নীরবে তারা পাতাল মন্দিরে ফিরল। টাইটা গিল ও বডি গার্ডদের সার্জেন্টকে ডাকল। তোমরা তোমাদের কাজ ঠিকমতই করেছ। সে তাদের বলল। আর এখন তোমরা গোপনে থেব ফিরে যাবে যেমন করে গোপনে এসেছ।
আপনি আমাদের সাথে ফিরবেন না? গিল চিন্তিত ভাবে প্রশ্ন করল। সে প্রকৃতই বৃদ্ধ লোকটির প্রতি দায়িত্ব বোধ করল।
না। টাইটা মাথা নাড়ল। আমি এখানে থাকব। যখন তোমরা রাজ-প্রতিভূকে রিপোর্ট করবে তখন তাকে বলবে আমি অ্যাপেপির সাথে দেখা করতে চলেছি।
তেলের বাতির মৃদু আলোতে ঘোড়াগুলোকে রথের সাথে বাঁধা হল এবং অল্প সময়ের মধ্যে তারা রওনার জন্যে প্রস্তুত হল। গিল টাইটার স্যাডেল ব্যাগ রথ থেকে এনে তাকে দিল। তারপর সে সম্মান জানিয়ে তাকে কুর্নিশ করল,
আপনার সাথে ভ্রমণ করা অনেক সম্মানের, আমার লর্ড। যখন আমি বাচ্চা ছিলাম তখন আমার পিতা আপনার অভিযানের অনেক গল্প আমাকে শুনিয়েছেন।
সে আপনার রেজিমেন্টের অ্যাসিউট-এ ছিল। তিনি বাম প্রান্তের ক্যাপ্টেন ছিল।
তার নাম কি? টাইটা প্রশ্ন করল।
লাসরো, আমার লর্ড।
হ্যাঁ, টাইটা মাথা নাড়ল। আমার তাকে ভালোভাবেই মনে আছে। যুদ্ধে সে তার বা চোখ হারিয়েছিল।
গিল বিস্ময়ে ও শ্রদ্ধায় তার দিকে তাকিয়ে রইল। তা প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা এবং এখনও আপনার তা মনে আছে!
সাঁইত্রিশ, টাইটা তাকে সংশোধন করে দিল। ভালোভাবে যাও, যুবক গিল। আমি গতরাতে তোমার ভাগ্যচক্র দেখছিলাম। তুমি দীর্ঘ জীবন পাবে ও অনেক সম্মান অর্জন করবে।
বর্শা বাহক লাগাম উঠাল ও রাতের যাত্রা শুরু করল। গর্ব ও অহংকারে ভাষাহীন সে। এরই মধ্যে লর্ড টর্কের বাহিনীও ঘোড়ায় চড়ে বসেছে এবং রওয়ানা দিতে প্রস্তুত। যে ঘোড়াটায় গিল মন্দিরে ফিরেছে সে সেটা টাইটাকে দিয়েছে। টাইটা স্যাডেল ব্যাগ ঘোড়ার পিঠে ফেলল এবং ওটার পিছনে সে লাফ দিয়ে উঠল। হিকস্দের মিশরীয়দের ন্যায় দুদিকে পা ঝুলিয়ে বসতে দ্বিধা নেই এবং তারা গুহার প্রবেশ দ্বার দিয়ে বেড়িয়ে এল ও পশ্চিমে মোড় নিল, রথের সারি যে দিকটায় গেছে, তার উল্টো দিকে।
ভারি অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর মাঝ দিয়ে টাইটা চলছিল। টর্ক পথ দেখাচ্ছে এবং টাইটাকে তার পাশে চলার জন্যে সে কোন আমন্ত্রণ জানাল না। সে তাকে এড়িয়ে চলছে যেহেতু টাইটা তাকে নাজার সংবাদ দিতে সরাসরি মানা করেছে। টাইটা অবহেলিত হয়ে খুশিই হল কারণ এতে সে চিন্তা ভাবনার সময় পেল। সত্যিই নাজার দ্বৈত রক্ত খুব চমৎকার একটা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
পুরো রাত জুড়ে তারা পশ্চিমে নদীর দিকে চলল এবং প্রধান শত্রুর মূল ঘাঁটি রয়েছে বুবাসতিতে। যদিও এটা রাত তবুও রাস্তায় বার বার বিভিন্ন যানের সাথে তাদের দেখা হল। এগুলো ওয়াগন ও ঘোড়ার গাড়ি যা মিলিটারি অস্ত্রে ভরা, তারা যেদিকে চলছে ওগুলোও সেদিকেই যাচ্ছে। একই সংখ্যক যান আবার অ্যাভারিস ও মেমফিসের দিকে চলছে যারা অস্ত্র নামিয়ে দিয়ে এসেছে।
যখন তারা নদীর কাছাকাছি এল, টাইটা দূর থেকে বুবাসতির চারপাশে হিকদের ক্যাম্পের আগুন দেখতে পেল। মনে হচ্ছিল মিটমিট করে জ্বলা আলোর ভূমি ওটা যা নদী তীরের দুদিকে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। মানুষ ও প্রাণীর একটা বৃহৎ উপনগরী, যা অন্ধকারে দেখা গেল না।
একটা আর্মি ক্যাম্পের গন্ধের মতো আর কিছু পৃথিবীতে নেই। যখন তারা এগিয়ে গেল তা আরো জোরালো হল ও তাদের চেপে ধরল। অনেক গন্ধের মিশ্রণ, সৈন্য দলের গন্ধ, সার ও গোবরের, আগুনের ধোয়ার, চামড়া ও শুকনো খড়কুটার গন্ধ। তবে সবচাইতে বেশি ছিল অপরিচ্ছন্ন মানুষ ও তাদের কাচাঁ ঘা, খাবার, রান্নার ও মদের, পুঁতে না রাখা আবর্জনা ও ময়লা, মল ও গোবরের স্তূপ এবং তার চাইতেও বেশি ছিল না পুঁতে রাখা মৃতদেহের দূর্গন্ধ।
এই ভয়ংকর সব দুর্গন্ধ ছাড়িয়েও টাইটা আরো একটা অসুস্থ দূষণ বের করল। সে এটা চিনতে পারল এবং তখনি তা বুঝল যখন একজন অসুস্থ লোক তার ঘোড়ার সামনে মাতালের মত দুলতে লাগল, যা তাকে বাধ্য করল দ্রুত লাগাম টানতে। সে লোকটির চেহারায় বিবর্ণ লাল রঙের দাগ দেখতে পেল এবং নিশ্চিত হলো। এখন সে জানে কেন অদ্যাবধি অ্যাপেপি আবনাব জয় করে সামনে যেতে পারে নি, কেন সে এখনো তার রথ দক্ষিণে থেবসের দিকে পাঠায় নি যেখানে মিশরের সৈন্য অগোছালো হয়ে আছে এবং তার দয়ায় টিকে আছে। টাইটা তার ঘোড়াকে পাশে সরিয়ে টর্কের কাছাকাছি নিয়ে এল এবং শান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করল, আমার লর্ড, কখন আপনার সৈন্যদের প্রথম প্লেগ আক্রমণ করে।
টর্ক এতো জোরে লাগাম টানল যেন সে ভূত দেখার মত ভয় পেল। আপনাকে এ সব কে বলল, ওয়ারলক? সে জানতে চাইল। এটা কি আপনার যাদুর একটা অভিশাপ? আপনিই কি আমাদের উপর এই মারাত্মক ব্যাধি প্রয়োগ করেছেন? অস্বীকার করার সুযোগ না দিয়ে সে রাগে ঘোড়াকে লাথি মেরে চলে গেল। টাইটা দূরত্ব বজায় রেখে তাকে অনুসরণ করল, কিন্তু তার চোখ ব্যস্ত রইল চারপাশে কি ঘটছে তার প্রতিটি অবস্থা বোঝার জন্যে।
এরই মধ্যে আলো বাড়তে লাগল এবং দুর্বল ও কুয়াশাচ্ছন্ন সূর্যকে ঘন কুয়াশা ও বনের ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে উঁকি দিতে দেখা গেল যা সবকিছু আচ্ছন্ন করে সকালের আকাশকে ঢেকে রেখেছে। এতে একটা ভূতুড়ে অলৌকিক পরিবেশের সৃষ্টি হল যেন কোন পাতাল জগতের দৃশ্য এটা। মানুষ ও প্রাণীগুলো এর প্রভাবে অন্ধকারে পরিবর্তিত হয়ে গেল। যেন কোন নরক। শয়তানের দেহ এবং তাদের ঘোড়াগুলোর খুড়ের শূন্যে সাম্প্রতিক বন্যার কাদা কালো ও আঠালো মাটি এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছে।
