রাত নামতেই বেশিরভাগ অতিথি মাতাল হয়ে গেল অথবা খাবারে এতো ঠেসে গেল যে তারা খুব কমই দাঁড়াতে পারল, তখন লর্ড নাজা ও তার নব বধূরা চলে গেল। তারা ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করার পর নাজা তার সেবিকাদের ডাকল যেন মেরিটাকাকে তার নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তার সাথে ভালো ব্যবহার করবে। সে তাদের সাবধান করল। বেচারি বাচ্চা মেয়ে নিজের পায়ের উপরই ঘুমিয়ে পড়েছে।
তারপর সে হেজারেটকে হাতে ধরে তার জমকালো কক্ষে নিয়ে গেল যেখান থেকে নদী দেখা যায়। নীলের কালো পানিতে সোনালি তারা যেন জ্বলছে।
কক্ষে প্রবেশ করতেই হেজারেটের ব্যক্তিগত দাসী তার বিয়ের পোশাক ও গহনা খোলার জন্য তাকে বাঁশের বেড়ার আড়ালে নিয়ে গেল।
ভেড়ার চামড়া দিয়ে বিয়ের বিছানাটা তৈরি যা চকচকে সাদা রঙের। লর্ড নাজা সতর্কতার সাথে তা পরীক্ষা করল এবং সে ওটার গুণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বাইরের ছাদে গেল এবং নদীর ঠাণ্ডা বাতাস টেনে নিল। একজন দাস তাকে এক বোল মশলা দেওয়া মদ এনে দিল এবং সে তৃপ্তি সহকারে তা পান করল। এই প্রথম সে তার নিজেকে পুরো বিকেলটা উপভোগ করতে দিল। নাজা জানে বেঁচে থাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে শত্রুদের উপস্থিতিতে নিজের বুদ্ধি পরিষ্কার রাখা। সে লক্ষ্য করে দেখেছে যে অন্য সকল অতিথিরা পান করে নিজেদের অবস্থা বেসামাল করেছে। এমনকি টর্ক যার উপর সে অনেক বিশ্বাস ও ভরসা রাখে সেও তার পশুত্বের কাছে বশ মেনেছে। নাজা শেষ তাকে সুন্দর এক লাইবিয়ান দাসী মেয়ের ধরা বোল থেকে পান করতে দেখেছে। টর্ক পান শেষ করে তার মুখ মেয়েটার স্কার্ট দিয়ে মুছছিল। তারপর তাকে নিজের মাথার উপর তুলে ধাক্কা দিয়ে ঘাসের মাঠে ফেলে দিল এবং পিছন থেকে তার উপর চড়ে বসল। নাজার খুঁতখুঁতে স্বভাব এই দৃশ্য দেখে দুঃখ পেয়েছে।
সে পুনরায় কক্ষে প্রবেশ করতেই দুজন দাস দুলকি পায়ে ভেতরে এল। তারা গরম পানির একটা বড় কড়াই বহন করছিল, যার মধ্যে পদ্মফুলের পাপড়ি ভাসছে। নাজা মদের বোতলটা এক পাশে রাখল এবং গোসল করতে গেল। একজন দাস তার চুল শুকালো ও বেনুনি করে দিল এবং অন্য জন তার জন্যে একটা পরিষ্কার সাদা পোশাক নিয়ে এল। তারপর সে তাদেরকে বিদায় করে দিয়ে ফুল শয্যার বিছানায় ফিরল।
সে বিছানার উপর শুয়ে তার দীর্ঘ চমৎকার দেহটা বিছিয়ে দিল এবং সোনালি কাজের আইভরি বালিশে নিজের বিনুনি করা মাথাকে বিশ্রামে দিল।
কক্ষের অন্য কোণ থেকে কাপড়ের খসখস ও নারীসুলভ ফিসফিসানি শোনা গেল। সে একবার হেজারেটের হাসি চিনতে পারল এবং শব্দটা তাকে জাগিয়ে দিল। সে কুনুইতে ভর দিয়ে বাঁশের বেড়ার দিকে তাকাল। দূরত্ব এতোটুকু যে সে তার বিবর্ণ কোমল ত্বক দেখতে পেল।
ক্ষমতা ও রাজনৈতিক উচ্চাকাংখাই এই বিয়ের মূল কারণ, কিন্তু ওগুলোই একমাত্র কারণ নয়। যদিও স্বভাব সিদ্ধভাবে সবসময়ই সে একজন যোদ্ধা ও অভিযাত্রী তবুও নাজার মাঝে একটা কামুক স্বভাব বিদ্যমান। বছর জুড়ে সে হেজারেটকে চুপি চুপি দেখেছে এবং প্রত্যেক অবস্থায় তার নারীত্বের প্রতি ও তার মনের প্রতি তার আকর্ষণ বেড়েছে। তার শিশুকাল থেকে লাজুক কিশোরীত্বে উপনিত হওয়া পর্যন্ত এবং তারপর সেই সময় যখন নারীত্বের পূর্ণতায় তার শরীর নাজুক ও মাধুর্যময়ী হয়ে উঠল, তার শরীরের গন্ধ পরিবর্তন হয়ে গেল, অতঃপর যখনই সে তার খুব কাছে আসত তখন সে নারীত্বের অন্যরকম ক্ষীণ গন্ধ তাকে পাগল করে তুলত।
একবার যখন বাজ ধরতে সবাই বেরিয়েছিল তখন নাজা হেজারেটের কাছাকাছি এসেছিল এবং সে ও তার দুই বান্ধবী তার কটি বন্ধনী সাজানোর জন্য পদ্ম ফুল তুলছিল। সে যখন তীরে দাঁড়িয়েছিল তখন সে তার দিকে তাকিয়ে ছিল এবং তার ভেজা স্কার্ট তার পায়ের সাথে লেপ্টে ছিল ফলে সুন্দর লিনেনের ভেতর দিয়ে তার ত্বক দ্যুতি ছড়াচ্ছিল। তার চুল তার গালের উপর এলোমেলো হয়ে একটা নিষ্পাপ অভিব্যক্তি তৈরি করেছিল যা কম কামনা উদ্রেককারী ছিল না। যদিও তার অভিব্যক্তি গম্ভীর ও বিনয়ী ছিল, তার বাঁকা চোখে ছিল লাজুকতা, তবুও তার মধ্যে কামুক একটা ভাব ছিল যা তাকে বিমুগ্ধ করেছিল। কিন্তু তা ছিল এক মুহূর্তের জন্যে, সে তার বান্ধবীদের না ডেকে তীরে উঠে প্রাসাদের উদ্দেশ্যে ঘাসের মাঠ দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। তার ভেজা দীর্ঘ পাগুলো তখন ঝিলিক দিচ্ছিল, তার গোলাকার নিতম্ব আন্দোলিত হচ্ছিল এবং লিনেনের স্কার্টের নিচে আকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে তখন তার নিঃশ্বাস ছোট হয়ে আসে ও দ্রুত হল।
আর এখন স্মৃতিচারণের সময় তার কোমরের পেশীও আন্দোলিত ও দ্রুত হল। বেড়ার আড়াল থেকে তার বেরিয়ে আসার অপেক্ষা সে রয়েছে। কিন্তু উল্টো সে আবার চাইল সময়টা দেরি হোক যাতে সে পুরোপুরি বুঝতে পারে। অবশেষে তা ঘটল। দুজন দাসী তাকে বাইরে নিয়ে এল তারপর তাকে মেঝের মাঝখানে একা দাঁড় করিয়ে রেখে দ্রুত কেটে পড়ল।
তার রাতের পোশাক গলা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত তার ছড়ানো। যা পূর্বের কোন ভূমি থেকে আনা, অপ্রতুল ও মূল্যবান একটা সিল্ক, ক্রিম রঙ এবং এতো সুন্দর যে মনে হল এটা তার চারপাশে নদীর কুয়াশার মতো ভাসছে। তার নেওয়া প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসে যেন নড়ছে। তার পিছনের কোনায় তিন পাওয়ালা এক টুলের উপর একটা তেলের প্রদীপ ছিল এবং নরম আলোটা তার সিল্কের ভেতর দিয়ে আরো উজ্জ্বল দেখাল। তার বাঁকানো কোমর ও কাঁধ শৈল্পিক দৃশ্য ধারণ করল, তাই ওগুলো পালিশ করা আইভরির মতো নরমভাবে দূতি ছড়াচ্ছে। তার পা খালি ও হাতে মেহেদি আঁকা। তার চেহারা থেকে প্রসাধন ধুয়ে ফেলা হয়েছে তাই তার তরুণ রক্ত তার নিখুঁত ত্বকের নিচে নাজুকভাবে তার গালকে রাঙা করে রেখেছে। এবং তার ঠোঁট কাঁপছিল যেন সে এখনই কেঁদে ফেলবে। সে তার মাথা বালিকা সুলভ অনুনয়ের ভঙ্গিতে ঝুলিয়ে রাখল এবং নিচের পাপড়ি উঁচিয়ে সে তার দিকে চোখ তুলে তাকাল। তার চোখ সবুজ এবং ওগুলোর মধ্যে সে একটা দুষ্টুমির ঝলক দেখতে পেল। তার রক্ত আবার কেঁপে উঠল যেন সে তার সাথে ষড়যন্ত্র করছে।
