গিল তাকে চিৎকার করতে শুনেছিল এবং সে রাস্তায় নেমে এল। সে টাইটাকে ধরে ফেলল এবং দাঁড়াতে সাহায্য করল। কী? কিসের ব্যথা? কী আপনাকে যন্ত্রণা দিল, আমার লর্ড?
টাইটা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। যাও! আমাকে ছাড়ো। তোমরা এখানে বিপদের মধ্যে আছে। এই জায়গাটা কোন মানুষের নয় বরং প্রভুদের অথবা শয়তানদের। যাও! আমার জন্যে পাহাড়ের শূন্যে গিয়ে অপেক্ষা কর।
গিল ইতস্তত করল, কিন্তু যখন সে ঐ জ্বলজ্বলে চোখগুলোর দিকে তাকাল এবং ভূত দেখার মতো কাছ থেকে সরে এল।
যাও! টাইটা বলল এবং এমন কণ্ঠে যা গিল দ্বিতীয় বার শুনতে চাইল না। দ্রুত পালাল সে।
তার চলে যাবার অনেকক্ষণ পর টাইটা তার দেহ ও মনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করল। তার বিরুদ্ধ শক্তির সাথে লড়াই করতে নিজেকে প্রস্তুত করল। কোমড়ে ঝুলানো ঝুলিটায় সে হাত দিল এবং লসট্রিসের দেওয়া মাদুলিটা বের করল। সে সামনে এগুলো, যখন সে ঠিক জায়গাটায় আবার এল ব্যথাটা তাকে আরো গভীরভাবে চেপে ধরল যেন একটা তীর তার বুকে বিঁধল এবং সে চিৎকার করে পারল না। তারপর যখন সে পিছু হটল ব্যথাটা আগের মতই চলে গেল।
হাঁপাতে হাঁপাতে সে পাথুরে ভূমির দিকে তাকাল। প্রথমে এতে কোন চিহ্ন দেখা গেল না এবং অন্যান্য অমসৃণ রাস্তার সাথে এর কোন পার্থক্যও নেই। তারপরই ছোট একটা বায়বীয় ছায়া মাটির উপর দেখা গেল। দেখতে দেখতে তা পরিবর্তিত হল, ঝকঝকে গাঢ় লাল বর্ণের একটি পুকুরে পরিণত হল। ধীরে ধীরে তার হাঁটু পর্যন্ত তাতে ডুবে গেল সে। একজন রাজা ও একজন প্রভুর হৃদয়ের রক্ত, সে ফিসফিস্ করে বলল। এখানে এই স্থানটিতে ফারাও ট্যামোস মারা গিয়েছেন।
সে নিজেকে তিরস্কার করল এবং শান্ত কিন্তু শক্ত কণ্ঠে হুরাসের নিকট প্রার্থনা করল, যা এতোটা শক্তিশালী যে একমাত্র কয়জন সপ্তম মাত্রার ক্ষমতাধারী ব্যক্তির কণ্ঠই তা শুধু পারে। সপ্তমবার মন্ত্র পাঠ করতেই সে অদৃশ্য পাখার আওয়াজ শুনল যা তার চারপাশের মরু বাতাসে ঘূর্ণি তুলল। প্রভু এখানে, সে ফিসফিস্ করে বলল এবং প্রার্থনা করতে শুরু করল। সে ফারাও, তার বন্ধুর জন্য প্রার্থনা করল। তার যন্ত্রণা ও শাস্তি লাঘবের জন্য হুরাসের নিকট প্রার্থনা করল। তাকে এই ভয়ংকর স্থান হতে মুক্ত হবার অনুমতি দিন, সে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল। তাকে এখানে আটকে রাখার অর্থ হবে তার আত্মাকে খুন করা।
প্রার্থনা করার মাঝেই সে শয়তান তাড়ানোর চিহ্ন আঁকল। তার চোখের সামনে রক্তের পুকুরটা কাঁপতে লাগল যেন শুকনো মাটি ওটাকে শুষে নিচ্ছে। যখন শেষ বিন্দু অদৃশ্য হল তখন টাইটা একটা নরম অসঙ্গত আওয়াজ শুনল। ঘুমন্ত বাচ্চার কান্নার মত এবং সেই সাথে দুঃখ ও হারানোর ভয়ংকর বোঝা যা তার উপর চেপে ছিল তা তার কাঁধ থেকে সরে গেল। তারপর যখন সে দাঁড়াল তখন মুক্তির এক অসীম আনন্দ সে উপভোগ করল। যেখানে রক্তের পুকুরটা ছিল সেদিকে সে এগিয়ে গেল। এমনকি যখন সে তার চটি পরা পা দুটো দৃঢ় ভাবে তার উপর নিয়ে দাঁড়ালো তখন কোন ব্যথা অনুভব হলো না এবং তার স্বস্তির অনুভূতিও নষ্ট হলো না।
শান্তিতে যাও, আমার বন্ধু এবং আমার রাজা, পরকালে অনন্ত জীবন পাও, সে জোরে বলল এবং অনন্ত জীবন ও সুখের চিহ্ন আঁকলো।
সে ফিরে চললো এবং যেখানে পাহাড়ের শূন্যে রথগুলো অপেক্ষা করছিল সেদিকে যখন ফিরছিল তখন রাস্তায় কোন একটা কিছু তাকে রুখে দিল। সে তার মাথা উঠালো এবং আবার বাতাসের স্বাদ নিল। এখনও শয়তানের ক্ষীণ একটা গন্ধ বাতাসে আছে, শুধুমাত্র ওটার পলায়নপর একটা চিহ্ন। চিন্তিত ভাবে সে খাঁজের কাছটায় পৌঁছল, ফারাও যেখানে মারা গিয়েছেন সে স্থান অতিক্রম করলো এবং এগিয়ে চলল। প্রতি কদমে অশুভ গন্ধটা আরো শক্তিশালী হলো যততক্ষণ না এটা তার কণ্ঠে ধরল এবং তার বমি আসতে লাগল। আরো একবার সে বুঝল এ প্রকৃতির নিয়মের বাইরের কোন কিছু। সে চলতে লাগল এবং বিশ কদমের মতো যাওয়ার পর গন্ধটা ক্ষীণ হতে শুরু করল। সে থামল এবং ফিরে এল। সাথে সাথেই গন্ধটা আবার তীব্র হল। এবার সে আগ-পিছ করল যতোক্ষণ না ওটা সর্বোচ্চ পরিমাপে তীব্র হল। সে পথের মধ্যে থামলো এবং দেখলো তা এখনও শক্তিশালী, প্রায় দম বন্ধ করার মতো। যে একটা কণ্টক বৃক্ষের প্যাচানো ডালের নিচে দাঁড়াল যা রাস্তার উপর জন্মেছিল। সে উপরে তাকাল এবং দেখল শাখাগুলোর আকৃতি অদ্ভুত, যেন কোন মানুষের হাত আলাদাভাবে তাদের আড়াআড়ি ভাজে রাখা–যা নীল আকাশের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে। সে নিচে তাকাল এবং ঘোড়ার মাথাকৃতির একটি পাথর তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। কিছুদিন আগে এটা সরানো হয়েছিল এবং আবার আগের অবস্থানে তা রাখা হয়েছে। টাইটা পাথরটা সরালো। এবং দেখলো এটি গাছের শিকড়ের মধ্যকার একটা গোপন গর্তকে ঢেকে রেখেছে। সে পাথরটা একপাশে সরিয়ে ভেতরে উঁকি মারল। তার ভেতরে কিছু একটা ছিল এবং সে এঁকে বেঁকে বস্তুটার কাছে পৌঁছলো যা একটা সাপ বা বিচ্ছু রাখার মত খাপ। খুব সুন্দর একটা চিত্র ও নকশা আঁকা বস্তু সে বের করে আনলো। এটা যে। একটা তীরের খাপ তা বোঝার আগ পর্যন্ত সে বস্তুটির দিকে মুহূর্তের জন্য তাকিয়ে রইল। এর প্রকৃতি সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই কারণ এটার নকশা হিকসোসাইনদের মতন এবং তাতে সেথের ছবি আঁকা, যুদ্ধের কুমির দেবতা যা হিকস্ যোদ্ধা কর্তৃক ভক্তিরত। টাইটা মোচর দিয়ে তা খুলল এবং দেখল খাপটির মধ্যে যুদ্ধের ছয়টা তীর রাখা যাতে সবুজ ও লাল পালক লাগানো। সে একটা ফলা বের করে আনল এবং তা চেনা মাত্রই তার হৃদপিণ্ড হিংস্রভাবে স্পন্দিত হতে লাগল। কোন ভুল নেই। সে খুব ভালো করে ভাঙ্গা ও রক্তে ঢাকা এর একটা পরীক্ষা করেছে। যেটা নাজা কাউন্সিলের সামনে দিয়েছিল। যে তীরটা ফারাওকে মেরেছিল এটা ওটার মতই। সে এটাকে আলোর মধ্যে ধরল এবং নিখুঁতভাবে ফলার উপর সীলমোহর খুঁজল। এটা একটা সিংহের মাথা যার চোয়ালের মধ্যে ঐতিহ্যগত চিহ্ন টি ধারণ করে আছে। সে এই চিহ্ন ধবংসাত্মক তীরটির মধ্যেও দেখেছে। দুটো একই তীর। হাতের মধ্যে নিয়ে তীরটাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সে দেখলো যেন শেষ তথ্যটুকু সে নিতে চাইল। নাকের সামনে সে তীরটা ধরল এবং যুঁকলো। ওখানে শুধু কাঠ, রং ও পালকের ঘ্রাণ। যে দুর্গন্ধ তাকে এখানে নিয়ে এসেছিল ওটা চলে গেছে। ফারাও এর গুপ্ত ঘাতকের এই খাপটা কেন লুকানোর প্রয়োজন হল? যুদ্ধের শেষে হিকা এটা ময়দানে ফেলে যেতে পারত। তাদের অস্ত্র কুড়িয়ে নেওয়ার জন্যে যথেষ্ট সময় ছিল। এটা খুব সুন্দর ও মূল্যবান বস্তু, কোন যোদ্ধাই এটি ত্যাগ করবে না যদি না সে বাধ্য হয়, টাইটা ভাবল।
