুপুরে ছায়া ও গোপনীয়তা প্রত্যাশা করে। নেফার তীর ধরে ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করল। যখনই তারা থামল মিনটাকা লাফ দিয়ে পাদানি থেকে নামল।
হারনেস খুলে দাও এবং ঘোড়াগুলো বিশ্রাম দাও, সে পরামর্শ দিল।
নেফার ইতস্তত করল এবং তারপর সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল। এটা তার প্রশিক্ষণের বাইরে। নির্জন ও অপরিচিত স্থানে এখন যেমন, সে অবস্থায় তাকে অবশ্যই তার যান হঠাৎ কোন সংকেত বা বহির্গমনের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। সে লাফ দিয়ে নামল ও পানির থলে থেকে ঘোড়াগুলোকে পানি খাওয়াতে গেল। মিনটাকা তাকে সাহায্য করতে এল। তারা নিরবে পাশাপাশি কাজ করল।
এখন সেই সময় যা তারা দুজনেই চেয়েছিল তা অবশেষে এল, তারা লজ্জা পেল ও সব কথা আটকে গেল। হঠাৎ তারা একসাথে একে অপরের দিকে ঘুরল এবং একসঙ্গে কথা বলল।
নেফার বলল, আমি তোমাকে বলতে চাই।
মিনটাকা বলল, আমার মনে হয় আমাদের উচিত, তারা থেমে গেল এবং ছায়ার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে লাজুকভাবে হাসল। মিনটাকা লজ্জায় লাল হয়ে গেল এবং নিচে পায়ের দিয়ে চেয়ে রইল এবং নেফার তার ঘোড়ার মাথায় স্পর্শ করল।
তুমি কী বলতে চেয়েছিলে?
কিছু না। তেমন জরুরি কিছু না। নেফার তার মাথা নাড়ল এবং দেখল সে লজ্জা পাচ্ছে। সে তার গালে ফুটে উঠা ঐ রঙ দেখতে পছন্দ করে। সে এখনো তার দিকে তাকাচ্ছে না। এবং সে যখন কথা বলল তখন তার কণ্ঠ এতো নরম হলো যে প্রায় শোনাই গেল না।
তুমি কী বলতে যাচ্ছিলে?
যখন আমি ভাবি আর কিছু দিন পর তুমি চলে যাবে আমার এমন লাগে যেন মনে হয় আমার ডান হাতটা কেটে ফেলা হয়েছে এবং আমি মরতে চাই।
ওহ, নেফার, সে তার দিকে তাকাল এবং তার চোখগুলো বড় ও প্রথম ভালোবাসার কষ্ট ও আনন্দে পূর্ণ। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি একান্তভাবে তোমাকেই ভালোবাসি।
সাথে সাথে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল এবং চুমু খাবার সময় তাদের দুজনের দাঁতে দাঁত লেগে গেল। নেফারের নিচের ঠোঁট কেটে গেল এবং এক ফোঁটা রক্ত বের হল। তাই তাদের চুমুটা হলো লবণাক্ত। তাদের আলিঙ্গনটাও হলো আনাড়ি ও উদ্ভ্রান্তের ন্যায় যা তাদের মধ্যে একটা বন্য ও অস্বাভাবিক অনুভূতির জন্ম দিল। তারা জড়িয়ে ধরে রইল। যদিও মিনটাকা নেফারের দেহের মধ্যে প্রায় মিশে গেছে তবুও সে তাকে আরো জোরে চেপে ধরল। সে তার ভারি কোঁকড়ানো ধুলো-মাখা চুল আবেগে মুষ্ঠিবদ্ধ করে ধরল এবং বলে উঠল, ওহ্! ওহ্! কিন্তু তার কষ্ঠ ভারি হয়ে এল।
আমিও তোমাকে হারাতে চাই না, নেফার চুমু থামিয়ে মূর্খ তুলে বলল। আমি কখনোই তোমাকে হারাতে চাই না। আমি কোনো দিন তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না, সে আবার তাকে জড়িয়ে ধরল আরো দৃঢ় ভাবে। তারা দেহ ও মনের নতুন একটা জগতে প্রবেশ করল। তারা দুজন এমন একটা রথে চড়ে বসল যা তাদের নিয়ন্ত্রর বাইরের ভালোবাসা ও আশার ঘোড়া দ্বারা টানা হচ্ছিল।
