অসাধারণ! সে হাততালি দিল এবং আনন্দে হাসল। রথটা দৌড়ে আরো দুবার তীর নিক্ষেপ করল। একটা তীর কপালের গভীরে ঢুকে গেল, পরেরটা ঢুকল লক্ষ্য বস্তুর মুখে। এটা কোন অভিজ্ঞ রথীর জন্যও চমৎকার শট, একটি বালিকার কথা তো বাদই।
টর্ক দূর দাগ বরাবর রথ ঘুরাল এবং ফিরে এল। ঘোড়াগুলোর কান পিছনে হেলে আছে ও কেশর উড়ছিল। মিনটাকা আবার শট করল, ডামির বড় নাকের ঠিক আগায় আরেকটি ক্ষত তৈরি হল।
হুরাসের নামে! টাইটা অবাক হয়ে বলল।
সে জ্বীনের ন্যায় শট করছে!
দ্রুতই শেষ লক্ষ্য এল এবং মিনটাকা চমৎকার ব্যালান্স করল, গাল ঝলকে উঠল এবং যখন সে মনোযোগে ঠোঁট কামড়াল তখন তার সাদা দাঁত ঝলক দিয়ে উঠল। সে তীরটা ছুঁড়ল এবং এক হাত দূর দিয়ে মাথাটা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হল।
টর্ক, কদাকার গেঁয়ো ভূত! যখন আমি তীরটা ছুঁড়ছিলাম তখন তুমি সরাসরি গর্তের দিকে রথ চালিয়েছে। সে চিৎকার করে বলল।
রথ থেকে সে লাফিয়ে নামল যদিও তখনও ওটা চলছিল এবং রাগত দৃষ্টিতে টর্কের দিকে তাকাল, তুমি আমাকে ম্যাগোসের চোখে বোকা বানাতে ওটা করেছে।
মহা মাননীয়া, আমি আমার অদক্ষতার জন্যে লজ্জিত। তার রাগী চেহারা দেখে টর্ক একটি ছোট বালকের ন্যায় হতভম্ব হয়ে গেল। টাইটা দেখল তার অনুভূতি তার তার জন্যে অতিশয় আকুল, যেমনটা টাইটা সন্দেহ করেছিল।
তোমাকে ক্ষমা করা হবে না। আমাকে আর চালনা করার সুযোগ তোমাকে দেবো না। কখনোই না।
টাইটা তাকে এরকম মেজাজে পূর্বে দেখেনি এবং যা একটু আগের তার তীর ছোঁড়ার প্রদর্শনীর সাথে মিলে, মিনটাকার সম্পর্কে তার ধারণা আরো উঁচু হল। যে কোন মানুষের জন্যে সে সত্যিই উপযুক্ত স্ত্রী, এমনকি ট্যামোস বংশদ্ভূত কোন ফারাও-এর জন্যেও। টাইটা সিদ্ধান্ত নিল, কিন্তু নিজের মধ্যে লঘুতার কোন চিহ্ন
দেখাতে সে সতর্ক ছিল। নইলে মিনটাকা নিজের ক্রোধটা তার দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। তার চিন্তার দরকার ছিল না, কারণ সে তার দিকে ঘুরল এবং তার মুখে আবার হাসি ফুটল।
পাঁচটার মধ্যে চারটা, যুদ্ধের ময়দানে একজন যোদ্ধার জন্যে যথেষ্ট, মহামাননীয়া, টাইটা তাকে আশ্বস্ত করল। এবং ওটা একটা বেইমান গর্ত ছিল যা তোমাকে আঘাত করেছে।
তোমার নিশ্চয়ই তৃষ্ণা পেয়েছে, টাইটা? আমি জানি, আমার পেয়েছে। সে সহজাতভাবে তার হাতটা টেনে নিল এবং যেখানে তার দাসীরা নদীর পাড়ে তার জন্য পশমের চট বিছিয়েছে সেখানে তাকে নিয়ে গেল এবং মিষ্টি মাংসের বড় পাত্র ও শরবতের জগ পরিবেশন করল।
তোমাকে আমার অনেক কিছু জিজ্ঞেস করার আছে, টাইটা। পাশে একটা ভেড়ার চামড়ার গালিচা বিছাতে বিছাতে সে তাকে বলল। বুবাসতি ছাড়ার পর তোমাকে আর আমি দেখি নি।
তোমার ভাই, খিয়ান কেমন আছে? সে তাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।
যেমন তার থাকার কথা তেমনই আছে, সে হাসল। যদিও আগের চেয়ে দুষ্টুমিটা বাড়েনি। আমার পিতা আদেশ দিয়েছেন যখনই সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে তখনই সে এখানে আমাদের সাথে যোগ দিবে। তিনি চান শান্তি চুক্তির সময় তার পুরো পরিবার তার সাথে থাকুক।
আরো কিছুক্ষণ তারা তুচ্ছ সব বিষয়ে কথা বলল, কিন্তু মিনটাকাকে অন্যমনস্ক মনে হল। এদিকে টাইটা মেয়েটির মনের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। হঠাৎ মিনটাকা টর্কের দিকে ঘুরে তাকে অবাক করল, যে তার পিছনে চাপা ও লজ্জিত ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল।
আপনি এখন আমাদের ত্যাগ করতে পারেন, আমার লর্ড, সে তাকে নম্রভাবে বলল।
আপনি কি আবার আমার সাথে আগামীকাল সকালে রথে চড়বেন, রাজকুমারী? টর্ক প্রায় অনুরোধের সুরে বলল।
কাল সম্ভবত আমি অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকবো।
তাহলে পরশু? এমনকি মনে হল তার গোঁফও করুণায় ঝুঁকে পড়ল। যাবার আগে আমার ধনুক ও তীরের খাপটা আমাকে দিয়ে যাবেন। সে তার প্রশ্ন এড়িয়ে তাকে আদেশ করল। টর্ক সেগুলো একজন ভৃত্যের ন্যায় তার নিকট বয়ে আনল এবং তার হাতের কাছে ওগুলো রাখল।
বিদায়, আমার লর্ড। সে টাইটার দিকে ঘুরল। টর্ক আরো কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে রইল। তারপর তার রথ নিয়ে চলে গেল।
যখন রথ চালিয়ে সে চলে গেল, টাইটা বিড়বিড় করে জিজ্ঞেস করল, কতদিন ধরে টর্ক তোমাকে ভালোবাসে?
তাকে অবাক দেখাল, তারপর মজা পেয়ে হাসতে লাগল। টর্ক আমাকে ভালোবাসে? ওটা হাস্যকর! গিজার পিরামিডের মতই টর্ক প্রবীণ, তার বয়স প্রায় ৩০ বছর এবং তার তিনজন পত্নী রয়েছে এবং একমাত্র হাথোরই জানে তার কত জন উপপত্নী আছে!
চমৎকারভাবে সাজানো খাপ থেকে টাইটা তার একটা তীর নিল এবং ওটা পরীক্ষা করল। পালকগুলো ছিল নীল ও হলুদ রঙের এবং সে অগ্রভাগে লাগানো ছোট অংকিত স্মারকটা স্পর্শ করল।
শিকারী নক্ষত্রপুঞ্জের তিনটি তারকা। সে নির্দেশ করল, তাদের মধ্যে মিনটাকা হচ্ছে সবচাইতে উজ্জ্বল।
নীল ও হলুদ আমার প্রিয় রং, সে সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল। আমার সব তীর আমার জন্যে গ্রিপ্পা বানিয়েছে। সে অ্যাভারিসের সবচাইতে ভালো তীর প্রস্তুত কারক। প্রতিটি তীর যা সে বানায় তা পুরোপুরি সোজা ও সুষম গতিতে উড়ে। তার সজ্জা ও স্মারকগুলো এক শিল্প। দেখো সে কিভাবে খোদাই করেছে ও আমার তারা এঁকেছে। টাইটা তার আঙুলের মধ্যে তীরটা ঘুরাল এবং খাপের মধ্যে ওটা ফিরিয়ে দেয়ার পূর্বে তীরটার প্রশংসা করল।
