যখন নাজা মেরিকার দিকে আরেক হাত বাড়াল সে জোরে চিৎকার দিল এবং নেফার তখন তাকে শান্ত করতে আশ্বস্ত করল। সে দীর্ঘ অনুষ্ঠানের পুরোটা জুড়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকল।
অবশেষে যখন লর্ড নাজা নীলের পানি পূর্ণ পাত্রটি অনুষ্ঠানের শেষ আনুষ্ঠানিকতা স্বরূপ ভাঙল, জনগণ বিস্ময়ে বিহ্বলিত হল। মহান নীলের পানি যার তীরে মন্দিরটি অবস্থিত তা খুব সুন্দর নীল বর্ণ ধারণ করল। প্রথম বাঁক ঘিরে নাজা নদীর এপার থেকে ওপার পর্যন্ত একসারি নৌকা রেখেছে এবং মন্দিরের ছাদ থেকে সঙ্কেত পেয়ে তারা রঙের পাত্রগুলো পানিতে ফেলতে লাগল। প্রভাবটা ছিল শ্বাসরুদ্ধকর কারণ নীল হল ট্যামোস বংশধরের রঙ। নাজা তার ফারাওদের সাথে নতুন সম্পর্কের জানান দিল।
ছাদের পূর্ব দিকের দেয়াল থেকে টাইটা নদীর রঙ বদলে যেতে দেখল যা আসন্ন বিপদের পূর্বাভাসে কাঁপছিল। মনে হল এক মুহূর্তের জন্যে মিশরের বিশাল আকাশে সূর্যটা কালো হয়ে গেল সেই সাথে যেন নীলের পানি রক্তাভ বর্ণ রঙ ধারণ করল। কিন্তু উপরে তাকিয়ে সে দেখল সেখানে কোন মেঘ নেই। কিংবা সূর্যের রশ্মিকে বাধা দেওয়ার জন্য না ছিল কোন পাখির ঝাক এবং যখন সে আবার পানির দিকে নিচে তাকাল দেখল পানি আবার তার নীল রঙে ফিরে এসেছে।
নাজা এখন রাজ রক্তের ধারক এবং নেফার সেই সুরক্ষার মধ্যে। টাইটা প্রার্থনা করে উঠল, আমিই তার এখন একমাত্র ঢাল এবং আমি একা ও বৃদ্ধ। আমার শক্তি কি কোবরাটাকে বাচ্চা বাজপাখি থেকে দূরে সরাতে পারবে? স্বর্গীয় হুরাস, আমাকে আপনার শক্তি দিন। সব সময় আপনিই আমার বর্ম ও বর্শা হয়েছেন। আমাকে এখন ত্যাগ করবেন না, মহান প্রভু।
*
লর্ড নাজা ও তার নতুন দুজন স্ত্রী আকর্ষণীয় কক্ষে নেমে এল যার প্রাসাদের ফটকগুলোতে সিংহ পদবীর দুর্ধর্ষ সৈন্যরা প্রহারা দিচ্ছে। সেখানে তারা নেমে শুভযাত্রা সহকারে বাগানের মধ্যদিয়ে ভোজন কক্ষের দিকে এগোল। বেশিরভাগ অতিথিরা তাদের পূর্বেই চলে এসেছে এবং অশিরিশ মন্দিরের বাগানে উৎপন্ন আঙুরের মদ চেখে দেখছে। যখন বিয়ের দলটি প্রবেশ করল তখন হৈ চৈ–এ কানে তালা লাগার উপক্রম। নাজা দুই হাতে দুই নতুন কিশোরী স্ত্রীকে ধরে আছে। তিনজন নব দম্পতি ভিড়ের মধ্য দিয়ে আড়ম্বর শোভযাত্রা করল ও ভোজ সভার কোণে স্তূপ করা উপহারসমূহ সংক্ষেপে পরিদর্শন করল যেগুলো এরকম স্মরণীয় অনুষ্ঠানের সাথেই কেবল মানানসই। অ্যাপেপি স্বর্ণের পাতায় মোড়া একটা রথ পাঠিয়েছে। আর তা এতো সুন্দর যে এমন কি হলের কম আলোতেও এর দিকে সরাসরি তাকানো কঠিন ছিল। ব্যবলিয়ন থেকে রাজা সারগন একশ দাস পাঠিয়েছেন, প্রত্যেকে তারা একটি করে চন্দন কাঠের সিন্দুক বহন করছে যাদের প্রতিটি গহনা, মূল্যবান পাথর অথবা স্বর্ণের পাত্রে পূর্ণ। তারা রাজ-প্রতিভূর সামনে হাঁটুগেড়ে বসে তা গ্রহণ করতে প্রার্থনা জানাল। নাজা গ্রহণের চিহ্ন স্বরূপ তা প্রতিটি স্পর্শ করল। ফারাও নেফার সেটি লর্ড টাইটার পরামর্শে তার নতুন ভগ্নিপতিকে নদীর তীরের মূল্যবান ৫টা জমি দিল। অনুলেখকরা হিসেব করে দেখল যে এর দাম তিন লাখ খাঁটি স্বর্ণের মুদ্রার চেয়ে বেশি। রাজ-প্রতিভূ তার ফারাও-এর সমান ধনী হয়ে গেল।
বিবাহের তিন ব্যক্তি যখন বিয়ের মজলিসের প্রথমে আসন গ্রহণ করল, রাজ বাবুর্চি তাদের ও তাদের অতিথিদের সামনে খাবার খেল যা ৪০টি আলাদা রকমের খাবার এক হাজার দাস পরিবেশন করল। সেখানে ছিল হাতির গুঁড়, ব্যাঙের জিহ্বা ও নুবিয়ান পাহাড়ী ছাগলের হাড্ডি ছাড়া মাংস, বন্য ও আফ্রিকান শূকরের মাংস, গজলা হরিণ ও নুবিয়ান আইবেক্স, টিকটিকি ও অজগর, কুমির ও জলহস্তী, বঁড় ও ভেড়ার মাংস। নীলের সব ধরনের মাছ পরিবেশন করা হল। ভারদন্ড বিশিষ্ট কেট ফিশ যার দেহ হলুদ চর্বিতে পূর্ণ, তা থেকে শুরু করে মিঠা ও নোনা পানির মাছ পর্যন্ত সেখানে ছিল। উত্তরের সাগর থেকে টুনা, হাঙ্গর, গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি এবং কাঁকড়া ডেল্টা থেকে দ্রুত একটা নৌবহর দ্বারা পাঠানো হয়েছে। বাতাসে উড়ে চলা পাখি, নীবর হাঁস সহ, তিন ধরনের রাজহাঁস, অসংখ্য হাঁস ও ভরত পাখি, তিতির ও কোয়েল রোস্ট করা, ছ্যাকা দেওয়া মদ অথবা বন্য মধু অথবা গুল্ম ও মশলা দিয়ে খাওয়া হল।
আগুন থেকে সুগন্ধি মিশ্রিত ধোয়া এবং রান্নার ঘ্রাণ ভিখারীদের দল এবং প্রাসাদের ফটকের সাধারণ মানুষ পেয়েছে এবং এমকি তারাও পেল যারা দূরে নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অথবা মধ্য নদীতে নৌকায় ছিল, যারা ভোজ দেখতে কাছে এসেছে।
অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য ছিল সঙ্গীত শিল্পী ও যাদুকর, কসরতবাজ ও পশু প্রশিক্ষকের দল। হৈ হুল্লোয় পাগল হয়ে একটা বড় বাদামী ভালুক তার শিকল ভেঙে পালিয়ে গেল। হিকস্দের একটা দল টর্কের নেতৃত্বে চিৎকার দিয়ে ওটার পিছু লাগল এবং নদীর তীরে ধাওয়া করে ছোট প্রাণীটাকে হত্যা করল।
রাজা অ্যাপেপি দুজন অ্যাশিরিয়ান মহিলা ব্যায়ামবিদের নমনীয়তা ও কসরতে খুব খুশি হলেন, তাই তাদের প্রত্যেককে সে তার দুই হাতে নিল ও বহন করল, লাথি মারল ও হৈ চৈ করল। নাচের মঞ্চ থেকে প্রসাদের ব্যক্তিগত কোয়ার্টারের দিকে যখন সে ফিরল সে টাইটার কাছে গোপন কথাটা বলল, তাদের একজন যে সুন্দর কোঁকড়া চুলওয়ালা ছিল ও আসলে একটা ছেলে। আমি খুব অবাক হয়ে গেলাম যখন আবিষ্কার করল তার দুই পায়ের মাঝে গোপন অঙ্গটা আছে এবং আমি তা ধরতেই সে পালিয়ে যেতে চাইল। সে হাসিতে গর্জন করে উঠল, ভাগ্যক্রমে আমি তা হতে দেই নি কারণ দুজনের মধ্যে সে-ই ছিল মজার।
