আরো ঘণ্টা খানেক সে পাহাড়ের পাশে কিছু খুঁজলো এবং অতি প্রাকৃতিক আর কোন গন্ধ চিহ্নিত করতে পারল না। সে নিচে নেমে এল এবং রথগুলোকে ওয়াদির নরম বালির উপর অপেক্ষারত দেখতে পেল। সে খাপটা তার এপ্রোনের শূন্যে লুকিয়ে ফেলল।
*
রাত নামা না পর্যন্ত তারা ওয়াদির মধ্যে লুকিয়ে রইল। তারপর হালকা ভাবে চাকা চলতে শুরু করল। ঘোড়াগুলোর খুরসমূহ চামড়ার আবরণ দিয়ে ঢাকা এবং খোলা অস্ত্রের আওয়াজ সতর্কতার সাথে চেপে রাখা হল। তারা হিকদের রাজ্যের গভীর দিয়ে চলছিল। গিল তাদের পথ দেখিয়ে চলল।
বর্শা বাহক জায়গাটা ভালোই চেনে এবং যদিও টাইটা কিছু বলল না, তবুও সে অবাক হল লোকটি তার প্রভুর সাথে কতো বার এই রাস্তায় চলেছিল এই ভেবে এবং শত্রুদের সাথে সাক্ষাত করতে তারা আবার কোন জায়গা ঠিক করেছে কে জানে।
এখন তারা নীলের পাললিক ভূমিতে। দুই বার তারা রাস্তায় মোড় নিয়েছে এবং যতক্ষণ না অস্ত্রে সজ্জিত লোকেরা নিকষ আঁধারে তাদের লুকানো স্থানটা অতিক্রম করে না যায় তাদের অপেক্ষা করতে হবে। মধ্য রাতের পর তার একটা অজানা প্রভুর মন্দিরে এসে পৌঁছল। যা একটা ফাঁকা পাহাড়ে গর্ত করে তৈরি করা হয়েছে। গুহাটা পুরো সেনাবাহিনী, যান, ঘোড়া ও মানুষ রাখার মত যথেষ্ট বড়। শীঘ্রই বোঝা গেল যে এই স্থানটা একই কাজে আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। ভাঙা বেদীর পিছনে প্রদীপ ও তেল রাখা এবং একটি কক্ষে ঘোড়ার খাবারও রাখা আছে। তারা ঘোড়ার হার্নেস খুলে তাদের খাওয়াল আর সৈন্যরা নিজেদের খাবার খেয়ে খড়ের বিছানা তৈরি করে শুয়ে পড়ল এবং শীঘ্রই নাক ডাকতে লাগল। ইতোমধ্যে গিল সৈন্যের পোশাক ছেড়ে একজন কৃষকের পোশাক পড়ে নিয়েছে। আমি কোন ঘোড়া ব্যবহার করবো না! সে টাইটাকে ব্যাখ্যা করল। এতে লোকের মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করবে। পায়ে হেঁটে আধা দিনেই আমি বুবাসতি ক্যাম্পে পৌঁছতে পারব। কাল বিকেলের আগে আমার ফেরার আশা করবেন না। বলেই সে পিছলে গুহা থেকে বের হয়ে অন্ধকারে হারিয়ে গেল।
সৎ গিল, যেমন তাকে মনে করেছিলাম ওরকম সে ভন্ড সৈন্য নয়, টাইটা ভাবল। সে লর্ড নাজার মিত্রদের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করল যা গিল তাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে।
সকাল হতেই সে একজন প্রহরীকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়োগ করল যেখান থেকে বাতাস পাতালের মন্দিরে বইছে। ঠিক দুপুরের আগে চূড়া থেকে একটা নিচু সংকেত তাদের বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করে দিল এবং টাইটা প্রহরীর সাথে চূড়ায় যোগ দিল। পূর্ব দিক থেকে একটা ভারি দল মাল বোঝাই গাধা নিয়ে সরাসরি মন্দিরের প্রবেশ মুখের দিকে এগিয়ে আসছে এবং টাইটা অনুমান করল এই দলটিই সম্ভবত গুহাটা ব্যবহার করে। এটা নিশ্চিত যে এরাই ঘোড়ার খাবার রেখে গেছে। সে হামাগুড়ি দিয়ে পাহাড়ের পাশে সরে যাত্রীদলের দৃষ্টির বাইরে চলে গেল। সে দ্রুত ইভিল পর্বতের অ্যাশেরিয়ান বই থেকে তিনটি মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে পথের মাঝে সাদা কোয়ার্টজ পাথরের একটা স্তূপ তৈরি করল। তারপর দলটি পৌঁছানোর অপেক্ষায় রইল।
প্রথম গাধাটি ৫০ কিউবিট দূরে অথবা সারি থেকে ততোখানি এগিয়েছিল। এটা পরিষ্কার যে প্রাণীগুলো মন্দির ও তার ভেতরের আনন্দের কথা জানে, আর তাই চালকের কাছ থেকে চলার জন্যে তার কোন উৎসাহের প্রয়োজন ছিল না। যখনই সাদা কোয়ার্টজ পাথরের স্তূপের সামনে প্রাণীটি এল তখন ওটা এমন ভয় পেয়ে সরে গেল যে একটা বস্তা তার পিঠ থেকে পিছলে পড়ে গেল ও তার পেটের শূন্যে ঝুলতে লাগল। সে চার পায়ে লাফাতে লাগল এবং একই সাথে চেঁচাতে লাগল। মন্দিরের বেশ দূর দিয়ে ওটা দৌড় দিল। তার উত্তেজনা সারির অন্য প্রাণীগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ল এবং তারাও চেঁচাতে লাগল এবং সীসার লাগামের বিরুদ্ধে মাথা বাঁকাল, চালককে লাথি মারল ও গোল হয়ে ঘুরতে লাগল যেন মৌমাছির দল তাদের আক্রমণ করেছে। এর ফলে প্রাণীদের পুনরায় ধরে একত্রিত করতে এবং শান্ত করতে ও মন্দিরের দিকে যাত্রা শুরু করতে দলটির দিনের বাকি সময় লেগে গেল। এবার একজন শক্ত ও সামর্থ্য প্রধান চালক সারির সামনে চলল ও বড় লাগাম দিয়ে অস্থির গাধাটাকে নিয়ে চলল। সে পথের মাঝখানে থাকা পাথরগুলো দেখে থামল। সারিটা তার পিছনে জমা হল এবং অন্য চালকেরা সামনে এল। তারা উচ্চ কণ্ঠে ও হাত উচিয়ে তৎক্ষণাৎ একটা আলোচনা করল। টাইটা পাহাড়ের পাশে লুকিয়ে সব শুনছিল।
অবশেষে প্রধান চালক অন্যদের রেখে সামনে একা এগিয়ে এল। প্রথমদিকে তার পদক্ষেপ দৃঢ় এবং নিশ্চিত দেখাল কিন্তু শীঘ্রই তা ধীর হল এবং শান্ত হয়ে গেল। সে দাঁড়িয়ে দূর থেকে পাথরের নকশাটা পরীক্ষা করতে লাগল। তারপর সে পাথরগুলোর উদ্দেশ্যে থুথু ছুঁড়ল এবং লাফ দিয়ে পিছনে সরে গেল। সে আশা করছিল তারা অপমানের জবাব ওটা দিবে। সবশেষে সে শয়তানের দৃষ্টির বিপরীতে চিহ্ন আঁকল এবং ঘুরে, হেলেদুলে বিজয়ী ভঙ্গিতে তার লোকদের নিকট ফিরে গেল। চিৎকার করে ও হাত নেড়ে তাদের পিছু সরালো। অন্যদের বুঝতে একটু সময় লাগল। তাড়াতাড়ি পুরো দলটি যে পথে এসেছিল সে পথে ফিরতে লাগল। টাইটা পাহাড় থেকে নেমে এল ও পাথরগুলোকে ছড়িয়ে দিল। তাদের প্রভাব নষ্ট করে দিল এবং অন্য যাত্রী যাদের অপেক্ষায় সে ছিল তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিল।
