যখন টর্ক হাথোর পিলারের মধ্যদিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল, অ্যাপেপি নেফারের কাঁধ থেকে তার হাত সরাল এবং নাজার সিংহাসনের নিকট নিয়ে গেল। সে আলতোভাবে রাজ-প্রতিভূকে তার কুশন থেকে উঠালো এবং তাকে আরো বেশি শক্তিতে জড়িয়ে ধরল যেভাবে সে ফারাওকে ধরেছিলেন। তার ঠোঁটগুলো নাজার কানের কাছে নিয়ে ফিসূফিস্ করে নরমভাবে বলল, এখন আর কোন মিশরীয় ষড়যন্ত্র নয়, আমার মিষ্টি সৌরভের ফুল, নইলে আমি ওগুলোকে তোমার রাজ্যের উপরে যতোদূর আমার হাত যায় তততদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেব। সে নাজাকে তার আসনে আবার বসিয়ে দিল, তারপর তার জন্য তার পাশে রাখা আসন গ্রহণ করল। নাজা পিছিয়ে গেল এবং একটা সুগন্ধি মাখা লিলেন কাপড় তার নাকে ধরে রাখল। যখন সে তার বুদ্ধি একত্রিত করল তখন উঠানে হাততালির পর হাততালি চলতে লাগল। একসময় যখন তা থামল, তখন অ্যাপেপি তার বিশাল থাবা তার সিংহাসনের বাহুতে জোরে আঘাত করল তাদেরকে নতুন করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এবং আনন্দ ধ্বনি পুনরায় শুরু হল। সে নিজেকে পুরোপুরি উপভোগ করছিল এবং সে তাদের ক্রমাগত উৎসাহ দিয়ে গেল।
মাথায় নিম্ন মিশরের লাল মুকুট নিয়ে সেই ছিল প্রধান ব্যক্তিত্ব। তার পাশে নেফার, লম্বা সাদা মুকুটের ক্ষমতা নিয়েও একজন কিশোরের মতো অনভিজ্ঞ দেখাল। অবশেষে শেষ হাততালির পর নাজা উঠে দাঁড়াল ও দুই বাহু উপরে তুলল। একটা মাধুর্যপূর্ণ নীরবতা তখন নেমে এল।
পবিত্র কুমারীকে সামনে আসতে দিন। বেদির পূর্বাংশের বাঁকানো পর্দার আড়াল থেকে তার সহযোগী যাজকরা মিছিল করে বেরিয়ে এল, মন্দিরের প্রধান যাজিকা দ্বৈত সিংহাসনের দিকে আগ বাড়ল। তার সামনে, দুজন যাজিকা দ্বৈত রাজ্যের মুকুট বহন করছে। যখন মন্দিরের গায়করা দেবীর প্রশংসায় গান গাইল তখন একজন সম্মানীয় বৃদ্ধ মহিলা যুগ্ম শাসকদের মাথা থেকে একক মুকুট সরিয়ে ফেলল এবং সেখানে দ্বৈত মুকুট বসিয়ে দিল যা মিশরের দুই রাজ্য একত্রিত হওয়ার গুরুত্ব বহন করে। তারপর সে নতুন ভূমিকে আশীর্বাদ করল এবং মন্দিরের ভেতর ফিরে গেল। সিদ্ধান্তহীনতার একটা ছোট বিরতি হল কারণ বিশাল মিশরের ইতিহাসে এটাই প্রথমবারের পুনঃমিলনের অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং কি করতে হবে তার সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম প্রতিষ্ঠিত ছিল না।
সুকৌশলে নাজা ঐ সুযোগটাকে কাজে লাগাল। আরো একবার সে উঠল ও অ্যাপেপির সামনে দাঁড়াল। এই শুভ ও আনন্দঘন দিনে, আমরা শুধুমাত্র দুই রাজ্যের মিলনই নয় ফারাও নেফার সেটি ও রাজকুমারী মিনটাকার বিয়ের ঘোষণাটাও উপভোগ করছি। তাই এটাও সকলে জানুক যে বিয়েটা অনুষ্ঠিত হবে। এই মন্দিরে। আর তা হবে সেই দিন যেদিন ফারাও নেফার সেটি তার দায়িত্ব বুঝে নিবে এবং তার অধিকার অনুসমর্থন করার জন্য একটা শর্ত পূরণ করবে এবং তাকে রক্ষা ও উপদেশ দেয়ার জন্য কোন রাজ প্রতিভূ ছাড়াই রাজ্য চালাতে পারবে।
অ্যাপেপি ভ্রূকুটি করল এবং নেফার হতাশার ছোট একটু অঙ্গভঙ্গি করল কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। পুরোপুরি জনগণের সামনে তা ঘোষণা করা হয়ে গেছে এবং রাজ প্রতিভূ হিসেবে নাজা দুই রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে কথা বলল। যার অর্থ যতোদিন না নেফার তার গডবার্ড ধরছে অথবা তার সিংহাসনের দাবি জোরালো করতে যুদ্ধের ময়দানে সফল হচ্ছে ততোদিন তাকে অপেক্ষা করতে হবে, নাজা খুব সহজেই বিয়েটা কয়েক বছরের জন্য পিছিয়ে দিল।
এটা একটা দক্ষ চাল, টাইটা তিক্তভাবে ভাবল। কিন্তু সে এর পিছনে তার রাজনৈতিক বুদ্ধির প্রশংসা করল। নাজা তার দ্রুত চিন্তা ও সময়মত হস্তক্ষেপ করে তার বিপদকে বিবর্তিত করেছে। যখন তার প্রতিপক্ষ স্বাভাবিক হল, সে আবার বলে চলল, সমান আনন্দে আমি ফারাও অ্যাপেপি ও ফারাও নেফার সেটিকে রাজকন্যা হেজারেট ও মেরিকারার সাথে আমার বিয়ে উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এই বিয়ে আজ থেকে দশ দিন পর অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসের আরোহণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন থেবস শহরের আইসিস মন্দিরে হবে।
অর্থাৎ দশদিনের মধ্যে লর্ড নাজা ট্যামোস রাজ পরিবারের একজন সদস্য হয়ে যাবে এবং ফারাও নেফার সেটির অনুক্রমের বিপক্ষে দাঁড়াবে। টাইটা কঠোর মুখে ভাবল। এখন আমরা জানি, সব সন্দেহ পেরিয়ে কে সেই বার বার-আম-মাসারার পর্বতে বাজ পাখির বাসায় কোবরা রূপে ছিল।
*
হাথোর মন্দিরে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে, অ্যাপেপি অ্যাভারিস এবং নেফার সেটি থেব এ বসবাস করবে। প্রত্যেকে তাদের পূর্বের রাজ্যই শাসন করবে তবে নিয়ম কানুনে একটু পরিবর্তন এল। প্রতিবছর দুবার নীলের বন্যার শুরুতে ও শেষে মেমফিসে দুই রাজা মিলিত হবেন যেখানে দুই রাজ্যের সকল বিষয়ে আলোচনা করা হবে, নতুন আইন প্রণয়ন ও নৈতিক দাবি দাওয়া বিবেচনা করা হবে। যাই হোক, দুই রাজা বিদায় নেয়ার পূর্বে এবং নিজেদের রাজধানীতে ফিরে যাবার পূর্বে, অ্যাপেপি নেফার সেটির সাথে নদীর উজানে থেব যাবে। সেখানে তারা লর্ড নাজার দ্বৈত বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবে।
মন্দিরের নিচে জাহাজঘাট থেকে দুদলের মালামাল জাহাজে তোলাটা ছিল একটা হৈ চৈ অবস্থা, যা সকালের বেশিরভাগ সময়টা জুড়ে ছিল। এদিকে সুযোগ বুঝে টাইটা মাঝি ও ডকইয়ার্ডের মালিক, দাস ও গুরত্বপূর্ণ যাত্রীদের সাথে মিশে গেল। এমনকি সেও তীরে স্তূপ দেওয়া বাক্স-পেটারা ও মালপত্র যেগুলো ছোট নৌকা ও পালতোলা একতলা নৌকা সমূহে তোলার অপেক্ষায় ছিল দেখে অবাক হল। নদীর উজানে খারাপ রাস্তায় না গিয়ে থেব ও অ্যাভারিস উভয় দলের সৈন্যরা তাদের রথ ভেঙে ফেলছে এবং ওগুলোকে বোঝাই করছে এবং ঘোড়াগুলোকে বড় নৌকায় তুলছিল। যা নদীর তীরে বড় একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করল।
