অ্যাপেপির ক্যাম্প কোথায়?
পাহাড়ের ওপাশে। আমি আমার গুপ্তচরদের ওটার উপর নজর রাখতে বলেছি, নাজা পাহাড়ের চূড়ার ওয়াচটাওয়ারে যাবার রাস্তার দিকে নির্দেশ করে বলল। ওপাশে দূরে একটা লুকায়িত মরুদ্যান রয়েছে। সেখানে একটা সুপেয় পানির কূপ এবং খেজুর গাছ রয়েছে। তারা গাছের মধ্যে তাঁবু খাঁটিয়েছে।
আমরা একটা ছোট অগ্রবর্তী দল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে সুবিধাজনক স্থানে ক্যাম্প করবো। তারপর কিভাবে আক্রমণ করা যায় তা পরিকল্পনা করব।
নাজা আদেশ মেনে নিল এবং পাঁচজনের একটা দলকে জায়গা খোঁজার জন্য। পাঠাল। এরা প্রত্যেকে তার ঘনিষ্ঠ রক্ত সম্পর্কীয়। মনে-প্রাণে তারা তার একান্ত নিজস্ব লোক।
নিজেদের তরবারির খাপ চেপে ধর, নাজা আদেশ করল, কোন শব্দ করবে না। তারপর বাঁ হাতের ইশারা করে সে আগে বাড়ল। পিছনে ফারাও তার খুব কাছাকাছি রইল। খুব দ্রুত তারা উপরে পৌঁছে যায় এবং হাঁটতে থাকল যতোক্ষণ না নাজা সেই আড়াআড়ি কণ্টক বৃক্ষটির কালো ছায়ার নিকট উপস্থিত হল যা ভোরের আকাশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রয়েছে। হঠাৎ সে থেমল এবং ডান হাত উঠিয়ে ইশারায় চুপ থাকতে বলল। বাতাসে সে কান পাতল।
কি বিষয়? ফারাও তার খুব কাছে এসে ফিস্ ফিস্ করে জানতে চাইল।
মনে হল পাহাড়ের চূড়ায় কোন আওয়াজ শুনতে পেলাম। নাজা বলল, হিকস্দের ভাষায়। আপনি একটু এখানেই অপেক্ষা করুন, মহামান্য! আমি সামনের পথ পরিষ্কার করে আসছি। ফারাও এবং সৈন্য পাঁচজন ঘোড়া থেকে নেমে রাস্তার পাছে নিচু হয়ে বসে পড়ল, আর নাজা নিঃশব্দে সামনে এগিয়ে গেল। সামনে একটা বড় শিলাখন্ডের আড়ালে নাজা হারিয়ে গেল। এদিকে ধীরে ধীরে সময় যততই গড়াতে লাগল ফারাও ততো অস্থির হয়ে উঠলেন। আলো ছড়িয়ে খুব দ্রুত ভোর হয়ে যাচ্ছে। হিক রাজা সহসাই সব গুছিয়ে নিয়ে তাদের আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে। একটা মৃদু সংকেত পেয়ে সে তাড়াতাড়ি পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াল। সংকেতটা হল দক্ষভাবে নাটিংগেইল পাখির ভোরের ডাকে অনুকরণ।
ফারাও তার নীল তরবারি উঁচিয়ে ধরলেন। পথ পরিষ্কার, সে বিড়বিড় করে বলল, আমাকে অনুসরণ কর। তিনি উপরের দিকে চললেন এবং একটা লম্বা পাথরের সামনে এসে ফারাও উপস্থিত হলেন যা পথ রোধ করে রয়েছে। তিনি এর চারদিকে ঘুরে হঠাৎ থেমে গেলেন। লর্ড নাজা বিশ কদম দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুধু তারা দুজন এখানে আর বাকিরা পাথরে আড়ালে রয়ে গেছে। নাজার ধনুকে তীর লাগানো আর সেটা ফারাও এর উন্মুক্ত বক্ষ বরাবর লক্ষ্য স্থির করা। সে তা হুঁড়ার আগেই, তিনি কিসের সম্মুখীন হচ্ছেন তার পুরোপুরি অর্থ ফারাও এর বোধগম্য হল। এটাই সে জঘন্য ও ঘৃণিত জিনিস যার গন্ধ টাইটা তার অলৌকিক শক্তি দিয়ে অনুভব করেছিল।
তার শত্রুর পূর্ণ অবয়ব দেখার জন্যে ভোরের স্মিত আলোই যথেষ্ট ছিল, যাকে কিনা এতোদিন সে বন্ধু ভেবে এসেছে। খুব শক্ত করে তীরের ধনুকটা টানা, নাজার ঠোঁটে একটা ভয়ঙ্কর বক্র হাসি ফুটে উঠেছে এবং রক্তিম চোখে নিষ্ঠুর শিকারী চিতার ন্যায় সে ফারাও এর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। তীরের গোড়া লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের পালকে সজ্জিত এবং ওটার মাথায় হিকদের ধাচে ধারালে ও তীক্ষ্ণ হালকা পাথর লাগানো যা শত্রুর হেলমেট ও বর্ম পর্যন্ত ভেদ করতে সক্ষম।
আপনি দীর্ঘজীবী হউন। নাজা এমনভাবে কথাটা বলল যেন অভিশাপ দিল, এবং তারপর সে তীরটা ছেড়ে দিল। একটা টুং টাং ছন্দ তুলে ধনুক থেকে ওটা রেরিয়ে এল। একটা বিষাক্ত উড়ন্ত পোকার ন্যায় ধীরে ধীরে তীরটটা এগুল। পালকগুলো তীরটাকে ঘুড়াচ্ছিল এবং এটা যখন বিশ কদম দূরত্ব অতিক্রম করল তখন যেন হঠাৎ ওটার মাঝে কিছু একটা জন্ম দিল। যদিও ফারাও এর দৃষ্টি শক্তি যথেষ্ট ভালো ছিল এবং সে কি অবস্থায় রয়েছে অন্য ইন্দ্রিয়গুলোও সে বিষয়ে পূর্ণ সচেতন ছিল তবু সে সামান্যই নড়তে পারল, যা তীরটার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবার জন্যে যথেষ্ট ছিল না। তীরটি তার ঠিক বুকের মাঝে যেখানটাতে রাজকীয় হৃদপিন্ডটা পাজরের মধ্যে রক্ষিত ছিল সে জায়গায় আঘাত হানল। এমন শব্দে তীরটা ঢুকল যেন একটা পাথর খুব উঁচু থেকে নীলের পুরু কাদার মধ্যে পতিত হল এবং অর্ধেকটা তীর তার বুকের ভেতর ঢুকে গেল। সে আঘাতের ধাক্কায় ঘুরে একটা লাল পাথরের উপর গিয়ে পড়ল। মুহূর্তের জন্যে সে হাতের আঙুল দিয়ে রুক্ষ পাথরটা ধরে রইল। তীরের মাথার তীক্ষ্ণ পাথর খন্ড ভেতরটা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিচ্ছে। রক্তমাখা তীরটা মাংসপেশীতে অসাধারণভাবে গেঁথে রয়েছে আর রক্তের একটা ধারা মেরুদন্ডের ডানদিক দিকে বয়ে চলল।
তার নীল তরবারি হাতের মুঠো থেকে পড়ে গেল এবং একটা মৃদু চিৎকার তার মুখ দিয়ে বেড়িয়ে এল। আওয়াজটা তার উজ্জ্বল ফুসফুসের রক্তে চাপা পড়ে গেল। সে হাঁটু ভর দিয়ে বসার চেষ্টা করল। কিন্তু পাগুলো কোন শক্তি পেল না। সে পড়ে গেল এবং নখগুলো তার লাল পাথরের গায়ে আঁচড় কেটে গেল।
নাজা একটা হিংস্র চিৎকার দিয়ে সামনে লাফিয়ে গেল, ফাঁদ! সাবধান! এবং যেখানে ফারাও এর বুকে তীর লেগেছে সে স্থানটায় সে তার একটা হাত রাখল।
মৃত্যু পথযাত্রী রাজাকে সাহায্য করতে সে নিচু হল, রক্ষীরা আমি এখানে! এবং সাথে সাথে নাজার চিত্তারে সাড়া দিয়ে দুজন সৈন্য পাথরের ওপাশ থেকে উদয় হল। মুহূর্তেই তারা দেখল কিভাবে ফারাও আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে এবং পালকের উজ্জ্বল গুচ্ছ যা তীরে গোড়ায় লাগালো তা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করল।
