নেফার ম্যাগোসের চতুরতায় দাঁত বের করে হেসে উঠল, তাহলে তোমার পরিকল্পনা কি?
আমাদের সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পালিয়ে যাওয়া অথবা নাজার দুনিয়া থেকে দূরে যাবো আমরা। এই সময়ে আমার সাধ্য অনুযায়ী তোমাকে আমি রক্ষা করবো।
কি ভাবে তুমি তা করবে?
এই শান্তি চুক্তির আয়োজন করতে নাজা আমাকে অ্যাপেপির কাছে পাঠিয়েছিল।
হ্যাঁ, আমি জানি তুমি অ্যাভারিস গিয়েছিলে। যখন আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম তারা আমাকে তা বলেছে।
অ্যাভারিসে নয়, বুবাসতিতে; অ্যাপেপির যুদ্ধের প্রধান হেড কোয়ার্টারে। যখন অ্যাপেপি নাজার সাথে দেখা করতে রাজি হয়েছে আমি তাকে বুঝিয়েছি যে তাদের চুক্তিটা তোমার ও অ্যাপেপির কন্যার বিয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে। একবার যখন তুমি হিকস্দের রাজার নিরাপত্তায় চলে আসবে তখন নাজার ছুরি ভোঁতা হয়ে যাবে। সে চুক্তি বাতিল করে আবার এই ভূমিতে যুদ্ধে জড়িয়ে পরার রিস্ক নেবে না।
অ্যাপেপি তার মেয়েকে আমার স্ত্রী হিসেবে দিতে যাচ্ছে? নেফার অবাক হয়ে তার দিকে চেয়ে রইল। যাকে আমি সকালের অনুষ্ঠানে লাল কাপড়ে দেখেছি, সে? .
হ্যাঁ, টাইটা বলল। মিনটাকা তার নাম।
আমি তার নাম জানি, নেফার জোরালোভাবে তাকে নিশ্চিত করল। শিকারী নক্ষত্রপুঞ্জের ক্ষুদ্র তারার নামে তার নাম দেওয়া হয়েছে।
হ্যাঁ, ওটা তার, টাইটা সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল। মিনটাকা, বড় নাক ও হাস্যকর মুখের কুৎসিত এক মেয়ে।
সে কুৎসিত নয়! নেফার রেগে উঠল। সে এমনভাবে লাফিয়ে উঠল যা ছোট নৌকাটা প্রায় উল্টে দিচ্ছিল এবং তাদের হ্রদের ময়লা কাদার মধ্যে ফেলে দিচ্ছিল।
সে সবচাইতে সুন্দর… যখন সে টাইটার চেহারা ও অভিব্যক্তি দেখল, সে দমে গেল, আমি বলতে চাচ্ছি যে সে দেখতে সুন্দর। সে অনুতাপে দাঁত বের করে হাসল। তুমি সবসময় আমাকে ধরে ফেল। কিন্তু তোমাকে অবশ্যই আমার কাছে স্বীকার করতে হবে যে সে সুন্দর, টাইটা।
অবশ্য যদি তুমি বড় নাক ও হাস্যকর মুখ পছন্দ কর।
নেফার পিপে থেকে একটা মরা মাছ তুলে নিল ও টাইটার দিকে ছুঁড়ে মারল। নিজেকে রক্ষা করতে টাইটা মাথা সরিয়ে নিল।
আমি কখন তার সাথে কথা বলতে পারব? সে জিজ্ঞেস করল, এমন ভাবে বলল যেন এটার কোন গুরুত্ব তার কাছে নেই। সে মিশরীয় ভাষা বলতে পারে, তাই না?
তুমি যেভাবে বলতে পারো সে সেভাবেই পারে। টাইটা তাকে নিশ্চয়তা দিল। তাহলে আমি কখন তার সাথে দেখা করবো? তুমি আমার জন্যে এটা করতে পার। টাইটা আগেই তা বুঝেছিল। তুমি রাজকন্যা ও তার বান্ধবীদের এখানে জলাশয়ে শিকারে এবং সম্ভবত একটা পিকনিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারো।
আমি আজ বিকেলেই আসমরকে তাকে আমন্ত্রণ জানাতে পাঠাবো। নেফার সিদ্ধান্ত নিল, কিন্তু টাইটা মাথা বাঁকালো।
সে রাজ-প্রতিভূর কাছে প্রথমে যেতে পারে এবং নাজা সাথে সাথেই বিপদটা দেখতে পাবে। সে কখনই এটা হতে দেবে না। একবার যখন সে এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে যাবে তখন তোমাদের দুজনকে একত্রিত হওয়া থেকে রুখতে সে তার ক্ষমতায় যা আছে তার সব করবে।
তাহলে আমরা কি করতে পারি? নেফারকে বিক্ষুব্ধ দেখাল। আমি নিজেই তার কাছে যাবো। টাইটা ওয়াদা করল এবং সেই সময়ে প্যাপিরাসের ভেজা ঝোঁপের বিভিন্ন দিক থেকে তাদের চারপাশ থেকে ক্ষীণ চিৎকার ও দাঁড়ের আওয়াজ ভেসে এল। তুমি যে মন্দিরে নেই আসমর তা খুঁজে পেয়েছে এবং তোমাকে আনতে তার নেকড়েগুলোকে পাঠিয়েছে, টাইটা বলল।
এটা প্রমাণ করে তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া কত কঠিন। এখন মনোযোগ দিয়ে শোন, কারণ আবার আলাদা হয়ে যাওয়ার পূর্বে আমাদের খুব কম সময় হাতে আছে।
তারা দ্রুত কিছু কথা বলল। যে কোন জরুরি প্রয়োজনে খবর আদান-প্রদানের ও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করল। কিন্তু সব সময়ই চিৎকার ও বৈঠার আওয়াজ আরো জোরালো হচ্ছিল, কাছে আসছিল। মিনিটের মধ্যে অস্ত্রে সজ্জিত একটি ছোট যুদ্ধ বাহিনী প্যাপিরাসের ঝোঁপ ভেঙ্গে দ্রুত উদয় হল, বিশ জন লোক বৈঠা বেয়ে এগিয়ে এল। কমান্ড থেকে একটা চিৎকার এল, ঐ যে ফারাও। ছোট নৌকাটার দিকে দাঁড় টান!
৩. প্যাপিরাসের ঝোঁপ
প্যাপিরাসের ঝোঁপের নিকটবর্তী নদীর পাললিক ভূমিতে হিকা একটা অনুশীলন ক্যাম্প তৈরি করেছে। টাইটা মন্দির থেকে যখন নেমে এল তখন মেঘহীন আকাশের শূন্যে অ্যাপেপির দুই ব্যাটেলিয়ান সৈন্য অস্ত্র নিয়ে অনুশীলন করছিল, আর সকালের সূর্য অকৃপণ আলো বিলোচ্ছিল। পুরোপুরি অস্ত্রে সজ্জিত ২০০ লোক ঝোঁপের মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে দৌড়াচ্ছিল, আর অপরদিকে কাঁদার মধ্য কোমর পর্যন্ত ডুবিয়ে রথ বাহিনী জটিল কৌশল রপ্ত করছিল। চারটি সারি সম্মুখে একটি কলাম তৈরি করে পাশাপাশি থেকে পাখির পাখার মত খুলে ছড়িয়ে পড়ছে। চলন্ত চাকাগুলোর পিছনে ধুলো উড়ছে, বর্শার অগ্রভাগ সূর্যালোক প্রতিফলিত করছে এবং নানা রঙের পতাকা বাতাসে উড়ছিল।
টাইটা যখন দেখার জন্য পিপার কাছে এক মুহূর্ত থামল যখন পঞ্চাশ জনের একটা ধনুকধারী দল ১০০ কিউবিট দূরে লক্ষ্য স্থির করছে, প্রত্যেকে পাঁচটা করে দ্রুত তীর ছুঁড়ল। তারপর তারা খড় দিয়ে মানুষের মত তৈরি লক্ষ্য বস্তুর দিকে দৌড়ে গেল। পুনরায় তীর সংযোগ করল এবং ২০০ কিউবিট দূরের লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশ্য আবার তীর ছুঁড়ল। কেউ তীর ছোঁড়ার সময় পিছিয়ে পড়লে অথবা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তবে তার উপর নির্দেশকের কস্তনী খুব ভারি হয়ে পড়ছিল। চামড়ার চাবুকের অগ্রভাগে বসানো ব্রোঞ্জের গজাল তাজা রক্তের দাগ রেখে যেত যখন লিনেনের জামার উপর তা দিয়ে আঘাত করা হতো।
