টর্কের তীরের স্মারক কি? সে হালকাভাবে জিজ্ঞেস করল।
সে বিরক্তির একটা ভাব করল। আমি জানি না। কারণ আমি ওকে সম্ভবত কোন বন্য শূকর বা একটা ষাঁড় মনে করি। আজকের মত ও সামনের সব দিনের জন্যে টর্ক আমার জন্য যথেষ্ট। সে টাইটাকে বেলের শরবত দিল, আমি জানি তুমি মধু কতটা পছন্দ কর। সুন্দরভাবে সে বিষয়টা পরিবর্তন করল এবং টাইটা তার পরবর্তী পছন্দের বিষয়টার অপেক্ষায় রইল। এখন, আমার তোমার সাথে আমার কিছু নাজুক বিষয়ে কথা বলার আছে। সে লাজুক ভাবে বলল। তারা যে ঘাসের উপর বসে আছে সেখান থেকে সে একটা বন্য ফুল তুলে নিল এবং একটি মালা বানাতে শুরু করল। তার দিকে সে তাকাল না, কিন্তু তার গাল দুটো যা ইতোমধ্যে পরিশ্রমের চিহ্নগুলো হারিয়ে ফেলেছে আরো একবার গোলাপি হল।
ফারাও নেফার সেটির বয়স ১৪ বছর ৫ মাস। তোমার চেয়ে প্রায় এক বছরের বড়। সে আইবেক্স-এর চিহ্ন নিয়ে জন্মেছে যা তোমার বিড়াল চিহ্নের সাথে সুন্দর মিলে যায়। টাইটা তাকে পরিমাপ করল, আর সে তার দিকে অবাক হয়ে তাকাল। তুমি কিভাবে জানলে আমি তোমাকে কি জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছি? তারপর সে তার হাত তালি দিল। অবশ্যই তুমি জান। কেননা তুমি হচেছা ম্যাগোস।
ফারাও-এর পক্ষ থেকে তোমাকে আমি একটা সংবাদ দিতে এসেছি, টাইটা তাকে বলল।
সাথে সাথে তার পূর্ণ মনোযোগ তার উপর নিবদ্ধ হল। একটা সংবাদ? সে কি জানে আমি কে?
সে খুব ভালো করেই তা জানে। টাইটা শরবতে চুমুক দিল। আরো একটু মধু দরকার। সে কিছু মধূ বোলে ঢালল এবং নাড়ল।
আমাকে নিয়ে মজা করো না, ওয়ারলক। সে তার দিকে কটমট করে তাকাল। এখনি আমাকে আমার সংবাদটা দাও।
ফারাও তোমাকে ও তোমার সহচরদের কাল ভোরে ঝোঁপের মাঝে হাঁস শিকারে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তারপর লিটল ডোভ দ্বীপে সকালের নাস্তায়।
*
ভোরের আলোটা ছিল কামারশালার কয়লার ভেতর থেকে বের করে আনা দগ্ধ তলোয়ারের ফলার ন্যায় রাঙা। আর এর নিচে প্যাপিরাসের অগ্রভাগ শক্ত কালো নকশার ন্যায় সৃষ্টি করেছে। এই সময়ে, সূর্য ওঠার পূর্বে তাদের নিচু করার জন্য কোন বাতাসের প্রবাহ ছিল না কিংবা তাদের স্থবিরতা ভাঙার কোন শব্দ।
কটা ছোট উপহ্রদের বিপরীত পাড়ে দুটি শিকারী ছোট নৌকা নোঙ্গর করা ছিল, যা খোলা পানিতে ঘেরা জলজ উদ্ভিদে আটকে ছিল। ৫০ কিউবিটের কম দূরত্বে তারা ছিল। রাজ শিকারীরা প্যাপিরাসের লম্বা কান্ড বাঁকিয়ে শিকারীদের উপর ছাদ তৈরি করে দিয়েছে।
হ্রদের উপরিভাগ স্থির ও শান্ত ছিল। আকাশ মসৃণ ব্রোঞ্জের আয়নার মতো প্রতিফলন করছিল। আর তাই নেফারের জন্য অন্য নৌকায় থাকা মিনটাকার মাধুর্যপূর্ণ অবয়ব চেনাটা যথেষ্ট ছিল। তার কোলের উপর আড়াআড়িভাবে ধনুকটা রাখা এবং দেবী হাথোর মূর্তির ন্যায় সে স্থির হয়ে বসে আছে।
এই সকালে তাদের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতকে সে তার মনে দীর্ঘস্থায়ী করার চিন্তা করল। তখনো অন্ধকার ছিল, সকালের ক্ষীণ আভা তারাটার সৌন্দর্য পুরোপুরি মলিন করার মত ছিল না, যেগুলো ধরনীর উপর ঝুলে ছিল। প্রতিটি তারা এতো স্পষ্ট ও উজ্জ্বল ছিল যে মনে হল সে ধরতে পারবে এবং পাকা ডুমুরের মতো গাছ থেকে পেরে আনতে পারবে। মিনটাকা মন্দিরের পথ দিয়ে নেমে এল, মশাল বাহকেরা তার পথ আলোকিত করল এবং দাসীরা কাছ থেকে তাকে অনুসরণ করল। নদীর ঠাণ্ডা বাতাস থেকে রক্ষা পেতে সে একটা পশমি হুড মাথার উপর পরিধান করেছে। ফলে অন্ধকারে যে কোনদিকে তাকানোর সুবিধেটা সে পাচ্ছে।
ফারাও হাজার বছর বেঁচে থাকুক।
এই শব্দগুলোই সে তাকে প্রথম বলতে শুনল। যে কোন বাদ্যযন্ত্রের চেয়ে তার কণ্ঠস্বর মিষ্টি। এটা যেন ভূতুড়ে আঙুল তার ঘাড়ের পিছনে আঘাত করেছে। নিজের কণ্ঠস্বর তার খুঁজে পেতে কিছু সময় লাগল। হাথোর আপনাকে ভালোবাসুন। সে কিভাবে তাকে অভিবাদন জানাবে সে ব্যাপারে টাইটার সাথে আলোচনা করেছে এবং যতোক্ষণ না তা আয়ত্ত হয়েছিল ততোক্ষণ সে তা মহড়া দিয়েছে। যখন সে তার হুডের শূন্যে হাসল তার দাঁতের ঝলকানি সে দেখল তখন। সে আরো কিছু যোগ করার সাহস পেল যা টাইটা তাকে পরামর্শ দেয়নি। এটি তার কাছে উদ্দীপনার ঝলক হিসেবে এল। সে আকাশের উজ্জ্বল তারার দিকে নির্দেশ করল। দেখুন! ঐ যে আপনার নিজের তারা। সে শিকারী নক্ষত্রপুঞ্জ দেখার জন্য মাথা তুলল। তারার আলো তার চেহারায় পড়ল ফলে সে এখানে আসার পর এই প্রথম বারের জন্যে তার চেহারাটা দেখল। তীক্ষ্মভাবে সে তার দম ধরল। নিজের অভিব্যক্তিটা সে শান্ত রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার মনে হল এর চাইতে আকর্ষণীয় কোন কিছুই সে আর কোনদিন দেখেনি। প্রভু আপনার জন্য ওটা বিশেষভাবে ওখানে বসিয়েছেন। প্রশংসার বাক্য তার মুখে চলে এল।
সঙ্গে সঙ্গেই তার চেহারা আলোকিত হল এবং তাকে আরো বেশি সুন্দর দেখাল। ফারাও যেমন রমনী মোহন তেমনি সৌজন্যময়ী। সে ছোট একটু তিরস্কারমূলক অভিবাদন জানাল। তারপর সে অপেক্ষারত নৌকায় উঠল। যখন রাজ শিকারীরা বৈঠা বেয়ে তাকে ঝোঁপের ভিতরে নিয়ে গেল তখন পর্যন্ত সে পিছু ফিরে তাকাল না। এখন সে নিজে নিজেই তার কথাগুলো পুনরাবৃত্তি করল যেন ওগুলো কোন প্রার্থনাঃ ফারাও যেমন রমনী মোহন তেমনি সৌজন্যময়ী।
