আমি মিনটাকা। ও আমার ভাই। রক্ষণাত্মকভাবে সে তার হাতটা বালকটির ঘামে ভেজা কোঁকড়ানো চুলের উপর রাখল এবং একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তার চিবুক তুলে ধরল। তুমি তোমার সবচাইতে ভয়ংকর শক্তি যদিও প্রয়োগ কর ম্যাগোস তবুও আমি তাকে ছেড়ে যাব না। তার ঠোঁট কাপল ও কালো চোখ দুটি বড় হল। তার সামনে থাকা সর্প লাঠি যা টাইটা তার দিকে নির্দেশ করে আছে তা দেখে স্পষ্টত: সে ভীত হয়ে আছে। আমি তোমাকে ভয় পাই না, সে তাকে বলল।
বেশ, টাইটা দ্রুত বলল। তাহলে তোমাকেই আমার বেশি কাজে লাগবে। কখন ছেলেটি শেষ বার পান করেছে?
মনে করতে তার সময় লাগল। আজ সকাল থেকে সে কিছুই মুখে তুলেনি।
ঐ হাতুড়েগুলো কি দেখেনি যে সে যেভাবে রোগে মারা যাচ্ছে একই ভাবে তৃষ্ণায়ও মারা যাচ্ছে। সে ঘামছে এবং বেশির ভাগ জল তার দেহ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। টাইটা বিরক্তি প্রকাশ করল এবং বিছানার পাশে রাখা কপারের জগটা উঠিয়ে তার ভেতর শুঁকে দেখাল।
যাজকদের বিষ ও প্লেগের তরলে এটা নষ্ট হয়ে গেছে। সে দেয়ালের উপর তা সজোরে নিক্ষেপ করল। রান্না ঘরে যাও এবং অন্য একটি জগ আনো। নিশ্চিত হয়ো যেন এটা পরিষ্কার থাকে। কূপ থেকে ওটা ভরবে, নদীর পানি দেবে না। দ্রুত কর, বালিকা। সে দৌড়ে ছুটে গেল আর টাইটা তার ব্যাগ খুলল। এক জগ পরিষ্কার পানি নিয়ে মিনটাকা প্রায় সাথে সাথে ফিরে এল। টাইটা শুলের একটা ওষুধ তৈরি করে লোহার পাত্রে তা গরম করল।
তাকে এটা পান করাতে আমাকে সাহায্য কর, দাওয়াইটা প্রস্তুত হতেই সে মেয়েটিকে আদেশ করল। সে তাকে দেখাল কিভাবে তার ভাই-এর মাথা ধরে রাখতে হবে এবং কিভাবে তার গলা দাবাতে হবে যখন সে পানিটা মুখে ঢালবে। শীঘ্রই খিয়ান একাই গিলতে শুরু করল।
আমি আপনার সাহায্যে কি করতে পারি? রাজা জিজ্ঞেস করল।
আমার লর্ড, এখানে আপনার কোন কাজ নেই। আপনি ক্ষতিপূরণের চাইতে ধবংস করতেই দক্ষ। রোগীর দিক থেকে দৃষ্টি না সরিয়ে এবং তার পানে না। তাকিয়ে টাইটা তাকে খারিজ করে দিল। একটা দীর্ঘ নীরবতা কক্ষটিতে নেমে এল, একসময় অ্যাপেপির ব্রোঞ্জের স্যান্ডেলের আওয়াজ তুলে কক্ষ ত্যাগ করল।
মিনটাকা শীঘ্রই ম্যাগোসের প্রতি তার ভয়টা জয় করল এবং সাহায্যকারী রূপে দ্রুত ও আন্তরিক হিসেবে নিজেকে সে প্রমাণ করল। টাইটার ইচ্ছাগুলো যেন সে আগেই বোঝার সামর্থপূর্ণ। সে তার ভাইকে জোর করে পান করাল যখন টাইটা তার ব্যাগ খুলে কড়াই-এ অন্য আরেকটি ওষুধ তৈরি করছিল। এক ফোঁটাও নষ্ট না করে তার গলায় দিয়ে পুরো দাওয়াই নামিয়ে আনতে সে সফল হল। ভাইয়ের বুকের পোড়া ক্ষত স্থানগুলোতে সে আঠালো আরামদায়ক মালিশ লাগাতে সাহায্য করল। তারপর তারা দুজনে খিয়ানকে লিনেন কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল এবং কূপের পানি দিয়ে ভালোভাবে ভিজিয়ে দিয়ে তার জ্বলন্ত দেহকে ঠাণ্ডা করতে লাগল।
যখন মিনটাকা একটু বিশ্রাম নিতে তার পাশে বসতে এল তখন এক মুহূর্তের জন্য টাইটা তার হাতটা নিয়ে তালু উপুর করে ধরল। সে তার কব্জির লাল ফোস্কগুলো পরীক্ষা করল। কিন্তু মিনটাকা হাত ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করল।
এগুলো প্লেগের দাগ নয়, সে লজ্জায় ভেঙ্গে পড়ল। এগুলো শুধু মাছির কামড়। এই প্রাসাদ মাছিতে ভরা।
যেখানে মাছি কামড়ায় সেখানেই প্লেগ হয়, টাইটা তাকে বলল। তোমার কামিজ খোল।
কোন সংকোচ ছাড়াই মিনটাকা উঠে দাঁড়াল এবং তার গোড়ালি পর্যন্ত তা খুলেল ফেলল। তার নগ্ন দেহ, যদিও স্লিম ও আবেদনময়ী তা সুষম ও সুঠাম বৈশিষ্ট্যের।
একটা মাছি তার বিবর্ণ পেট থেকে লাফিয়ে চলে গেল। ক্ষিপ্র গতিতে টাইটা ওটাকে বাতাসে ধরল এবং তার নখের মাঝে নিয়ে পিষে ফেলল। পোকাটা তার স্বচ্ছ পেটের শূন্যের দিকে গোলাপি দাগ রেখে গিয়েছে।
ঘুরে দাঁড়াও, সে আদেশ করল এবং তা সে মানল। অন্য আরো একটি ঘৃণ্য পোকা তার পিঠ বেয়ে শক্ত গোল নিতম্বের ভাজের দিকে নেমে গেল। টাইটা তার আঙ্গুল দিয়ে ওটা চিমটি দিয়ে তুলল এবং এটার কালো চকচকে শক্ত খোলসটাকে পিষে দিল। ফলাফলে এটা ফোঁটা রক্ত দেখা গেল।
যদি তুমি তোমার এই সব ক্ষুদ্র পোষ্য থেকে মুক্ত না হও, তবে তুমি হবে পরবর্তী শিকার। সে তাকে বলল এবং রান্না ঘর থেকে এক বোল পানি আনতে পাঠাল। কাঁসার হাঁড়িতে সে পাইরেগ্রাম গাছের শুকনো লাল রঙের ফুল সিদ্ধ করল এবং তা দিয়ে সে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত ধুয়ে দিল। সে আরো চার পাঁচটা মাছি মারল যেগুলো তার ভেজা চামড়া থেকে লাফ দিয়ে কড়া জলধারা থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল।
তারপর যখন তার নগ্ন দেহ শুকিয়ে এলো মিনটাকা তার পাশে এসে বসল এবং অচেতনভাবে কথা বলতে লাগল। তারা একসাথে তার কাপড়ের শেষ মাছি ও তাদের ডিমগুলো কাপড়ের ভাজ ও সেলাই করা স্থান থেকে সরাল। শীঘ্রই তারা ভালো বন্ধু হয়ে গেল।
রাত নামার আগেই খিয়ান-এর অন্ত্র আরেকবার খালি হল। কিন্তু এবার তা ছিল পরিমাণে অল্প এবং মলের মধ্যে কোন রক্ত ছিল না। টাইটা মল খুঁকে দেখল। তাতে প্লেগের রসের দুর্গন্ধের পরিমাণ কমেছে। সে তার শক্তিশালী গুল্মের ওষুধ তৈরি করল এবং খিয়ানকে আরো এক জগ ভালো পানি তারা পান করাল। অবশেষে সে প্রসাব করল যা টাইটার কথা মতো শুভ লক্ষণ যদিও তার পানিটা ছিল অল্প, গাঢ় হলুদ ও এসিড সম্বলিত। এক ঘণ্টা পর সে আবার জল ত্যাগ করল, আগের চেয়ে হালকা রঙের এবং এবার ততোটা দুর্গন্ধ নেই।
