সাথে সাথে নেফার তাদের দিকে ক্রোধ সহকারে ঘুরল। আমি আরো একবার তোমাদের চলে যেতে আদেশ করেছি। যদি তোমরা এখনই না যাও তবে আমি তোমাদের দুজনকে মৃত্যুদন্ড দেবো।
তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা সরে গেল তবে বেশি দূরে গেল না। টাইটা এখনো তাদের বিড়বিড় ও অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনতে পাচ্ছে। তারা পর্দার ওপাশে বারান্দায় অপেক্ষা করছে। সে জানালার দিকে মাথা দিয়ে ইশারা করল এবং ফিস্ ফিস্ করে বলল, জেটিতে আমার একটি ছোট নৌকা আছে। আপনি কি মাছ ধরতে যাবেন? তার উত্তরের অপেক্ষা না করে টাইটা তার স্কার্ট টান দিয়ে উপরে তুলল এবং জানালার ঝুলে লাফিয়ে উঠল। কাঁধের উপর দিয়ে সে একবার পিছন তাকাল। নিমিষে নেফার তার রাগ ভুলে গেল এবং আনন্দে দাঁত বের করে হাসতে লাগল। সে তার সাথে যোগ দিতে কক্ষের ভেতর দিয়ে দৌড়ে গেল। টাইটা বাইরের ছাদে লাফিয়ে নামল এবং নেফার চুপচাপ তাকে অনুসরণ করল। স্কুল পালানো ছেলে মেয়েদের মতো তারা মাথা নিচু করে চুপিচুপি ছাদ পার হল এবং খেজুর গাছের নিচ দিয়ে নদীর দিকে চলল। জেটিতে রক্ষীরা রয়েছে কিন্তু তরুণ ফারাওকে বাঁধা দেয়ার কোন নির্দেশ তাদের নেই। তারা কুর্ণিশ করে সম্মানার্থে একপাশে সরে দাঁড়াল। নেফার ও টাইটা প্রায় হামাগুঁড়ি দিয়ে মাছ ধরার নৌকায় গিয়ে উঠল। প্রত্যেকে একটা করে বৈঠা নিল ও ঠেলা দিয়ে নৌকা ভাসাল। আন্দোলিত হওয়া প্যাপিরাসের মধ্য দিয়ে সরু একটা পথ ধরে টাইটা নৌকা চালাল এবং মিনিটের মধ্যে তারা জলার পানিতে একা হয়ে গেল। তীর থেকে দূরে গোপন জল পথের ধাঁধার মধ্যে তারা হারিয়ে গেল। তুমি কোথায় ছিলে, টাইটা? নেফারের রাজকীয় ভাবটা এখন আর নেই। আমি তোমাকে অনেক খুঁজেছি?
আমি তোমাকে সব খুলে বলব, টাইটা তাকে আশ্বস্ত করল। কিন্তু তার আগে তুমি আমাকে সব বল তোমার সাথে যা কিছু হয়েছে, সব।
নোঙ্গর করার জন্যে তারা সরু প্যাপিরাস ঘেরাহ্রদের একটা নির্জন স্থানে এসে থামল এবং নেফার তাকে সবকিছু খুলে বলল তার সাথে যা কিছু ঘটেছে, শেষবার যখন তারা একাকী কথা বলেছিল তার পর থেকে সব। সে নাজার আদেশে সোনার খাঁচায় বন্দী, তার কোন পুরনো বন্ধু তার সাথে সাক্ষাৎ করতে সামর্থ নয়। এমনকি ম্যারন কিংবা তার নিজের বোনদের সাথেও নয়। তার একমাত্র বিনোদন ছিল প্রাসাদের লাইব্রেরি থেকে প্যাপিরাসের স্ক্রৌল পড়া, পুরানো যোদ্ধা হিলটোর কাছে রথ চালানো ও অস্ত্র বিদ্যে শেখা। এমনকি নাজা একাকী আসমরকে ছাড়া আমাকে বাজ শিকার করতে কিংবা মাছ ধরতে যেতে দিত না। নেফার তিক্ত কণ্ঠে অভিযোগ করল।
সে জানতই না যে টাইটা মন্দিরে স্বাগত অনুষ্ঠানে থাকবে যতোক্ষণ না সে তাকে সেখানে দেখেছিল। সে জানত সে গেবেল নাগারে। আর এখন প্রথম সুযোগেই যখন নাজা ও আসমর; অ্যাপেপি, টক ও অন্যান্য হিস্ যোদ্ধাদের সাথে গোপন শান্তি চুক্তিতে ব্যস্ত, সে তার রক্ষীদের সাথে রাগ দেখিয়ে যে কোয়ার্টারে সে বন্দী ছিল সেখান থেকে টাইটার সাথে দেখা করতে চলে এসেছে।
তোমাকে ছাড়া জীবনে কোন মজা নেই, টাইটা। আমার মনে হয় আমি এক ঘেয়েমিতে হয়তো মারাই যাব। নাজা অবশ্যই আমাদের আবার একত্রিত হতে দেবে। তোমার উচিত তার উপর একটা যাদু করা।
এটা আমরা খুব অল্পই বিবেচনা করতে পারি, টাইটা দক্ষভাবে পরামর্শটা এড়িয়ে গেল। কিন্তু এখন আমাদের হাতে সময় খুব অল্প। যখন সে দেখবে আমরা মন্দিরে নেই তখন নাজা আমাদের খুঁজতে সমস্ত আর্মি পাঠিয়ে দেবে। আমাদের নিজেদের কথাগুলো আগে শেষ করা দরকার। দ্রুত ও অল্প কথায় সে নেফারকে তাদের শেষ সাক্ষাতের পর তার সাথে যা হয়েছে সব বলল। সে তাকে নাজা ও টর্কের সম্পর্কের কথা বলল এবং সে কিভাবে ফারাও ট্যামোসের মৃত্যু দৃশ্য দেখেছে এবং সেখানে সে যা খুঁজে পেয়েছে তা তাকে বর্ণনা করল। নেফার বাধা না দিয়ে শুনল কিন্তু যখনই টাইটা তার পিতার মৃত্যুর কথা বলল তখন তার চোখ জলে ভরে গেল। সে অন্য দিকে তাকিয়ে কাশল ও হাতের উল্টোদিক দিয়ে চোখ মুছল।
তুমি কি পরিমাণ বিপদে রয়েছে আশা করি এখন তা বুঝতে পেরেছে। টাইটা তাকে বলল। আমি নিশ্চিত যে ফারাও ট্যামোসের হত্যার সাথে নাজার নিশ্চয়ই কিছু যোগসূত্র রয়েছে এ আমরা যতোই এই প্রমাণের দিকে এগোচ্ছি ততোই ঐ বিপদটা বাড়ছে।
একদিন আমি আমার পিতার হত্যার বদলা নেবো, নেফার প্রতিজ্ঞা করল এবং তার কণ্ঠ দৃঢ় ও কঠিন।
এবং আমি তোমাকে তা করতে সাহায্য করব। টাইটা ওয়াদা করল। কিন্তু এখন নাজার ষড়যন্ত্র থেকে তোমাকে আমার রক্ষা করতে হবে।
কি ভাবে তুমি তা করবে বলে পরিকল্পনা করেছে, টাইটা? আমরা কি মিশর থেকে পালিয়ে যাবো, যেমনটা আগে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম?
না, টাইটা মাথা নাড়ল। সাধারণ অবস্থায় আমি তা ভেবেছিলাম, কিন্তু এখানে নাজা আমাদের অনেক সাবধানে রেখেছে। যদি আবার সীমানা থেকে পালানোর চেষ্টা করি, তবে হাজারটা রথ আমাদের পিছু করবে।
তাহলে আমরা কি করতে পারি? তুমিও তো বিপদে রয়েছ।
না, আমি নাজাকে বুঝিয়েছি আমার সাহায্য ছাড়া সে সফল হতে পারবে না। সে অশিরিশের মন্দিরের অভিনয়ের কথা ব্যাখ্যা করল এবং জানালো কিভাবে নাজাকে বিশ্বাস করিয়েছে যে সে তার সাথে অনন্ত জীবন ভাগ করে নেবে।
