আমার ভয় হচ্ছে সে এখন তোমার নতুন শত্ৰু, নেফার, মিনটাকা বিড়বিড় করল। শয়তানিতে টর্কের একটা সম্মান আছে এবং তার চাইতে বেশি বদমেজাজের জন্য সে খ্যাত।
শিকারী সারিটা পাথুরে পাড়ারের নিকটবর্তী হতেই রাজ শিকারী তার টাটু ঘোড়ায় দুই পা ঝুলিয়ে বসে তাদের পথ দেখাতে লাগল। ঘোড়াগুলোকে আরাম দিতে তারা দুলকি পায়ে চলল, প্রতিটি ঢালু পদক্ষেপের পর তাদের জোরে দম নিতে দিল। এক ঘণ্টার মধ্যে তার নুবিয়ান শিকারীদের একটা দলকে পাহাড়ের চূড়ায় তাদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখল এবং শিকারী লোকটির কাছে রিপোর্ট করতে তাদের একজন দৌড়ে নেমে গেল। তারা একে অপরের সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলল। তারপর শিকারীটি হেলে দুলে রাজদলের কাছে সর্ব শেষ তথ্য জানাতে ফিরল। নুবিয়ানরা পাহাড়গুলোকে চিহ্নিত করেছে, তবে বন্য প্রাণীটার চিহ্ন না দেখে। তারা নিশ্চিত যে জন্তুটা জলাশয়ে পানি পান করবে কিন্তু তাকে বিরক্ত না করে তারা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
আমাদেরকে পানির কাছে নিয়ে যাও। অ্যাপেপি আদেশ করল এবং তারা চলতে লাগল।
দুপুরের আগেই তারা একটা নিচু উপত্যকায় নেমে এল। তারা নদী থেকে বেশি দূরে ছিল না কিন্তু মনে হচ্ছে যেন গভীর মরুতে রয়েছে, পানি নেই ও একেবারে নির্জন। শিকারীটি দুলকি পায়ে অ্যাপেপির রথের পাশে এসে বলল, এই উপত্যকার মাথায় জলাশয়। পশুটি সম্ভবত কাছে কোথাও শুয়ে থাকবে?
স্বাভাবিকভাবেই অ্যাপেপি, পুরানো যোদ্ধা, নেতৃত্ব গ্রহণ করল এবং নেফার তা করার দেরি করল না। আমরা তিনটি দলে বিভক্ত হবো এবং মরুদ্যানটাকে ঘিরে ফেলব। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে আমরা তাকে ঘেরা অবস্থায় পাব। আমার লর্ড রাজপ্রতিভূ আপনি কি বা দিকের অংশটার নেতৃত্ব নেবেন। ফারাও নেফার সেটি মধ্যের অংশ নেবে। আর আমি ডান দিকটা দেখব। সে তার ভারি যুদ্ধের ধনুকটা মাথার উপর তুলল, যে প্রথম রক্ত ঝরাতে পারবে সেই পুরষ্কার পাবে।
তারা সবাই দক্ষ রথী ছিল এবং দ্রুতই যে যার অবস্থান নিল, তদারকি ছাড়াই। জলাশয়কে ঘিরে তারা বিশাল জাল বিস্তার করল। নেফারের কাঁধের উপর তার। ধনুক ধরা এবং লাগামটা কব্জি থেকে খোলা, নিশানা লাগানোর জন্য ওগুলো ফেলে তৎক্ষনাৎ দুই হাত মুক্ত করার জন্যে প্রস্তুত। মিনটাকা তার খুব কাছাকাছি। সে লম্বা। বর্শা ধরে তাকে দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা এই অস্ত্রগুলোর নিখুঁত বদল পাঠ করেছে এবং নেফার তার উপর ভরসা করতে পারে, জানে যে সঠিক মুহূর্তেই সে বর্শাটা তার হাতে দিতে পারবে।
তারা মরুদ্যানের দিকে প্রায় হাঁটার গতিতে এগোতে লাগল, ধীরে ধীরে কাছাকাছি যাচ্ছে। ঘোড়াগুলোও যেন তাদের চালকের দুশ্চিন্তাটা বুঝতে পেরেছে এবং সম্ভবত তারা সিংহের গন্ধ পেয়েছে।
তারা তাদের মাথা উপরে তুলে দৃষ্টি ঘুরাতে লাগল এবং নাক দিয়ে বাতাস ছাড়ল ও ত্রস্ত পা ফেলছিল।
রথের সারি জলাশয়কে ঘিরে থাক গুল্ম ও ঘাসের একটু নিচু জমির কাছাকাছি ধীরে এগিয়ে গেল। যখন পুরোটা ঘের দেয়া শেষ হল অ্যাপেপি মাথার উপর হাত উঠিয়ে থামার নির্দেশ দিল। রাজ শিকারী ঘোড়া থেকে নেমে পায়ে হেঁটে সামনে গেল, তার পনিকে সামনে বাড়াল। সে সর্তকভাবে অল্প বাদামী রঙের স্থানটার দিকে এগোলো।
যদি সিংহটা এখানে থাকত, নিশ্চিত ভাবে আমরা এতো বৃহৎ জম্বুটাকে দেখতে পেতাম, মিনটাকার কণ্ঠ কাপল এবং নেফার তাকে তার এই ভয়ের ক্ষুদ্র প্রকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।
একটা সিংহ নিজেকে সমতল করতে পারে যতোক্ষণ না এটা ভূমির অংশ হয়ে যায় এবং তুমি এর উপস্থিতি টের না পেয়ে এটাকে স্পর্শ করার মত কাছাকাছি চলে যেতে পার। যে তাকে বলল।
শিকারী লোকটি প্রতিবারে কয়েক কদম এগিয়ে যাচ্ছে। শব্দ শোনার জন্য থামছে ও তাঁর পথের প্রতিটি ঝোঁপ ও ঘাসের স্কুপে খুঁজে দেখছে। গুল্মের একটা কিনারে সে থামল এবং এক মুঠো ছোট পাথর নিল এবং প্রতিটি সম্ভাব্য লুকানো স্থানে হাত নিচু করে কৌশলে পাথর ছুঁড়তে শুরু করল।
সে কি করছে? মিনটাকা ফিসফিস্ করে জিজ্ঞেস করল।
সিংহ ধাওয়া করার পূর্বে গর্জন করবে। সে ওটাকে দিয়ে তা করানোর চেষ্টা করছে এবং এভাবে সে প্রাণীটাকে বাইরে বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সুসান নিরবতা; আওয়াজ বলতে শুধুমাত্র নুড়িপতনের আওয়াজ, ঘোড়ার নাকের আওয়াজ ও তাদের খুড়ের অস্থির দাপাদাপির শব্দ। প্রত্যেক শিকারী একটা করে তীর তাক করে আছে এবং তৎক্ষণাৎ আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। হঠাৎ ঘাসের মধ্যে একটা আওয়াজ হল। প্রতিটি ধনু সাথে সাথে উপরে উঠে গেল এবং বর্শা বাহকরা তাদের অস্ত্র প্রস্তুত করল। কিন্তু সবাই শান্ত হল এবং তাদের অপ্রস্তুত দেখাল যখন সবাই দেখল একটা বাদামি রঙের মুগুড়ে মাথার সারস বাতাসে উড়াল দিল এবং নদীর দিকে ডানা ঝাঁপটিয়ে চলে গেল।
শিকারী তার স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু সময় নিল, তারপর তার কাজ আবার শুরু করল, প্রতিবার এক কদম করে। গহ্বরের আরো গভীরে গেল যততক্ষণ না সে খোলা মুখে পৌঁছল।
প্রতিবারে ঈষৎ লোনা পানি মন্থর গতিতে উঠে আসছে এবং পাথুরে ভূমির একটা অগভীর বেসিন ভরছে যা কোন বিশাল শিকারী জন্তুর তৃষ্ণা মেটানোর জন্যে নগন্য। শিকারী লোকটি বেসিনের কিনারায় চিহ্ন পরীক্ষা করতে এক হাঁটুতে ভর দিয়ে নিচে নামল। তারপর তার মাথা নাড়ল এবং উঠে দাঁড়াল। গুল্মের মধ্য দিয়ে সে আরো দ্রুত ফিরে এল এবং অবশেষে ট্যাটু ঘোড়ার উপর চড়ে হেলে দুলে অ্যাপেপির রথের কাছে ফিরে এল। অন্য শিকারীরা মাথা বাকাল তার কথা শোনার জন্যে। কিন্তু শিকারী ছিল বিষণ্ণ। মহামান্য, আমি আমার হিসেবে ভুল করেছি। সে অ্যাপেপিকে বলল। সিংহটা এই পথে আসে নি।
