একজন লম্বা লোক দুর্গের ভেতর প্রবেশ করল। সে মানুষের খুলি খচিত বাজু পরিধান করে আছে এবং তার দাঁড়িতে রং-বিরঙের ফিতা বাঁধা। হিকা উজ্জ্বল রঙ খুব ভালোবাসে।
লোকটি তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এল, সেথের আশীর্বাদ তোমার উপর বর্ষিত হোক, হে আমার চাচাত ভাই, তারপর নাজা এগিয়ে যেতেই সে তাকে জড়িয়ে ধরল।
এবং তোমার উপরও তার আশীর্বাদ বর্ষিত হোক, ভাই টর্ক, কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম, নাজা তাকে সর্তক করল এবং ভোরের প্রথম আভার দিকে সে। দৃষ্টি আকর্ষণ করল যা পূর্ব দিগন্তে ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে প্রস্ফুটিত হচ্ছে।
তুমি ঠিক বলেছো। হিক প্রধান তাকে ছেড়ে দিয়ে পিছনে দাঁড়ানো তার সহযোগীর নিকট হতে লিলেন কাপড়ে মোড়ানো একটা আঁটি নিল। তারপর নাজার হাতে তা তুলে দিল আর নাজা এমনভাবে তা খুলল যেন সে কোন কামান দাগাতে যাচ্ছে। সে আগুনের শিখায় তীরের খাপটি পরীক্ষা করল। খাপটা খুব হালকা কিন্তু মজবুত কাঠ দিয়ে তৈরি এবং খুব সুন্দরভাবে চামড়া দিয়ে সেলাই করা। কারুকাজটা অসাধারণ। এটি কোন উচ্চপদস্থ যোদ্ধার অস্ত্র। নাজা ঢাকনা খুলে একটা তীর বের করল। সে তীরটিকে আঙ্গুলের ফাঁকে নিয়ে তার স্থায়ীত্ব ও উপযুক্তটা দেখে খুশীতে বাহবা ধ্বনি দিল।
হিকস্দের তীর কখনো লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয় না। তীরের শেষাংশে স্থাপিত পালক উজ্জ্বল রঙের এবং তাতে একটা বিশেষ চিহ্ন অংকিত রয়েছে। প্রাথমিক আঘাতটা মারাত্মক না হলেও যে পাথরটি তীরের আগায় বক্রাকারে স্থাপন করা আছে, তা শরীরের মাংসের মধ্যে এমনভাবে ঢুকবে যে কোন শল্যবিদ যদি তীরটা বের করে নিয়েও আসে তবুও সেই ধারালো মাথাটি ভেতরে রয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে তীর বিদ্ধ লোকটির যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হবে। ধারালো, সূঁচালো অংশটি ব্রোঞ্জ-এর চেয়েও শক্ত এবং হাড়ে আঘাত করার পরও এর মসৃণতা কমবে না। নাজা তীরটা খাপের মধ্যে রেখে ঢাকনা লাগিয়ে দিল। এই ভয়ানক অস্ত্রটি সাথে নিয়ে রথে ফেরার কোন সুযোগ নেই। যদি তার বর্শা বাহক কিংবা সৈন্যদের কেউ তা দেখে ফেলে তাহলে ব্যাখ্যা করা কষ্ট সাধ্য হবে।
আমাদের এখনো আলোচনা করার অনেক কিছু রয়েছে। নাজা গোড়ালিতে ভর করে বসে পড়ল। টকও তার দেখাদেখি একইভাবে বসল। যতোক্ষণ না নাজা উঠে দাঁড়াল, দুজনে খুব নিচু ও শান্ত স্বরে প্রয়োজনীয় কথা সারল। যথেষ্ট! এখন দুজনেই আমরা জানি আমাদের অবশ্যই কি করতে হবে। অবশেষে আঘাত করার সঠিক সময় এসেছে।
ঈশ্বর আমাদের এই উদ্যোগে প্রসন্ন হোক। নাজা ও টর্ক আবার আলিঙ্গন করল। তারপর কিছু না বলে নাজা ফিরতি পথ ধরল এবং দৌড়ে টাওয়ারের নিচে চলে এল। সরু পথ ধরে পাহাড় থেকে নামতে লাগল।
নিচে ফেরার পূর্বে সে একটা গোপন জায়গায় তীরের খাপটি লুকাল। লুকানোর জন্যে তা ছিল আদর্শ স্থান। একটা কণ্টক বৃক্ষের গোড়া এবং একটা পাথর বেড়িয়ে রয়েছে। খাপটির উপর একটা পাথর চাপা দিতেই তা একটা ঘোড়ার মাথার অবয় পেল। গাছটির উপরের দিকে ডালপালাগুলো রাতের আকাশে দূর থেকেই এক অন্যরকম আড়াআড়ি চিহ্ন তৈরি করেছে। আবার জায়গাটা চিনতে তার এতোটুকু কষ্ট হবে না।
তারপর ওয়াদি অর্থাৎ নদী উপত্যকার সেখানটায় তার রথ রাখা সেই পথে সে চলল।
*
ফারাও ট্যামোস রথটাকে ফিরে আসতে দেখলেন; আর যে দ্রুততার সাথে নাজা আসছিল তাতে তার মনে হল কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটেছে। তিনি দ্রুত তার বাহিনীকে উঠে দাঁড়িয়ে অস্ত্র হাতে যে কোনো ঘটনা মোকাবেলার জন্য তৈরি থাকতে বললেন।
নাজার রথ ঝনঝন শব্দ করে ওয়াদির নিচ থেকে পথ বেয়ে উপরে উঠল। ফারাও এর কাছে আসতেই সে লাফিয়ে নামল। কি সমস্যা? ট্যামোস জানতে চাইল। ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলতে পারেন, নাজা তাকে বলল, তার গলা কাঁপছিল, উত্তেজনাটা সে লুকিয়ে রাখতে পারল না। আমাদের শক্তির তুলনায় তারা অ্যাপেপিকে অসুরক্ষিতই রেখেছে।
তা কি করে সম্ভব?
আমার গুপ্তচরেরা আমাকে শত্রু প্রধানের ক্যাম্পের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল, আর এখন আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি তা থেকে ওটা খুব দূরে নয়। তার তাবু পাহাড়গুলোর প্রথম সারির পিছনেই। ঐখানে। সে তার খোলা তরবারি দিয়ে পিছন দিকটা নির্দেশ করল।
তুমি কি নিশ্চিত এটা অ্যাপেপি? ট্যামোস তার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।
ক্যাম্পের আলোয় আমি তাকে পরিষ্কার দেখেছি। তার পুরো অবয়ব। তার বাঁকানো নাক ও আগুনের শিখায় চকচক করা রূপালি দাঁড়ি। এমন দৈহিক গঠন ভুল হতে পারে না। তার চারপাশে যতো লোক ছিল তাদের সবার চাইতে সে লম্বা এবং মাথায় শকুনের মুকুটটাও সে পড়ে ছিল।
তার শক্তির পরিমাণ কতটুকু? ফারাও জানতে চাইলেন।
তার স্বাভাবিক দাম্ভিকতার তুলনায় তার সাথে পঞ্চাশ জনের কম দেহরক্ষী। রয়েছে। আমি শুনেছি এবং অর্ধেকের মতো ঘুমিয়ে ছিল। তাদের বর্শাগুলো সাজানো ছিল। সে কিছুই সন্দেহ করনি এবং তার মশালগুলো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছিল। ইচ্ছে করলে একটা তড়িৎ আক্রমণ দ্বারা অন্ধকারে আমরা তাকে সহজেই ধরে ফেলতে পারি।
যেখানটায় অ্যাপেপি অবস্থান করছে সেখানে আমাকে নিয়ে চল, ফারাও নির্দেশ দিয়ে লাফ দিয়ে রথে চড়লেন।
নাজা পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল, এবং নদী খাতের নরম রূপালি বালি চাকার আওয়াজকে চেপে ধরল, ফলে একটা ভূতুরে নিরবতায় সৈন্যবাহিনী শেষ বাঁকটা অতিক্রম করল। বাত পেরোতেই নাজা বাহু উঁচিয়ে থামার নির্দেশ দিল। ফারাও তার পাশ থেকে সরে এসে আড়াআড়ি দাঁড়াল।
