দেখুন আমার লর্ড, মিনটাকা চিৎকার করে উঠল, তার ভাইয়ের গালে হাত বুলিয়ে বলল, লাল ক্ষতগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং তার শরীর শীতল হচ্ছে।
স্বর্গের পরীর ন্যায় তোমার আছে উপশম করার স্পর্শ, টাইটা তাকে বলল, কিন্তু পানির জগের কথা ভুললে চলবে না। ওটা খালি।
সে দৌড়ে রান্না ঘরের গেল এবং এক জগ পানি নিয়ে প্রায় তৎক্ষণাৎ ফিরে এল। যখন সে ওটা তাকে দিল তখন হিকদের ভাষায় সে একটা ঘুমপাড়ানি গান ধরল এবং টাইটা তার কণ্ঠের মিষ্টতা ও পরিচ্ছন্নতায় মুগ্ধ হল।
ঘাসের মাঝে বাতাসের শব্দ শোনো, ছোট প্রিয়।
ঘুমাও, ঘুমাও, ঘুমাও।
শোনো নদীর আওয়াজ,
আমার ছোট্ট শিশু;
স্বপ্ন দেখ, স্বপ্ন দেখ, স্বপ্ন দেখ।
টাইটা তার চেহারা অবলোকন করল। হিকদের মত যা একটু চওড়া এবং তার গালের হাড়গুলো বোঝা যায়। তার মুখ বড়, ঠোঁট পূর্ণ ও নাকটা শক্ত। কোনটাই একেবারে নিখুঁত নয় কিন্তু প্রত্যেকটি সুন্দরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অন্যগুলোর সাথে মানানসই এবং তার গাল লম্বা ও মাধুর্যপূর্ণ। ঐতিহ্যগত কালো জ্বর নিচে কাঠ বাদাম আকৃতির চোখগুলো প্রকৃতই চমৎকার। তার অভিব্যক্তি প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল। অন্যরকম এক সৌন্দর্য, সে ভাবল কিন্তু সৌন্দর্যই শেষ নয়। দেখ!, সে গান থামাল ও হাসল। সে জেগেছে।
খিয়ানের চোখ খোলা এবং বোনের দিকে সে তাকিয়ে আছে।
তুমি আমাদের মাঝে ফিরে এসেছো, দুষ্ট বাদর। যখন সে হাসল তার দাঁতগুলো সমান ও প্রদীপের আলোতে সাদা দেখাল। আমরা খুব চিন্তায় ছিলাম। তুমি আর তা কখনই করবে না। সে খুশির ও স্বস্তির কান্না লুকাতে তাকে জড়িয়ে ধরল যা হঠাৎ করে তার চোখে চলে এসেছিল।
টাইটা বিছানার ছাড়িয়ে ওপাশে তাকাল এবং দেখল অ্যাপেপির বিশাল দেহটা দরজায় দাঁড়িয়ে। টাইটা জানেনা কতক্ষণ ধরে সে ওখানে। কিন্তু এখন সে টাইটার উদ্দেশ্যে না হেসে মাথা নাড়ল; তারপর ঘুরল ও দৃষ্টির বাইরে চলে গেল।
ঐদিন বিকাল পর্যন্ত খিয়ান তার বোনের সাহায্যে উঠে বসতে সমর্থ হল এবং স্যুপ খেল যা সে তার মুখে তুলে দিল। দুদিন পর তার চামড়ার লাল লাল দাগগুলো চলে গেল। দিনে তিন-চারবার অ্যাপেপি ঘরটিতে আসত। খিয়ান তখনো উঠতে পারত না। কিন্তু যখনই তার পিতা আসত সে তার হৃদপিন্ড ও তার ঠোঁট স্পর্শ করে তাকে সম্মান জানাত।
পঞ্চম দিনে সে দুলকি পায়ে বিছানা থেকে নামল ও রাজার সামনে হাজির হওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু অ্যাপেপি তাকে ধরে পুনরায় বালিশে শুইয়ে দিল। যদিও বালকটির প্রতি তার স্নেহ পরিষ্কার তবুও সে অল্প কথা বলল ও প্রায় তৎক্ষণাৎ চলে গেল। কিন্তু দরজায় গিয়ে সে টাইটার দিকে পিছু ফিরল এবং কাঠখোটাভাবে মাথা নাড়িয়ে তাকে অনুসরণ করতে নির্দেশ দিল।
*
তারা প্রাসাদের সবচাইতে উঁচু চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। এই উচ্চতায় উঠতে তাদের দুশ সিঁড়ি বাইতে হয়েছে এবং এখান থেকে দখলকৃত আবনাব দূর্গস্থ নদীর উপর দিকটা দেখা যায় যা ঝর্ণা থেকে দশ মাইল দূরে। আর থেব ওখান থেকে দশ মাইলেরও কম।
অ্যাপেপি রক্ষীকে নিচে যাবার আদেশ দিল এবং এই স্থানে তাদের একা রেখে ত্যাগ করতে বলল যাতে তাদের কথা কেউ আড়ি পেতে না শোনে। তারা দক্ষিণের বৃহৎ ধূসর নদীর দিকে মুখ করে দাঁড়ালো। সে পুরো যুদ্ধের পোশাকে সজ্জিত, তার হাঁটুর নিচের অংশে ও বুকে চামড়ার বর্ম পড়া, তলোয়ারের বেল্টের আংটার সাথে স্বর্ণের ব্যাজ ঝোলানো এবং তার দাঁড়ি লাল রঙের ফিতা দ্বারা সজ্জিত যা তার আনুষ্ঠানিক পোষাকের সাথে মানানসই। অসামঞ্জস্যভাবে সে স্বর্ণের ইউরিয়াস, শকুন ও কোবরার মুকুটটা তার রুপালি কুঁকড়ানো চুলের উপর পড়েছে। এটা টাইটাকে ক্রোধান্বিত করল। এই দখলবাজ এবং লুণ্ঠনকারী নিজেকে সমস্ত মিশরের ফারাও ভাবে এবং পবিত্র রাজমুকুট পড়েছে। কিন্তু তার অভিব্যক্তি শান্ত রইল। পরিবর্তে সে তার মনকে অ্যাপেপির ভাবনাসমূহ ধরতে স্থির করল। তা ছিল জট পাকানো জালের ন্যায়। এতো গভীর ও সর্পিল যে টাইটা পর্যন্ত পরিস্কারভাবে তা উপলব্ধি করতে পারল না কিন্তু সে ওগুলোর মধ্যে একটা শক্তি অনুভব করল যা অ্যাপেপিকে এ রকম ভয়ানক শত্রু বানিয়েছে।
কমপক্ষে তারা আপনার সম্পর্কে যা বলেছে তার কিছুটা সত্য, ম্যাগোস, অ্যাপেপি দীর্ঘ নীরবতা ভাঙ্গল। আপনি একজন বড় মাপের চিকিত্সক। টাইটা চুপ রইল।
আপনি কি কোন যাদু বলে আমার আর্মিদের প্লেগ ভালো করে দিতে পারেন যেভাবে আমার ছেলেকে করলেন? অ্যাপেপি জিজ্ঞেস করল। আমি আপনাকে এক লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা দেব। এতে স্বর্ণ যা বহন করতে দশটি শক্তিশালী ঘোড়া লাগবে।
টাইটা মলিন হাসি দিল। আমার লর্ড, যদি আমি এরকম কোন যাদু জানতাম তাহলে তো আপনার বদমাশগুলোকে সুস্থ করার কষ্ট না করে শূন্য থেকেই এক লাখ স্বর্ণমুদ্রা যাদু দিয়ে বানিয়ে নিতাম।
অ্যাপেপি তার মাথা ঘুরাল ও হাসিটা ফিরিয়ে দিল। কিন্তু তার মধ্যে কোন রস বা সদিচ্ছা ছিল না। আপনার বয়স কত, ওয়ারলক? টর্ক জিজ্ঞেস করল, আপনার বয়স নাকি ২০০ বছরেরও বেশি, এটা কি সত্য?
টাইটা তার কথা না শোনার একটা ভাব করল। অ্যাপেপি বলে গেল, আপনি কত চান, ওয়ারলক? যদি স্বর্ণ না চান তবে আমি আপনাকে কি দিতে পারি? সে প্রশ্নটার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করল না, কিন্তু ভবনের উত্তর প্রান্তের পাঁচিলের দিকে শব্দ করে হেঁটে গেলেন এবং পিছনে হাত মুঠি করে দাঁড়ালো। নিচে তার আর্মি ক্যাম্পের দিকে সে তাকাল এবং পোড়ানো জায়গা অতিক্রম করে। এখানে আগুন জ্বলছে এবং ধোঁয়া নিচু হয়ে নদীর সবুজ পানি পেরিয়ে ভেসে মরুভূমির দিকে চলে যাচ্ছে।
